default-image

ছবিটা এমন—সারি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন আলোকচিত্রীরা। সেই সারির এক পাশে নারী আলোকচিত্র সাংবাদিক। সবার সঙ্গে মোটামুটি ‘যুদ্ধ’ করেই তাঁকে ছবি তুলতে হবে, যা তাঁর কাজের অংশ। ঢাকার পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা শূন্য’ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে নারীর অভিজ্ঞতা, কাজ ও জীবন নিয়ে এক আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভার শুরুতেই আলোকচিত্রী ও দৃকের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নারী আলোকচিত্রীদের কাজ করার এই ছবিটি দেখান। এ ছবিতে বোঝা যায়, কীভাবে নারীদের যুদ্ধ করে সাংবাদিকতা করতে হয়। বিশেষ করে একজন ফটোসাংবাদিককে।

পাঠশালার ছাত্রী সাদিয়া মরিয়ামের কথাতেও তা উঠে আসে। জনসমাগম বেশি কিংবা এই শহরের ব্যস্ত রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোজ কাজ করতে হয় নারী আলোকচিত্রীদের। সাদিয়া বলেন, ‘আমি প্রথমে আলোকচিত্র সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম। একটি পত্রিকায় দুই বছর কাজ করেছি। সাংবাদিকতায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যা আমার শিল্পচর্চায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের জানার আগ্রহের জায়গা অসীম, তাই সাংবাদিকতা ছেড়ে দিই।’

এই আয়োজন শুরু হয়েছিল প্রয়াত খ্যাতিমান আলোকচিত্রী সায়েদা খানম এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে স্মরণ করে। তাঁদের পথ অনুসরণ করে দেশের অনেক নারী আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের পেশাজীবন গড়ে তুলেছেন। তাঁরা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তুলেছেন ধীরে ধীরে।

১২ বছর ধরে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন–এ কাজ করছেন জয়িতা রায়। সব ছবি ছাপা না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হতে ‘স্পট নিউজ’ করতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। জয়িতা বললেন, ‘সব সময়ই পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় আমাদের।’

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক সাবিনা ইয়াসমিনের কথায় উঠে আসে নারী আলোকচিত্রীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি। সাবিনা বলেন, ‘অনেকেই ভালোবেসে এই পেশায় কাজ করছিলেন। করোনাকালে অনেকে চাকরি হারিয়ে অনলাইন ব্যবসা করছেন।’ নারী আলোকচিত্রীদের ঝরে যাওয়ার বড় কারণ পারিবারিক চাপ, কর্মনিরাপত্তাহীনতা ও মাতৃত্ব বলে মনে করেন তিনি।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনার পরে এটিকে ধর্ষণ হিসেবে প্রমাণ করতে বেশ যুদ্ধ করতে হয় বলে উল্লেখ করেন দ্য ডেইলি স্টার–এর সাংবাদিক জাইমা ইসলাম। পুরুষ সহকর্মীদেরও বোঝাতে হয়েছে। জাইমা বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি নারীদের সম্পর্কে কথা বলা আমার দায়িত্ব, তবে শুধুই আমার দায়িত্ব নয়। যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে সব ধরনের বৈষম্যপূর্ণ ঘটনার শিকার হতে হয় নারীদের, এটা তো সত্য। তাই এসব নিয়ে নারী–পুরুষ সবাইকে কথা বলতে হবে।’

আলোচনার সঞ্চালক দৃকের পরিচালক সায়দিয়া গুলরুখ মন্তব্য করেন, নারী সাংবাদিকেরা কাজের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মস্থলে নিয়মিত বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার করতে হয়, যা ক্লান্তিকর। শুধু প্রেসক্লাব নয়, নারীদের আলাদা নির্দিষ্ট জায়গা থাকা উচিত, যেখানে শুধু তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।’

এই আয়োজনের শেষে গত বছর করোনাকালে প্রয়াত বাংলাদেশের দুজন নারী আলোকচিত্রী সাঈদা খানম এবং দৈনিক ইত্তেফাক–এর তরুণ আলোকচিত্র সাংবাদিক রেহেনা আক্তারকে স্মরণ করা হয়। আলোচনা সভা আয়োজনে সহযোগিতা করেন পাঠশালার শিক্ষক তাসলিমা আক্তার।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন