বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তক্ষুনি ক্যা ক্যা করতে করতে তেড়ে আসে বউ। ওইটুকু ভাইয়ের গালে চড়! কেউ সহ্য করে? বাজে কম্বল, কাটা কম্বল ইত্যাদি বলে সে চেঁচামেচি শুরু করে। কম্বলের মধ্যে যে ধাড়ি ইঁদুর, নাম যার ইঁদুলি বিবি, বসে আছে—তা তো আর কেউ জানে না।

ভাই পিঠাটিঠা খেয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে মুঠোফোনে কার্টুন চালু করে। গত রাতে শীতের চোটে কার্টুন দেখা হয়নি। ইঁদুলি বিবির কিন্তু রকমসকম ভালো ঠেকে না। মুঠোফোনের আলোয় সে নিজেকে দেখতে পায়, মানুষের গায়ের সঙ্গে লেপটে আছে। দেখেই ভয়ে কাইমাই করে হুড়োহুড়ি শুরু করে। আর ভাই বেচারা হঠাৎ কম্বলের মধ্যে ঠান্ডা খড়খড়ে কিছুর দাপাদাপিতে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। হাউমাউ করে সে কম্বল মারে ছুড়ে।

আর কাজটা করতে গিয়ে হাতের মুঠোফোনটা জোরে ছিটকে পড়ে। মেঝেতে বসে ভাত খাচ্ছিল চোর। ফোনটা আচ্ছা জোরে তার নাকে এসে পড়ে। চোরের মন, চুরি করে হালুকফালুক করছিল। তার ওপর নাকে আচমকা ঘা খেয়ে সে ভাবে কেউ বুঝি তাকে ধরতে এসেছে। ভয়ে নাক ঘষতে ঘষতে সে পালাতে গিয়ে দেখে, এ কাজ তার শ্যালকের। অমনি ভয়ের জায়গায় রাগ হয়। টেনে চাটি কষিয়ে দেয় শ্যালকের গালে! এমনিতে কম্বলের খড়খড়ানির ভয়, তার ওপর দুলাভাইয়ের চাটি, ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলে শ্যালক।

তক্ষুনি ক্যা ক্যা করতে করতে তেড়ে আসে বউ। ওইটুকু ভাইয়ের গালে চড়! কেউ সহ্য করে? বাজে কম্বল, কাটা কম্বল ইত্যাদি বলে সে চেঁচামেচি শুরু করে। কম্বলের মধ্যে যে ধাড়ি ইঁদুর, নাম যার ইঁদুলি বিবি, বসে আছে—তা তো আর কেউ জানে না। চেঁচামেচি ঝগড়াঝাটি তুমুল বেগে চলতে থাকে। তাতে যা হলো, এ বাড়িতে যে কম্বল এসেছে, সবাই জেনে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে দলবল নিয়ে চেয়ারম্যান এসে হাজির। বলেন, ‘কম্বল বিতরণ করছিলাম, চারটে পাচ্ছি না, কোথায়?’

তিনজনের মুখই ভয়ে চুপসে যায়। ভাইটি শুধু ভাবে, চেয়ারম্যানকে কতবেল দিয়ে শান্ত রাখবে। দুলাভাইয়ের বাড়িতে কী আর আনবে, চারটা বড় কতবেল এনেছিল। তার মাথায় কতবেলের চিন্তা। হঠাৎ চেয়ারম্যান সাহেব তাকান তার দিকে। শীতে সে কাঁপছে। জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার নাম কী?’

এতসব কাণ্ডকারখানা, ভয়, তার ওপর মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে কতবেলের চিন্তা। মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে, কতবেল গাজী।

আসলে তার নাম কলিম গাজী। ‘কতবেল গাজী’ নাম শুনে চেয়ারম্যান হো হো করে হেসে গড়িয়ে পড়েন। এবার নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন, বেশ ভালো লোক। বলেন, ‘কম্বল থাকে থাক, একে একটা নতুন কম্বল দাও!’

হেঁকে–ডেকে লোকজন নিয়ে তিনি চলে যান। যাওয়ার আগে ভাইটিকে নতুন একটা কম্বল দিয়ে যান একজন।

আর ইঁদুলি বিবি? তার কী হলো? মানুষের এতসব কাণ্ডকারখানা দেখে সে সাংঘাতিক ভয় পেয়ে গেছে। জানটা নিয়ে কোনোরকমে বাইরে বেরিয়ে এসে সে সাতবার করে নাকে খত দিল, না বাবা, যতই শীত করে করুক, ঠান্ডায় মরে যাই, তা–ও সই, তারপরও আমার নিজের বাড়িই খাসা। ওমের খোঁজে কোনো দিন আর পরের বাড়িতে ছুটবে না এ শর্মা।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন