default-image

এই প্রজন্মের ইংলিশ কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার ডুয়া লিপা। তিনি পরেন ফ্রান্সের খ্যাতনামা এক ফ্যাশন হাউসের পোশাক। গত বছরের নভেম্বরে লন্ডনের একটি শোর জন্য আগে থেকে পাঠানো নকশা থেকে একটি পোশাক পছন্দ করে তাঁর স্টাইলিং দল। সেই মতো পোশাক তৈরি করে প্যারিস থেকে লন্ডনে পাঠিয়ে ফিটিং দেখা হয়। জুমে পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করা হয় প্যারিস থেকে। তারপর মূল পোশাক পাঠানো হয় লন্ডনে। কিন্তু শোয়ের আগের দিন ডুয়ার স্টাইলিস্ট জানান, পরার সময় এক জায়গায় ছিঁড়ে গেছে। ফলে ঠিক করে দিতে হবে। এই অবস্থায় প্যারিস থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া করে একজনকে এক টুকরা কাপড় দিয়ে পাঠানো হয় লন্ডনে। সেখানে পোশাক মেরামত করে দেওয়া হয়। আর সেই পোশাক পরে মঞ্চ মাতান লিপা।

এভাবেই তারকাদের মন রাখা হয় ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে। আর এই চাপ সামলান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যোগাযোগ দলের সদস্যরা। ডুয়া লিপা ও তাঁর দলের সঙ্গে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ রেখে পুরো বিষয়টি সুচারুভাবে যিনি সামলেছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি—আইদা মেহনাজ।

বিজ্ঞাপন

আইদা এক বছর আগে প্যারিসের ফ্যাশন স্কুল এসমদ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন অ্যান্ড লাক্সারি ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর বিশেষায়িত পড়াশোনা করেছেন ব্র্যান্ড যোগাযোগ বা কমিউনিকেশনে। ২০১৯ সালে পাস করেই তিনি থিয়েরি মুগলার নামের এই বিখ্যাত ফ্যাশন হাউসে যোগ দেন। প্রাথমিকভাবে এটা ছিল তাঁর শেষ বর্ষের ছয় মাসের শিক্ষানবিশি। তবে এই প্রতিষ্ঠান তাঁকে ছাড়েনি, বরং তিনি জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। টানা এক বছরের দক্ষতায় মন জয় করে নেওয়ায় নতুন বছরে আইদার পদোন্নতি হয়েছে। তিনি এখন সিনিয়র ব্র্যান্ড ইমেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কোঅর্ডিনেটর।

বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার থিয়েরি মুগলার নিজের নামেই এই ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন গত শতকের সত্তর দশকে। পরে অবশ্য এই ব্র্যান্ডের মালিকানার একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। প্রথম এটা কেনে স্কিনকেয়ার, পারফিউম ও কসমেটিক কোম্পানি ক্লারেন্স। আর এই প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি হারায় মুগলার। যাহোক, গত বছরের জানুয়ারি মাসে পুনরায় হাতবদল হয়ে এটা চলে আসে আরেক বিখ্যাত প্রসাধন ও সুগন্ধি কোম্পানি ল’রিয়েলের হাতে। হাতবদলের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকেছেন মেহনাজ। গেল সপ্তাহে ঢাকায় এপিলিয়ন গ্রুপের কার্যালয় নিনাকাব্যে বসে কথা হয় আইদার সঙ্গে।

default-image

১৯৯২ সালে বাজারে আসা অ্যাঞ্জেল এবং এরপরে আসা এলিয়েন—সুগন্ধি দুটি মুগলারকে সুগন্ধি ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করে। কিন্তু গত এক বছরে সেই অবস্থানের পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন মেহনাজ। এখন তারা ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে নতুন করে জায়গাও করে নিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চলমান মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালে ২০টি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সাময়িকীর প্রচ্ছদে এসেছে মুগলারের পোশাক। গেল বছর এমটিভি ভিডিও অ্যাওয়ার্ডে সেরা দশে থাকা তিন শিল্পী—ডুয়া লিপা, কার্ডি বি আর বিয়ন্সে পরেন তাদের পোশাক। মুগলারকে ফ্যাশনের প্রত্যাবর্তনকারী ব্র্যান্ড এবং আলটিমেট পপস্টার ব্র্যান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভোগ সাময়িকী। পপ তারকাদের বাইরে তিনি কাজ করে থাকেন বেলা হাদিদ আর ডেবরা শর মতো সুপার মডেলদের সঙ্গেও।

বিজ্ঞাপন

এসব ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা আছে মেহনাজের, যিনি মূলত প্রাণরসায়নের ছাত্রী হয়েও পড়েছেন ফ্যাশন কমিউনিকেশন নিয়ে। ফ্যাশন ডিজাইন না পড়ে তিনি বরং ফ্যাশনে থাকতে চেয়েছেন এভাবেই। ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই তিনি ফ্যাশন নিয়ে অ্যাডভোকেসি করা শুরু করেন। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করেছে তাঁর সঙ্গে। পরে ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া ফ্যাশন উইকে তিনি আমন্ত্রিত হন বক্তা হিসেবে। সম্প্রতি মডেস্ট ফাশন কাউন্সিল তাঁকে রিজিওনাল ডিরেক্টর মনোনীত করেছে।

মুগলারে যোগ দেওয়ার আগে ইন্টার্ন হিসেবে বালমেঁ, ইসাবেলা মারান্ত, ভ্যালেন্তিনো, গুচি ও রিক ওয়েন্সের মতো একাধিক ফ্যাশন ও কসমেটিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশে ফ্যাশন কমিউনিকেশন পড়ানো হয় না। নেই শেখার সুযোগ। এই বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন মেহনাজ। প্যারিসে পড়তে যাওয়ার আগে এ ক্ষেত্রে কিছুদিন কাজ করেন দেশি ফ্যাশন হাউস সেইলরে, যেটা এসমদে ভর্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য করুন