বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এবার নারীদের দায়িত্বে রেখে পূজা উদ্‌যাপন কেন? জবাবে চৈতী বলেন, ‘পূজা আয়োজন নারীদের চিরাচরিত দায়িত্ব ফুল তোলা, প্রসাদ তৈরি, নাড়ু বানানো—এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কেন তাঁরা দায়িত্ব নিতে পারবেন না? নারীশক্তির আরাধনার দায়িত্ব তাই এবার আমরা নিলাম।’

এবার এ মন্দিরে নারীর অংশগ্রহণ ঘটেছে নানা পর্বে। যেমন মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের কাজ সাধারণত পুরুষেরাই করেন। এবার এ মন্দিরে এসে চণ্ডীপাঠ করেছেন চট্টগ্রামের শঙ্কর মঠের নমিতা চক্রবর্তী।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, পূজামণ্ডপে প্রতিমার কাছে এবার নারীরাই থাকবেন। শুধু মন্দিরে নয়, এবার নারী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সামলাবে মন্দিরের শৃঙ্খলার কাজ। বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিমাদর্শন থেকে অন্যান্য সহায়তার জন্য নারীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর করোনাকালে মন্দিরে কাউকেই মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না। ফটকে থাকবে স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থা। এসবের ব্যবস্থাপনায় থাকছেন নারীরাই।

মন্দিরে দেখা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত-মৈত্রী হলের ছাত্রী সুস্মিতা দের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ মন্দিরের পূজা কমিটিতে নারীরা আগেও ছিলেন। কিন্তু প্রধান দুই পদে এই প্রথম নারী। জাতীয় পর্যায়ের এ মন্দিরে নারীদের অংশগ্রহণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

রমনা কালীমন্দিরের বয়স প্রায় ৪০০ বছর। এখানে কবে থেকে দুর্গাপূজা হয়, এ নিয়ে সঠিক ইতিহাস জানা নেই কারোর। তবে এখানে কখনো মূল দায়িত্বে নারীরা ছিলেন, এমনটা হয়নি—জানান এ মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা। তাঁর কথা, ‘একটা পূজার দায়িত্ব পেলে যে নারীর ক্ষমতায়নে বড় কিছু ঘটবে, তা হয়তো নয়। কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা সেই ক্ষমতায়নের কথাটা বলতে চাই। এবারে নারীদের দায়িত্ব পাওয়া সেই ক্ষমতায়নের একটি প্রতীকী রূপ।’

মন্দিরের নানা আয়োজনে প্রতীকের উপস্থিতি। যেমন মন্দিরের সামনের পুকুরের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে লক্ষ্মী-নারায়ণের মূর্তি। পুকুরের জলে ছড়িয়ে আছে পদ্ম, শাপলা। তারই মাঝে এ দুই দেব-দেবীর অধিষ্ঠান। চৈতী বিশ্বাস বলেন, ‘নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতীক এটি। এ সভ্যতা এগিয়ে নিয়ে গেছে তাঁদের এই যূথবদ্ধ প্রচেষ্টা। আমরা সে কথাই বলতে চেয়েছি।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন