বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

তাসলিমা ( ছদ্মনাম) তাঁর অতীত জীবনের কথা মনে করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমার সম্মান আমি ফিরে পেয়েছি। সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাতে পারছি।’ ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় রোকসানার (ছদ্মনাম)। বিবাহিত অবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়েন যৌনকর্মীর পেশায়। রোকসানা বলেন, ‘একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম এই পেশায় কোনো সম্মান নেই। বরং সমাজে তাঁদের চলাফেরা করতে হয় লুকিয়ে।’ বয়স যখন ২০ বছর, রোকসানা তখন বেরিয়ে আসেন ওই পেশা ছেড়ে। স্বামীর সঙ্গে মাঝখানের কয়েক বছর যোগাযোগও ছিল না। কিন্তু এখন সেই স্বামীর সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। তাঁদের আছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।

কুসুম, রাজিয়া, তাসলিমা, রোকসানা—এঁদের সবার জীবনের গল্প প্রায় একই রকম। হারিয়ে ফেলা জীবনে তাঁরা আবার ফিরে এসেছেন শক্তভাবে। কিন্তু কী করছেন তাঁরা এখন? এই ফিরে আসার শক্তি কোথায় পেলেন তাঁরা? চারজন নারীর উত্তরই এক। একটি অলাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি। যারা তাঁদের মতো এমন অসংখ্য নারীর জীবনকে নতুন করে দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। চাকরি করে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

প্রকৃতি একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিন্তু অলাভজনক। এই নারীদের সুবিধা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। নারী কর্মীদের সব সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার পরই নিজেদের মুনাফা নিয়ে ভাবে তারা। মূলত পবিত্রা নামের একটি এনজিও এমন যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের কাজ করে থাকে। আর প্রকৃতি এই নারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বিকল্প কাজের সুযোগ করে দেয়।

প্রকৃতির মানবসম্পদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুভ দাস বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বিভাগে শতভাগই নারী কর্মী। তবে সবাই আগে যৌনকর্মী ছিলেন এমন নয়। ওই জীবন থেকে ফেরা নারীদের মানসিক অবস্থা থাকে খুব ভীতিকর। তাই প্রথম এক বছর তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে আনার চেষ্টাই বেশি করা হয়। এরপর হাতে তৈরি সাবান ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান দিয়ে তৈরি পণ্য বানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যেহেতু এই পণ্যগুলো বিদেশেও সরবরাহ করা হয়, তাই নারী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার পড়ে।

কথা বলে জানতে পারি, তাসলিমা প্রকৃতিতে কাজ করছেন ২০০৯ সাল থেকে। রোকসানা আছেন ২০১০ সাল থেকে। দক্ষতা না থাকায় প্রথম দিকে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতেন তাঁরা। এখন মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। হাতে তৈরি সাবানসহ তাঁদের হাতে বানানো প্রকৃতির শত শত পণ্য দেশ ও দেশের বাইরে বিক্রি করা হয়। দেশি এসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে নিজেদের কাজের প্রশংসা পাচ্ছেন রোকসানারা। তবে তাঁরা মনে করেন, এখান থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে সম্মান। মাথা উঁচু করে নিজের পেশা নিয়ে গর্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন