বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তামান্নার বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে শংকরপুর গ্রামে। জন্ম ১৯৯৬ সালের ৩ জানুয়ারি। প্রতিবন্ধী হলেও তামান্না রংতুলি হাতে অনন্য। নিরলস চেষ্টায় হয়ে উঠেছেন চিত্রশিল্পী। প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর আঁকা ছবিগুলো। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, সমাজের অবহেলিত মানুষের ছবি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য এঁকে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার।

স্থানীয় হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওবায়দুল কবির ও আফরোজা বেগমের একমাত্র মেয়ে তামান্না। আফরোজা বেগম বললেন, ‘মাত্র দুই বছর বয়সে হামে আক্রান্ত হয়ে “ভুল চিকিৎসায়” বাক্ ও শ্রবণশক্তি হারায় তামান্না। এরপর চিকিৎসা দিয়েও কাজ হয়নি। ছোটবেলা থেকেই অন্য শিশুদের চেয়ে একটু আলাদা ছিল। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে।’

তামান্নার বাবা কয়েক বছর ধরে অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী। মা রূপালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গুঠিয়া বন্দরে কাঁচামাল বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করেন। টানাপোড়েনের এই সংসারে তামান্না থাকেন তাঁর ছবির জগতে। বিভিন্ন সময়ে বরিশালের অশ্বিনীকুমার টাউন হল, সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া সেলাই মেশিনে তৈরি করেন নানা রকম পোশাক। এলাকার ছোট ছেলে-মেয়েদের ছবি আঁকা শেখান।

একই এলাকার বাসিন্দা তামান্নার মামা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ছবি আঁকার পাশাপাশি হাতের কাজ শিখেছে তামান্না। চেষ্টা করছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার।’

তবে তামান্নার পরিবারের অনটন তাঁর এই প্রতিভা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে তিনি এই প্রতিভাকে আরও শাণিত করতে পারতেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণতি বিশ্বাস বলেন, ‘তামান্না খুব সুন্দর ছবি আঁকেন, কিন্তু করোনার কারণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাঁকে আমরা সেইভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি। অবশ্যই তাঁর প্রতিভা বিকাশে আমরা পাশে থাকব।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন