default-image

গাজীপুরের শ্রীপুর রেলস্টেশনে শত শত যাত্রী অপেক্ষা করছেন। ঘড়িতে সময় তখন বেলা ২টা ৪০ মিনিট। স্টেশন অফিসে নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাচ্ছেন এক নারী। তিনি শামীমা জাহান, পদবি স্টেশনমাস্টার। মিনিট দশেকের মধ্যে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে এসে থামতেই আরও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠলেন তিনি।

৭ মার্চ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে গেলে কথা হয় শামীমা জাহানের সঙ্গে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চিনাডুলী গ্রামে তাঁর বাড়ি। নারীদের জন্য অনেকটা অপ্রচলিত পেশা স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব, সেই দায়িত্বই শামীমা পালন করছেন শ্রীপুর রেলস্টেশনে। মানুষ ‘চ্যালেঞ্জিং’ পেশা বললেও শামীমা আর দশটা পেশার মতোই নিয়েছেন। স্টেশনে বসে রোজ ২৪টি ট্রেনের আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন শামীমা।

শামীমা জাহান স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে। তাঁর এক মামা রেলওয়ে বিভাগে চাকরি করেন, সেই সুবাদে শামীমার পরিবার রেলওয়ে বিভাগের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জানতেন। শামীমাও একসময় সুযোগ পান রেলওয়ের চাকরির। ২০১৬ সালে যোগ দিয়ে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা বোধ করেছিলেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই কর্মদক্ষতা দিয়ে সবকিছু নিজের মতো করে নিলেন। ছয় মাস ধরে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। আরও কিছু প্রশিক্ষণের পর পুরোদমে কাঁধে দায়িত্ব নেন সহকারী স্টেশনমাস্টারের। সম্প্রতি তিনি পদোন্নতি পেয়ে স্টেশনমাস্টার হয়েছেন। শ্রীপুর রেলস্টেশনে দুজন স্টেশনমাস্টারের সমন্বয়ে পুরো কর্মযজ্ঞ চলে। তাই সপ্তাহ ভাগাভাগি করে দুজনকেই রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করতে হয়। শামীমা জাহান বলেন, ‘এতে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বরং কাজটাকে উপভোগ করছি।’

বিজ্ঞাপন

কী দায়িত্ব পালন করতে হয়? শামীমা বলেন, ‘অফিসে এসে ঠান্ডা মাথায় ট্রেন অপারেশন, সিগন্যাল মেনটেইন করি, ট্রেনের টিকিট বিক্রি করি, পাস থ্রো সিগন্যাল দিই। যেমন ধরুন, কিছুক্ষণ আগে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস শ্রীপুর রেলস্টেশনে প্রবেশ করেছে। আমি প্রবেশের সংবাদটি পার্শ্ববর্তী স্টেশনে জানিয়ে দিয়েছি। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ গোপনীয় কোডটিও জানিয়ে দিয়েছি। গোপন কোড দেওয়ার পর পার্শ্ববর্তী স্টেশন অন্য একটি ট্রেনের জন্য ক্লিয়ারেন্স পাবে।’

শামীমা জানালেন, আগের প্রযুক্তিতে সিগন্যালে অনেক সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকত। তবে এখন সব কম্পিউটারাইজড হয়ে যাওয়ায় ভুল হয় না বললেই চলে।

শামীমা বিয়ের পর চাকরি নিয়েছেন। দুটি শিশুসন্তান আছে তাঁর। স্টেশন অফিসে আসার পর সন্তানদের দেখভাল করার কাজের সহযোগিতা করছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। সব মিলিয়ে রেলস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ এসব কাজে কোনো সমস্যাই বোধ করছেন না বলে জানালেন তিনি। তাঁর মতে, ‘এই দেশে যেকোনো চাকরির ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পেশাদারির সঙ্গে কাজ করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস। বিভিন্ন পেশায় প্রচুর পরিমাণে মেয়েরা যুক্ত হলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যাবে।’

নারীমঞ্চ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন