বিজ্ঞাপন

বিশ্বে পুরুষদের বিভিন্ন উদ্ভাবন বা আবিষ্কার নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়, নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক ততটা নয়। নারীদের অবদানকে কিছুটা খাটো করে দেখার প্রবণতাও দেখা গেছে নানা সময়ে। কিন্তু নারীদের এমন কিছু উদ্ভাবন আছে, যেগুলো দৈনন্দিন জীবনে যেমন কাজে এসেছে, তেমনি অনেকের জীবনও বাঁচিয়েছে। তবে নারী উদ্ভাবকের নাম পাদপ্রদীপের আলোয় আসেনি ততটা।

কেভলার

default-image

স্টেফানি লুইজ ফোয়েক ছিলেন একজন রসায়নবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের উইলমিংটনের একটি গবেষণাগারে তিনি কাজ করতেন। কেভলার নামে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ওজনে হালকা সিনথেটিক ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু উদ্ভাবন করেছিলেন স্টেফানি। ১৯৬৬ সালে এই উদ্ভাবন পেটেন্ট করেছিলেন তিনি।

কেভলার মূলত ব্যবহার করা হয় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরির ক্ষেত্রে। এ ছাড়া সুরক্ষামূলক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় কেভলার। ১৯৭০-এর দশক থেকে অ্যাসবেসটসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি।

খাওয়ানোর নল

default-image

বেসি ভার্জিনিয়া ব্লন্ট ছিলেন একজন মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মী। সেবিকা হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তাই হয়তো অসুস্থ ব্যক্তিদের সমস্যা সবচেয়ে ভালো বুঝেছিলেন তিনি। ১৯৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি কর্মরত ছিলেন। সেখানে ভর্তি যুদ্ধাহতদের তিনি দেখভাল করতেন। ওই সময়েই যেসব রোগী মুখ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারতেন না, তাঁদের জন্য খাবার খাওয়ার বিশেষ নল বা ‘ফিডিং টিউব’ উদ্ভাবন করেছিলেন বেসি ভার্জিনিয়া ব্লন্ট। কৃষ্ণাঙ্গ এই নারী বেসি ব্লন্ট গ্রিফিন নামেও পরিচিত ছিলেন।

১৯৪৮ সালে এই উদ্ভাবনের পেটেন্টও নিয়েছিলেন তিনি। পরে সেটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন ফরাসি সরকারকে। এই উদ্ভাবন পরে আরও উন্নত করা হয়। বর্তমানে যেসব রোগী মুখে খেতে পারেন না, তাঁদের এই ফিডিং টিউব দিয়ে নাক দিয়ে বা সরাসরি পাকস্থলীতে খাবার পাঠানো হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, হিস্ট্রি ডটকম, সায়েন্স হিস্টরি ডটঅরগ, ডুপন্ট ডটকম ও লেমেলসন ডটএমআইটি ডটএডু

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন