default-image

একটা বীজ মাটিতে পড়ে ছিল। সে চেয়েছিল, বড় হতে হতে একটা গাছ হবে। কিন্তু বেচারা একটা সমস্যার মধ্যে পড়ে গেল। ওর মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন, কী গাছ ও হবে? বীজটা নিজেই নিজেকে বলল, আমি যদি মাটির অনেক নিচে যেতে পারি, তাহলে অনেক বড় গাছ হতে পারব।

এসব ভাবতে ভাবতে বীজটা টের পেল, কেউ ওকে স্পর্শ করছে! কিছুক্ষণের মধ্যেই ও বুঝতে পারল, একটা পাখি ওকে ঠোকর দিচ্ছে। আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বীজটা চলে গেল একটা পাখির পেটের মধ্যে! এরপর আর কোনো শব্দ নেই।

এভাবে যে কতক্ষণ পাখির পেটে বীজটা ছিল, তার কোনো হিসাব নেই। হঠাৎ একটা শব্দ! আর প্রচণ্ড গন্ধ। বীজটা বুঝতে পারল, পাখির মলের সঙ্গে ও আবার বাইরের দুনিয়ায় চলে এসেছে। শরীর থেকে পচা গন্ধ বের হলেও বীজটা মনে মনে খুব খুশি হলো।

১০ দিন পর...

বীজটা আগের মতো আর খুশি না। ও মাটির নিচে পড়ে আছে, কিন্তু বাড়ছে না। বীজটা একসময় ভাবল, ওহ্! আমার তো সূর্যের আলো দরকার। কিন্তু আমি কীভাবে আলো পাব? আমি তো মাটির অনেক নিচে, আর আলো তো ওপরে। তখন বুদ্ধিমান বীজটা একটা টিউব নিয়ে ভেতরে আয়না বসিয়ে একটা পেরিস্কোপ বানাল। সেটি দিয়ে বীজটা সূর্যের আলোও পেতে লাগল।

২০ দিন পর...

বীজটার আর ধৈর্য কুলাচ্ছে না। ও এখনো বড় হচ্ছে না। বীজটা ভাবল, ওহ্, আমি তো একটা গাধা! আমার তো জল লাগবে। বৃষ্টির জল মাটির নিচে আসছে, কিন্তু আমি তো মাটির অনেক নিচে নেমে গেছি, তাই বৃষ্টির জল পাচ্ছি না। এ জন্য কী করা যায়? ওহ্, আমি তো জানি এটা! বুদ্ধিমান বীজটা তখন আরেকটা টিউব নিয়ে ওপরে তুলে দিল। আর তখন বৃষ্টির জল টিউব দিয়ে বীজটার কাছে চলে আসতে লাগল। বীজটা ভাবল, আহ্, এখন আমার শরীর থেকে পচা গন্ধটাও চলে গেছে!

৩০ দিন পর...

এই! এটা কী? আমার মাথার ওপরে কিছু একটা অনুভব করছি। আমি বোধ হয় একটু লম্বাও হয়েছি! বীজটা ভাবল, ওহ্, আমি একটা ছোট গাছ হয়েছি! বীজটা তখন অনেক খুশি হয়ে গেল। এরপর ও মাটি ফুঁড়ে ওপরে উঠতে লাগল। উঠতে উঠতে একসময় বুঝতে পারল, ও একটা ফুল গাছ হয়েছে!

তারপর ওই ফুল গাছ থেকে অনেকগুলো বীজ হলো। ও নিজে যেভাবে গাছ হয়েছে, ঠিক একইভাবে ওই বীজগুলোও একেকটা ফুল গাছ হয়ে উঠল। এভাবে চলতে চলতে জায়গাটা ফুল গাছে ভরে গেছে। তাই সবকিছু এখন সুন্দর।

বিজ্ঞাপন
গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন