বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডুমনী গ্রামে গেলে চোখে পড়বে প্রতিটি বাড়িতে শাপলা ফুল শুকানো হচ্ছে। তা ছাড়া সড়কের দুই পাশে দূর্বাঘাস ও সেতুর রেলিংয়ে ঝুলতে দেখা যাবে শাপলার ডাঁটা। শাপলা শুকিয়ে বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে (ভাদ্র থেকে কার্তিক মাস) একেকজন নারীর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। অনেকের এক লাখ টাকাও পর্যন্ত আয় হয়।

কয়েক দিন আগে ডুমনী গ্রামে গিয়ে কথা হয় আমেনা খাতুনের সঙ্গে। তখন তিনি সেতুর ওপর শাপলা শুকাতে দিচ্ছিলেন। আমেনা বলেন, শাপলা ফুলের পুরোটাই কাজে লাগে। তবে সাদা শাপলা বিক্রি করা যায় না। কেবল লাল শাপলা বিক্রির উপযোগী। বিল থেকে শাপলা তোলার পর ফুলের মাথার অংশ ডাঁটা থেকে কেটে আলাদা করা হয়। ফুলকে কেটে চার ভাগ করা হয়। এরপর ডাঁটাগুলোকে বাঁশের আড় বা অন্য কোনো উঁচু স্থানে বিছিয়ে দেওয়া হয় রোদে শুকানোর জন্য। শাপলা শুকানোর জন্য তিন দিন রোদ লাগে। প্রতিদিন এক নৌকায় যে পরিমাণ শাপলা ওঠানো যায়, সেখান থেকে ৯–১০ কেজি শুকনা শাপলা পাওয়া যায়।

default-image

আর জুলেখা বেগম বলেন, ‘টেইননার বিল ছাড়াও বারোবাইয়া, বৈঠা কালি, রৌয়ের বন বিল থেকে প্রচুর লাল শাপলা তুলি আমরা।’

একই গ্রামের শাপলা বিক্রেতা দীপ্তি রানী জানালেন তাঁর স্বামী কৃষিজীবী। শাপলা বিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা সংসারে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি পাঁচ বছর ধরে অন্তত প্রতি মৌসুমে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। তিনি বলেন, ‘শাপলার বিলে বড় নৌকা চালানো যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। তাই ছোট তালের গাছ দিয়ে তৈরি “কোন্দা” (কায়াকের মতো একধরনের দেশি নৌকা) দিয়ে শাপলা তুলতে যেতে হয়।’

ডুমনী গ্রামে এসে শ্রীপুরের বেশ কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে শুকনা শাপলা কিনে নিয়ে যান বলে জানালেন ডুমনীর আনোয়ারা বেগম। যোগ করলেন, তাঁদের গ্রামে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে শাপলা বিক্রি চলছে। পাইকারি বিক্রেতা এই শাপলা কিনে নিয়ে আরও বেশি দামে ভেষজ ওষুধ তৈরির বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন।

ডুমনীর শাপলার বড় একজন ক্রেতা মো. আইনুল হক। রাসেল স্টোর নামে ভেষজ উপকরণ সরবরাহের দোকান আছে তাঁর। দেশের বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি লাল শাপলাসহ অন্তত ১০০ ধরনের ঔষধি গাছগাছড়া ও উপকরণ সরবরাহ করেন। আইনুল হক বললেন, ‘ডুমনী গ্রামের শতাধিক নারীর কাছ থেকে প্রতিবছর ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার উপকরণ কিনি। বাংলাদেশে কেবল শ্রীপুরের ডুমনী এলাকা থেকেই লাল শাপলা সংগ্রহ করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও ডেইরি শিল্পের এক উদ্যোক্তা আকরাম হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বহু বছর ধরেই দেখে আসছি যে আমাদের গ্রামের নারীরা শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এটাকে আমরা সম্মানের চোখে দেখি। তাঁরা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি আয় করছে। শুনেছি এই শাপলার চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। মনে হচ্ছে এই পেশায় আরও অনেকেই যুক্ত হবেন।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন