বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোর্শেদা জানান, নানারকম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাতবিরাতে কর্মস্থলে নিরাপদ প্রসব করিয়ে মায়েদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। তাঁর কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য এবং নিজের রাখা হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তাঁর বিভিন্ন কর্মস্থলে ৫ হাজার ২২০ মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন মোর্শেদা। ১৭ অক্টোবর বালুচর গ্রামের মাকসুদা বেগমের (২২) নিরাপদ সন্তান প্রসবের মাধ্যমে এই সংখ্যা পূর্ণ হয়।

মোর্শেদা বলেন, ‘করোনাকালের শুরুতে ভয়ে অনেক মা-ই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতেন না। তাঁদের বুঝিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে প্রসব করিয়েছি। গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৫ জন মায়ের স্বাভাবিক প্রসবসেবা দিয়েছি। প্রতি মাসে আমার হাতে ১৫-১৬টি স্বাভাবিক প্রসব হয়। কারও জটিলতা থাকলে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। মায়েদের কাছে মুঠোফোন নম্বর দিয়ে রাখি, যাতে তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।’

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রতি মোর্শেদার পরামর্শ, নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব হলে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর হার অনেক কমবে। এ কারণেই স্বাভাবিক প্রসবের ওপর মনোযোগ বাড়ানো দরকার।

‘প্রসব করানোর বিনিময়ে কারও কাছ থেকে কিছুই নিই না। অনেক গরিব মাকে যাতায়াত ভাড়াও দিয়েছি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে নিজের টাকায় মোমবাতি, হারিকেনের কেরোসিন তেল কিনেছি। তবে কেউ মিষ্টিমুখ করাতে চাইলে না করিনি।’ বললেন মোর্শেদা।

মোর্শেদা আক্তার সম্পর্কে ফরাজীকান্দি গ্রামের মাকসুদা বেগম ও সর্দারকান্দি গ্রামের শিখা সেলিম জানালেন তাঁদের সন্তুষ্টির কথা। এই ‘ভিজিটর’ আপার দক্ষতায় স্বাভাবিক প্রসবে তাঁদের সন্তান হয়েছে। প্রসবের পর সন্তানসহ তাঁরা সুস্থ আছেন, এটাই বড় কথা।

মোর্শেদার সহকর্মী ফরাজীকান্দি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ সহকারী খোদেজা আক্তার বললেন, হাতের কাজ ভালো থাকায় পাশের ইউনিয়নগুলোর মায়েরাও নিরাপদ প্রসবের জন্য তাঁর কাছে ছুটছেন। তাঁর হাতে একজন মায়েরও মৃত্যু হয়নি।

মোর্শেদা আক্তার পাঁচ হাজারের বেশি মায়ের নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে অনন্য মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছেন। এটি বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি মায়েদের ভরসার প্রতীক। এমন কথা মতলব উত্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আ তা ম বোরহান উদ্দিনের।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন