বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুপুরের পর থেকেই ছোটদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো গ্যালারি। যেন আলো-আঁধারে উড়ছে একঝাঁক জোনাকি। সবচেয়ে বেশি ভিড় জমেছিল প্রদর্শনকক্ষের ডিজিটাল পর্দার সামনে। সবাই যখন পর্দার স্লাইড শোতে একদৃষ্টে তাকিয়ে নিজের আঁকা ছবির অপেক্ষা করছে, তখনই মঞ্চ থেকে এল ডাক। সবাই রওনা হলো মঞ্চের দিকে।

default-image

বিকেল পাঁচটা বাজতে তখনো মিনিট পাঁচেক বাকি। প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীনের সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে। সিমিন রহমানের আরও একটি পরিচয় আছে, তিনি সাহসী সন্তান ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার বিচারক বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী আবুল বারক্‌ আল্‌ভী। বিচারকমণ্ডলীর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান ও ফারেহা জেবা।

default-image

‘টোকাই’ চরিত্রের স্রষ্টা রফিকুন নবী অনুষ্ঠানে এসে প্রকাশ করেন তাঁর মুগ্ধতা, ‘বাচ্চারা তাদের আঁকায় এমন সব চিন্তা ও উপাদান ব্যবহার করে, যা আমরা (শিল্পীরা) ভাবতেও পারি না। বাচ্চাদের আঁকার অনেক কিছুই আমরা অনুকরণ করার চেষ্টা করি। কারণ, ওরা খুব ইনোসেন্টলি ও মজা করে ছবি আঁকে। তবে আমাদের আঁকায় সেসব উপাদান ব্যবহার করলেও ওদের মতো সুন্দর হয় না।’

default-image

সিমিন রহমান তাঁর কথায় জানিয়েছেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আসল আনন্দ কোথায়। তিনি বলেন, ‘শিশুরা বাংলাদেশকে নিয়ে ছবি এঁকেছে মনের আনন্দে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মানে পুরস্কার পাওয়া নয়। আনন্দ নেওয়া ও আনন্দ দেওয়াটাই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মূল কথা।’ আবুল বারক্‌ আল্‌ভী ও বাকি দুজন বিচারকমণ্ডলী জানান দুহাজারের বেশি আঁকা থেকে সেরা ২০ বেছে নেওয়া ছিল কতটা কঠিন।

default-image

পুরস্কার ঘোষণার পালা আসতেই নড়েচড়ে বসেন অভিভাবকেরা। শিশুদের চেয়ে মা-বাবার আগ্রহই যেন একটু বেশি! বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়—‘ফিরবে না কেউ খালি হাতে’। দুই বিভাগে সেরা ২০ আঁকিয়ের সবাই পাবে পুরস্কার। প্রথমেই একে একে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় খ বিভাগের বিশেষ পুরস্কার বিজয়ী সাতজনকে।

default-image

প্রত্যেকেই পুরস্কার হিসেবে পায় পাঁচ হাজার টাকার বই কেনার কুপন। ক বিভাগের বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত পাঁচ আঁকিয়েও পায় একই পুরস্কার। ক ও খ বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী আঁকিয়েরা পায় যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার বইয়ের কুপন।

default-image

‘আলোয় আঁধারে’র প্রদর্শনী ততক্ষণে বেশ রঙিন হয়ে উঠেছে। এত পুরস্কার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল ছোট ছোট হাতগুলো। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মঞ্চে হাজির হন শিল্পী অবন্তী সিঁথি। ছোট-বড় সবাই তাঁর সঙ্গে গলা মেলায় ‘আমরা সবাই রাজা’ গানে।

default-image

ঘুমবাবু জয়ীতার ঘুমের ঘোর ততক্ষণে কেটে গেছে। একদম অল্প বয়স বলে সে গলা মেলাতে পারছিল না, তাই গানের সঙ্গে লাফালাফি করেই তাল মিলিয়েছে সে। গান শেষে আবার ঘুম। এবার বাড়ি ফেরার পালা। আজ প্রদর্শনীর শেষ দিন। মা-বাবাকে নিয়ে ছুটির দিনে দেখে আসতে পারো ছোটদের আঁকা দারুণ ছবিগুলো।

default-image
গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন