৪২ বছর পর ফুলছাড়া দুর্গা রানী

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজশাহী শহরের মানুষকে প্রথম পয়সা দিয়ে ফুল কেনার অভ্যাস গড়ে তোলার পেছনে যিনি ছিলেন, তিনি হলে দুর্গা রানী সাহা। তিনি নিজে প্রথম ফুল বিক্রি করেছিলেন পাঁচ পয়সায়। গত ৪২ বছরে প্রায় প্রতিদিনই সকাল ছয়টায় রাজশাহীর সাহেব বাজারে এসে বসেছেন ফুল নিয়ে। তবে করোনাকাল মানুষের জীবন পাল্টে দিয়েছে। ফুলের তেমন ক্রেতা নেই। তাই সেই দুর্গা এখন ফুটপাতে ফুলের বদলে বসেছেন মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ করোনা থেকে বাঁচতে সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে।

সম্প্রতি ফুলের দোকানের কাছে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা রানীর ফুলের জায়গায় মাস্ক ঝুলছে। দুর্গা রানী বললেন, সারা দিনে ১৫০ টাকার মতো বিক্রি হয়। তবে ফুলের কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। বললেন, সময় ভালো হলে আবার ফুল আনার ব্যবস্থা করবেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকেও দুর্গা রানীর দোকানে ছিল ফুলের রমরমা ব্যবসা। তিনি ব্যবসা শুরুর দিক নিয়ে বলেছিলেন, আগে শুধু কাগজের ফুল বিক্রি হতো। বাসরঘরও সাজানো হতো কাগজের ফুল দিয়ে। টাকা দিয়ে ফুল কেনার অভ্যাস হয়নি মানুষের।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রাজশাহী শহরে শ্বশুরবাড়ি। দুর্গা রানীর ভবঘুরে স্বামী অর্জুনরাম সাহার আয়রোজগার নেই। বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ থেকে আসার সময় ট্রেনে ফুল বিক্রি হতে দেখে দুর্গা রানীর মাথায় ফুল বিক্রির বুদ্ধি আসে। প্রথম দিকে পয়সা দিয়ে কেউ ফুল কিনতে চায় না। তবু প্রতিদিন নগরের সাহেব বাজার এলাকায় ফুলের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেন। বিক্রি হয় না দেখে দুর্গা রানী ফুল নিয়ে ছুটে যেতেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পরে পাড়ার ছোট বাচ্চাদের হাতে চকলেট কেনার পয়সা দিতেন, আর বাচ্চারাই বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দুর্গা রানীর ফুল বিক্রি করে দিত।

ফুল বিক্রির শুরু থেকে গত ৪২ বছর ধরে প্রতিদিন ভোর ছয়টায় দুর্গা রানী ফুটপাতে ফুল নিয়ে বসতেন, ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা। তিনি এখন ষাটোর্ধ্ব। রাজশাহীতে ফুলের বাজার গড়ে তুলতে তিনি জমি ইজারা নিয়ে ফুল চাষও করেছেন। দোকানে কর্মচারীও রেখেছিলেন, কিন্তু নিজের জমি না থাকায় ইজারামূল্য পরিশোধ করে আর লাভ করতে পারেননি। পরে যশোর ও কালীগঞ্জ থেকে ফুল এনে বিক্রি করতেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহী নগরের ভুনারিপট্টি এলাকায় দুর্গা রানীর স্বামীর যে বাড়ি, তা দখল হয়ে গেছে। দুর্গার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে জনীও সাত বছর বয়স থেকে মায়ের পাশে ফুলের দোকানেই বসেছেন। এ ছেলে বিয়ে করেননি, আলাদা বাসায় থাকেন। ছোট ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করেন। বিয়ে করে আলাদা থাকেন। দুর্গা রানী নগরের আলুপট্টি এলাকায় স্বামীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

রাজশাহী শহরে বলতে গেলে প্রথমে ফুলের ব্যবসা শুরু করলেও দুর্গা রানী ফুটপাত থেকে উঠতে পারেননি। তাঁর দোকানের কর্মচারীরা বের হয়ে গিয়ে দোকান দিয়ে বসেছেন। আর এখন তো জীবনের তাগিদে একেবারেই ভিন্ন ব্যবসা হাতে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন