default-image

নিজেদের তৈরি পণ্য অনলাইনে বাজারজাত করতে পথ দেখাচ্ছেন প্রভাষক শিউলী বেগম। তিনি গড়ে তুলেছেন সৈয়দপুর ওমেন্স ই-কমার্স ফোরাম নামে একটি অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তিনি পিছিয়ে পড়া ৫০ জন নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন।

শিউলী বেগমের বাড়ি সৈয়দপুরের নয়াটোলায়। তিনি বলেন, নারীরা সমাজের মূলধারায় নিজেদের যুক্ত করতে পারছেন, হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা। এটা বেশ ভালো কথা। শিউলী নিজের বাসায় ডেকে এনে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের শেখাচ্ছেন নানা রকম কুটিরশিল্পের কাজ।

গত ৩ বছরে ৫০ জন নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন শিউলী বেগমের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে। তাঁরা এখন তৈরি করছেন ভ্যানিটি ব্যাগ, ফুল, ওয়ালম্যাট, পাপোশ, ক্রুশকাঠির কাজ করা পোশাক। স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা।

বিজ্ঞাপন

নারীদের তৈরি ওই পণ্যগুলো জনপ্রিয় করে তুলতে ইতিমধ্যে সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে দুটি মেলার আয়োজন করেছেন শিউলী বেগম। জানালেন, সারা দেশ থেকে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। পরে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গন্তব্যে। নিজেদের তৈরি পণ্য থেকে ৫–১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তাঁরা।

শিউলী বেগমের সঙ্গে কাজ করছেন শহরের মুন্সিপাড়ার তামান্না ইয়াসমিন। তিনি বিভিন্ন রকম পোশাক তৈরি করে থাকেন। তামান্না জানান, ‘আগে বেকার ছিলাম। কোনো কিছুই জানতাম না। কাজ শিখে এখন অনেক অর্ডার পাচ্ছি।’

নতুন বাবুপাড়ার কাকলী খাতুন তৈরি করেন ক্রুশকাঠির নানা পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে টেবিলক্লথ, বিছানার চাদর, কটি ইত্যাদি। নিপুণ তাঁর হাতের কাজ। এসব বিক্রি করে মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

নয়াটোলা মহল্লার চাঁদনী বেগম তৈরি করেন পাপোশ। ঘরে ঘরে ওই পাপোশের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ নিয়ে কথা বলেন শিউলী বেগম। তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া নারীরা কাজ করে স্বাবলম্বী হবেন, এটাই আমার স্বপ্ন।’

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে এগিয়ে আসুক, এটা আমরাও চাই।’ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এসব নারীকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন
নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন