default-image

‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি মেয়ের সাফল্য’ শিরোনামে ছোট একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল ‘নারীমঞ্চ’ পাতায়। ৫ আগস্ট প্রকাশিত সেই খবরের সূত্র ধরে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আমার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল। মেয়ের বিয়ে নিয়ে সেভাবে ভাবারই সুযোগ পেলাম না আমরা। ধন্যবাদ প্রথম আলোর নারীমঞ্চকে।

শিক্ষকতা করার সুবাদে দু-একবার নিজে প্রথম আলোতে লেখার সুযোগ পেয়েছি।আর একজন সচেতন নারী হিসেবে নারীমঞ্চের পাতাটির সঙ্গে সখ্য, সে তো বহু বছরের।তবে এ পত্রিকা বা পত্রিকার একটি পৃষ্ঠা আমাদের পরিবারের সঙ্গে এভাবে জড়িয়ে যাবে, তা কখনো ভাবিনি।

বিজ্ঞাপন

আমার যমজ কন্যাদের একজন শতাব্দী দাস।সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম টেকে (তড়িৎ প্রকৌশল) প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।শুধু তা–ই নয়, বাংলাদেশের ছাত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ বিভাগে প্রথম সর্বোচ্চ নম্বর ৯.৮ পেয়ে রেকর্ড গড়ে।শতাব্দীর সাফল্যের খবরটি ছাপা হয় কলকাতা থেকে দেশে আসার সাত দিনের মাথায়।

প্রথম আলোর খবরটি চোখে পড়ে ছেলেপক্ষের।পরিবারটি ছেলের বউ হিসেবে একজন মেধাবী মেয়ে খুঁজছিল।খবরে আমার নাম–পরিচয় দেওয়া ছিল।ছেলেপক্ষ যে ভবনে থাকে, সেখানকার একটি ফ্ল্যাটেই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক থাকেন।ছেলেপক্ষ ওই শিক্ষকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠায়।তারপর দুই পরিবারেরই ছেলে ও মেয়েকে পছন্দ হয়।ছেলে আর মেয়েও দুজন দুজনকে পছন্দ করে।তারপর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে আমার মেয়ে শতাব্দী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অস্ট্রেলিয়াতে স্বামী অর্ণব রায়ের সঙ্গে অবস্থান করছে।জামাই সেখানে এক কোম্পানির সিনিয়র আইটি ইঞ্জিনিয়ার।এই সবকিছুর জন্য আমি প্রথম আলোর নারীমঞ্চকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

লেখক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।

মন্তব্য পড়ুন 0