default-image

ইচ্ছেঘুড়ি

ইমরুল ইউসুফ

ঘুড়ির মেয়েটা হঠাৎ করে বলল সেদিন মাকে,

একটুখানি ঘুরে আসি, উড়তে থাকার ফাঁকে।

মা তো অবাক, কোথায় যাবে এখান থেকে একা?

হারাও যদি কোথায় পাব বলো তোমার দেখা!

আমি এখন উড়তে পারি, ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারি

মেঘের সাথে খেলতে পারি,

লেজ ও ডানা মেলতে পারি

উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে লাটাইটাকে ভেঙেচুরে

সুরে সুরে যেতে পারি কোন অজানায় কোন সুদূরে!

ঘাস হয়ে যাই, মাঠ হয়ে যাই, অথবা হই নদী

দেখো এসব ঠিকই হব আমায় ছাড়ো যদি।

না রে সোনা, চাঁদের কণা, আমার সুখের বাঁশি

এমনি করেই সারাটাক্ষণ থাক রে পাশাপাশি।

কেন যে মা এমনি করে আমায় রাখো ধরে

গাছের সবুজ পাতা হব, বলো কেমন করে?

কেমন করে হব বলো ছোট্ট খুকি, হাঁসের ছানা

বিড়াল ছানা, পাতার বাঁশি,

আছে আমার ঠিকই জানা

কিংবা হব কৃষ্ণচূড়া, পলাশফুলের মিষ্টি হাসি

ঘুড়ির চেয়ে এসব হলেই বলতে না মা ভালোবাসি?

তুমি আমার মিষ্টি মেয়ে, চাঁদের বুড়ি, মেঘের ভেলা

তোমার সাথে খেলব সোনা সকাল–দুপুর সারাবেলা।

ঠিক আছে মা, এখন থেকে আদর দিয়ো এমনি করে

বুকের কাছে থেকো তুমি, রেখো আমার হাতটি ধরে।

যাব না আর অন্য কোথাও,

থাকবে সাথে আমার লাটাই

নীল আকাশের ভেলায় ভেসে

মেঘের সাথে সময় কাটাই।

আমি তোমার লক্ষ্মী মেয়ে যে, রৌদ্রছায়ায় চলছি উড়ি

মাগো, এখন ঘরে চলো, বৃষ্টি পড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি।

বিজ্ঞাপন

দাদুর ছাতা

সুমন মাহমুদ

কাঁঠালপাতায় দাদুর ছাতায়

রৌদ্র ঝিলিক মারে

রোদের চুমোয় শিশির ঘাসে

আর তো দাঁড়ায় না রে।

শিশির পালায় রোদের জ্বালায়

দাদুর ছাতার নিচে

ঝিরঝিরিয়ে বাতাস হাঁটে

দাদুর পিছে পিছে।

দাদুর ছাতার সঙ্গে রোজই

চলছে রোদের লড়াই

এই ছাতাটার জন্য দাদুর

অনেক অনেক বড়াই।

বিজ্ঞাপন

মনোযোগ

শেখ লোকমান গালিব

ঘুম ভাঙে তাড়াতাড়ি কাক ডাকে সকালে

কাজটাজ নেই আজ, ঘুম গেল অকালে।

গাড়িঘোড়া রাস্তায় ছুটে চলে হরদম,

দুই চাকা বাইকে ও সাইকেলে ভর কম।

শহরের বাতিগুলো দিন হলে বন্ধ,

ছাদে ছাদে ফুল ফোটে, ইশ্‌ কী সুগন্ধ!

খাবারের দোকানে যে আজ দেখি খুব ভিড়,

কাক–বাসা হয়ে গেছে কোকিলের প্রিয় নীড়।

সূর্যেরও দিক যেন ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায়!

সোনারোদ ধীরে ধীরে ঝিকিমিকি গালটায়।

হুট করে মেঘ ডাকে, বিদ্যুতও চমকায়

ওড়ে সব চারিদিকে বাতাসের দমকায়।

মেঘদের কারিকুরি, এই রোদ এই ঝড়,

সব রেখে বাবা বলে, ‘পড় পড়, বই পড়!’

মন্তব্য পড়ুন 0