রিজভানা হৃদিতা
রিজভানা হৃদিতা

মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে যেমন রোগ নির্ণয় করা হয়, দেওয়া হয় ব্যবস্থাপত্র। তেমনি হাইড্রোকুপ্লাস পানির গুণগত মান বিশ্লেষণ করে তথ্য দেয়, কাজ করে পানির অপচয় রোধে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘হাইড্রোকুপ্লাস’ যে কাজটা করে, সেই কারিগরি বিষয়টিই সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলছিলেন রিজভানা হৃদিতা। হাইড্রোকুপ্লাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। এ প্রতিষ্ঠানের জন্যই ফোর্বস সাময়িকীর করা ২০২১ সালের এশিয়ার সেরা ৩০০ তরুণের একজন হৃদিতা। তাঁর সঙ্গে সামাজিক প্রভাবশ্রেণির সে তালিকায় আছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জাহিন রোহান। হৃদিতা–রোহান সম্পর্কে ভাইবোন।

‘সাধারণভাবে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করতে বোতলে করে ল্যাবে যেতে হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্যারামিটার টেস্ট করতে এক-দুই সপ্তাহ সময় লাগে। হাইড্রোকুপ্লাস সেখানে এক মিনিটের কম সময়ে ফল জানিয়ে দেয়।’ নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে যোগ করেন রিজভানা হৃদিতা।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৮ সালে ছোট ভাই জাহিন রোহানের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্যোগে শামিল হয়েছিলেন হৃদিতা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন বিষয়াদি দেখভাল করেন। শুরুর সময়ের কথা বলতে গিয়ে হৃদিতা জানালেন, জাহিন তখন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর ছাত্র। স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার অংশ হিসেবেই নিরাপদ পানি নিয়ে কাজ দেশে করছিলেন তিনি। হাইড্রোকুপ্লাস নিয়ে রীতিমতো বুঁদ হয়ে পড়েছিলেন শেষ সেমিস্টারে। এদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে হাইড্রোকুপ্লাসের কাজ, দিশেহারা ছোট ভাইকে সহযোগিতা করতেই যুক্ত হন হৃদিতা। তাঁর হাত ধরেই পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়। এরপর তাঁরা কাজ করেছেন বেসরকারি কিছু সংস্থার সঙ্গে। এখন ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে কাজ করছে হাইড্রোকুপ্লাস।

দেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা রিজভানা হৃদিতা কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। ফাইন্যান্সে স্নাতক শেষে কানাডার আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিলেন, কানাডায় এখনো ফেরা হয়নি। হাইড্রোকুপ্লাসের পাশাপাশি ‘লিংউইং’ নামের একটি শিক্ষামূলক উদ্যোগ আছে হৃদিতার। এ প্রযুক্তি দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজিতে বলা ও লিখতে পারদর্শী হয়ে ওঠা যায়।

হাইড্রোকুপ্লাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে হৃদিতা বলছিলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিরাপদ পানির এ দুষ্প্রাপ্যতা রোধে কাজ করতে চায় হাইড্রোকুপ্লাস।

এ জন্য দুই ভাইবোন জোরসে কাজ করে চলেছেন। চেষ্টা করছেন মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে এমন একটা ওয়াটার আর্কিটেকচার তৈরি করার, যা ব্যবহার করে পানি বিশেষজ্ঞ, পানি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মানুষসহ নবীন উদ্ভাবকেরা সমাধানের পথ খুঁজে নেবেন। তাঁদের হাত ধরেই দূর হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপদ পানির সমস্যা।

বিজ্ঞাপন
নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন