default-image

মরিয়ম বেগম হেঁটেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করেন। করোনা পরিস্থিতিতে খবরের কাগজ বিক্রি কিছুটা কমেছে। তবে খবরের কাগজ বিক্রিতে পূর্বের দিন ফিরে আসবে, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পেশা ছেড়ে যাননি মরিয়ম।

দিনাজপুর শহরে হকার মরিয়ম বেগম (৪২) ১৮ বছর ধরে হকার হিসেবে কাজটি করছেন। হকার হিসেবে কাজটি শুরু করেছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। শহরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গায় থাকেন তিনি। শহরের মডার্ন মোড়, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, রেলস্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে খবরের কাগজ বিক্রি করলেও বেশির ভাগ সময় থাকেন কাচারি এলাকায়। এখানে পত্রিকার ক্রেতা তুলনামূলক বেশি।

বিজ্ঞাপন

আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন। পড়ালেখারও সুযোগ হয়নি। মরিয়ম জানালেন, করোনাভাইরাস বিস্তারের পর থেকে কোর্ট-কাছারিসহ অফিসগুলোতেও ঢোকা নিষেধ। কয়েকটি বাসায় পত্রিকা দিতেন, করোনার ভয়ে অনেকেই পত্রিকা নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। তবে পত্রিকার মাধ্যমে করোনা ছড়ায়, এমন কথায় তীব্র প্রতিবাদ করে মরিয়ম বললেন, তাঁর তো করোনা হয়নি, তিনি তো বলতে গেলে এই পত্রিকার সঙ্গেই সারা দিন বসবাস করছেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তারের আগে পত্রিকা বিক্রি করে, এজেন্টের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার পর দিনে গড়ে সাড়ে ৩০০ টাকার মতো লাভ হতো। এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতি সপ্তাহে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয় ৬০০ টাকা। করোনাকালে হকার সমিতি, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩০ কেজি চাল পেয়েছিলেন। মরিয়ম বললেন, করোনা শুরুর পর দেড় মাস কিস্তি পরিশোধ করতে হয়নি। কিন্তু এখন কিস্তির জন্য কর্মীরা তাগাদা দিচ্ছেন। ছেলেমেয়েসহ চারজনের সংসার। মরিয়মের ভাষায়, মরার আগ পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করতে চান।

বিজ্ঞাপন

মরিয়ম পত্রিকা বিক্রি শুরু করার আগে বোতল, ভাঙারি, লোহাসহ বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়, স্বামী রিকশাচালক। তবে বিয়ের পরও মরিয়মকে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। বাড়ির পাশে তরমুজ-কলা আনারসের দোকান করেছেন। সবজি বিক্রি করেছেন কখনো। এরপর একদিন স্থানীয় এক সাংবাদিকের হাত ধরে পত্রিকা বিক্রির পেশায় নামেন। মরিয়ম জানালেন, শুরুতে এজেন্ট থেকে পত্রিকা বাকি দিতে চাইত না। এখন সবাই বিশ্বাস করে।

দিনাজপুর জেলা হকার সমিতির সভাপতি জাফর আলী বললেন, মরিয়মই একমাত্র হকার, যিনি রোদ–বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত পত্রিকা বিক্রি করছেন। লেনদেনও ভালো। এজেন্টের পাওনা পরিশোধ নিয়েও মরিয়মের নামে কোনো বদনাম নেই।

মন্তব্য পড়ুন 0