বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পারভীন আক্তার ছোটবেলায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁর বাড়ি কোথায়, মা–বাবা কে, কোনো কিছুই জানা নেই। পারভীনের ভাষায়, ‘রাস্তায় লাথি, উষ্টা খাইয়্যা খাইয়্যা এই পর্যন্ত আসছি।’ চকলেট বিক্রি, রাস্তায় ইটের টুকরা কুড়িয়ে বিক্রি করাসহ কত ধরনের কাজ যে করেছেন, তার কোনো হিসাব নেই। বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে থাকার একটি ঘর পেয়েছেন। তবে পারভীনের ঠিকানা নেই বলে স্বামীও সুযোগ পেলে কথা শুনিয়ে দেন। স্বামী অশান্তিও করেন। মাঝে মাঝে পুলিশ রিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়। পারভীন বললেন, ‘আমি মহিলা মানুষ। চাকার হাওয়া ছাইড়া দিলে এই রিকশা টাইন্যা নিতে কী যে কষ্ট করতে হয়।’

রাস্তায় চলাচলের অভিজ্ঞতাও শোনান পারভীন। একদিন একজন বাইকচালকের বাইকে একটু রিকশা লেগে যাওয়ায় ওই বাইকচালক রাস্তার মধ্যেই তাঁকে চড় মারতে থাকেন। তবে অন্য পুরুষ রিকশাচালকেরা পারতপক্ষে তেমন খারাপ কথা বলেন না বলেও জানালেন।

পারভীন আক্তার থাকেন সিপাহিবাগে আজিজ মিয়ার বস্তিতে। তাঁর দুঃখ একটাই, দৈনিক ৩০০ টাকা মহাজন বা মালিককে দিতেই হবে। এ টাকা দিতে না হলে বাড়ি ফেরার সময় ছেলেমেয়ের জন্য হয়তো প্রতিদিন না হলেও দুই দিন পরপর হলেও মাছ-মাংস কিনে নিতে পারতেন।

টাকাপয়সা জমিয়েছেন কি না, প্রশ্ন করলে আবার হাসলেন পারভীন। বললেন, ‘কিছুই জমাইতে পারি নাই। যা কামাই করি তা দিয়া ঘরভাড়া, খাওন খরচ দেওনের পর আর তো কিছু থাকে না। বুঝেন না, মহিলা মানুষ হইয়্যাও রিকশা চালাই, কম যন্ত্রণায় তো আর এই পথে নামি নাই। গার্মেন্টস বা বাসাবাড়ির কাজে গেলে বাচ্চা দেখব কে? তাই রিকশা চালাই। যখন সময় পাই বাড়ি গিয়া রাইন্দা বাইড়া আবার বাইর হই। ভোরে ভাত, ডাইল আর আলুভর্তা কইরা বাইর হইছি।’

কথা বলতে বলতেই মাথার ক্যাপ বা টুপিটা ঠিক করে নিলেন। যাত্রী নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন