বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধিকার নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংগঠন লাইট হাউস। প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের জুন মাসে দেশের ২৫টি জেলায় নারী যৌনকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডারদের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে দেখা যায়, তাঁদের কাজ ৭৭ শতাংশ কমে গেছে। নারী যৌনকর্মীদের আয় কমে গেছে ৭৩ শতাংশ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ছোট আকারে ৪০০ যৌনকর্মীর ওপর ফলোআপ জরিপ করে লাইট হাউস। সেখানে দেখা যায়, দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর ১৬ শতাংশ নারী যৌনকর্মী একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর আগে ৫ শতাংশ যৌনকর্মীর মাসিক আয় এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে ছিল। দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ৫২ শতাংশ যৌনকর্মীর আয়ের অবস্থা এমনটা দাঁড়ায়।

লাইট হাউসের উপনির্বাহী প্রধান কে এস এম তারিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম দফার জরিপে আমরা যৌনকর্মীদের আর্থসামাজিক অবস্থার করুণ চিত্র দেখেছিলাম। এরপর বিশেষ করে যৌনপল্লিগুলোতে সরকারি সহায়তা গেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ছোট জরিপে আর্থসামাজিক অবস্থা আরও নাজুক হওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে। যৌনপল্লিতে এখন আর সরকারি সহায়তা নেই। এর বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক যৌনকর্মী বরাবরই সহায়তার বাইরে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল এইডস অ্যান্ড এসটিডি কর্মসূচির আওতায় ২০১৫ সালে এক জরিপ করে। ওই জরিপ অনুযায়ী, দেশে নারী যৌনকর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ২৬০। এর পাশাপাশি আছেন লক্ষাধিক পুরুষ ও ট্রান্সজেন্ডার যৌনকর্মী।

লাইট হাউসের জরিপে দেখা গেছে, দেশের যৌনপল্লিগুলোতে যৌনকর্মীর সংখ্যা চার হাজারের মতো। আর বাকিরা বাইরের যৌনকর্মী। তাঁরা ভাসমান বা হোটেল ও বাসাবাড়িতে কাজ করেন। একজন নারী যৌনকর্মী কোভিডের আগে যেখানে সপ্তাহে ২০ জনের মতো খদ্দের পেতেন, সেখানে সপ্তাহে এক-দুজনের বেশি পান না। এভাবে কম খদ্দের থাকায় এবং আয় কমে যাওয়ায় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। খদ্দেরের অন্যায্য আচরণ এবং জোরজবরদস্তির শিকার হচ্ছেন যৌনকর্মীরা। খদ্দের না চাইলে তাঁরা কনডম ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাঁদের সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ছে।

সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২৯টি যৌনকর্মী সংগঠনের একটি জোট। এর সভাপতি আলেয়া আখতার প্রথম আলোকে বলেন, করোনাকালে যৌনকর্মীদের অবস্থা করুণ হয়ে গেছে। আর এ জন্য খদ্দেরদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই অনেক সময় তাঁদের ভরসা করতে হচ্ছে। নতুন করে এ পেশায় আসার প্রবণতাও আছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ভাসমান যৌনকর্মী ঝরনা (ছদ্মনাম) বলছিলেন, করোনাকালে এখন ৫০ টাকাতেও তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে। যা কখনোই ৩০০ টাকার নিচে হতো না। গেল মাসে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে কনডম ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি প্রতিবাদ করলেও খদ্দের শোনেননি।

ইউএনএইডের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ডা. সায়মা খান মনে করেন, করোনাকালে পেশার অবস্থা যখন নাজুক, তখন জীবনের তাগিদে যৌনকর্মীদের অনেক কিছু মেনে নিতে হতে পারে বা হচ্ছে। এই অবস্থায় তাঁদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঝুঁকি প্রশমনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের এ নিয়ে ভাবনা কী?

প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৭ জুন দেশের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম সিটির মেয়রদের ভাসমান মানুষদের সহায়তার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনামুর রহমান বলেন, সেখানে সরাসরি ‘ভাসমান যৌনকর্মী’ শব্দগুলো বলা হয়নি। কিন্তু এসব গোষ্ঠীর মানুষ নিশ্চয়ই সহায়তা পাবেন।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন