বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এ এইচ এম তাসলিমা আক্তার বলেন, পোলট্রি খাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি জাতীয় পর্যায়ে থাকা উচিত। সরকারের পোলট্রি নীতি, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে নারীদের তুলে ধরে কিছু বলা নেই। এসব অস্বীকৃতি তাদের অবদানকে অস্বীকার করারই নামান্তর।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ২০৫৭ দশমিক ৬৪ কোটি। এর আগের অর্থবছরেই ডিমের উৎপাদন ৩০০ কোটির কম ছিল। করোনাকালে দেশে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিম প্রাপ্যতার সংখ্যাও প্রতিবছর বাড়ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জনপ্রতি বছরে ডিম লাগত ৯২ দশমিক ৭৫টি। ২০২০-২১ অর্থবছরে এটি দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ১৮টি।

তাসলিমা আক্তার বলেন, পোলট্রি খাতের এই উন্নয়নে নারীদের বড় অবদান আছে। কিছু বড় খামারি বাদ দিলে ৮০ হাজারের বেশি খামারে ১ হাজার থেকে ৩ হাজারের নিচে মুরগির পালন করা হয়। এখানে নারীরাই বেশি। এক হাজারের নিচে মুরগি আছে, তারা নিবন্ধিত খামারি নন। সেই সুযোগও নেই।

২০১৯ সালে ‘পার্টিসিপেশন অব উইমেন ইন কমার্শিয়াল পোলট্রি ফার্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জরিপে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশ খামারের আকারই ছোট। অর্থাৎ, এক হাজারের কম মুরগি। আর ৪৫ শতাংশ মাঝারি। বাকিগুলো বড়। আর ছোট ও মাঝারি খামারিদের মধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ খামারির। ৪৭ শতাংশ খামারই গড়ে উঠেছে অন্যের জমিতে। বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের ‍সহায়তায় উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) এ জরিপ করে দেশের চার উপজেলায়। সেগুলো হলো চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, রংপুর সদর, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়।

পোলট্রি খাতের নানা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। ওই জরিপেই দেখা যায়, খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে ৮৭, পানি খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ৭০ ভাগ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে ৯৬ শতাংশ কাজই নারীদের করতে হয়।

এত কিছু করার পরও, ঋণপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে নারীদের প্রতি বৈষম্য প্রবল বলে মনে করেন বিপিআইসিসির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও আফতাব বহুমুখী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান। তিনি বলেন, ‘পোলট্রি খাতের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিক বিকাশে বিরাট অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু তাঁদের সেই অবদান স্বীকৃত নয়। পোলট্রি তাদের স্বাবলম্বী করে।’

সরকারি স্তরে ঋণ পেতে অসুবিধা হলেও বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণে এসব ছোট আকারের খামারি নারী প্রাধান্য পান বলে দাবি বেসরকারি সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রাসেল আহম্মেদের। তিনি বলেন, ‘করোনাকালে আমরা যেসব খামারিকে ঋণ দিয়েছি, তাঁদের মধ্যে নারীরা প্রাধান্য পেয়েছেন। ’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, ‘পোলট্রি খাতে নারীদের অবদান অসামান্য। কিন্তু তাঁদের ছোট খামারের নিবন্ধনসহ বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। আমরা আমাদের কাজে সে বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন