বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ধর্ষকেরা এখন ধর্ষণের পর ভিকটিমকে ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখতে পারে রেহাই পাওয়ার জন্য। আর থানাগুলো ধর্ষণের মামলা নিতে আরও অনীহা প্রকাশ করতে পারে। শুধু মেডিকেল রিপোর্টই ধর্ষণ মামলার বিচারের একমাত্র সাক্ষ্যপ্রমাণ নয়। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে, শুধু ভিকটিমের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেও বিচার করা যাবে। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতেও বিচার করা যাবে। বিচারক তাঁর মন্তব্যে সীমা লঙ্ঘন করেছেন। আমাদের সমাজে নারীকে অসম্মান করার যে মানসিকতা আছে, বিচারক তাঁর মন্তব্যে সেটাই করেছেন। একজন যৌনকর্মীও ধর্ষণের শিকার হতে পারেন, মেয়েকে তাঁর বয়ফ্রেন্ডও ধর্ষণ করতে পারেন। ধর্ষণ বিষয়টি বুঝতে হবে। আমাদের দেশে নারীরাও যে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের হতে পারে, এই বিচারক তাঁর প্রমাণ দিলেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাঁকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে।

একজন নারী সহিংসতার শিকার হওয়ার পর মুখ খোলার অর্থ হচ্ছে, তিনি সেই সহিংস পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছেন৷ তখন সমাজের সবার উচিত, তিনি যাতে তাঁর কথা বলতে পারেন, সে রকম নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং তাঁর কথা শোনা৷ এ ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার নারীর পোশাক, যৌন পরিচয় বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নিয়ে কথা বলার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার চেষ্টার বিপরীতে অবস্থান নিতে হবে।

লেখক: একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন