default-image

তিতুলের প্রায়ই মন খারাপ হয়। মন খারাপ হওয়ার কারণগুলো যে খুব অদ্ভুত, তা নয়। বরং সেগুলো শতভাগ যৌক্তিক।

গত সপ্তাহে তিতুলের বড় বোন মিতুলের জ্বর এল। মিতুলের সেকি মজা! সবাই তাকে দেখতে আসে গুঁড়া দুধ, মজার মজার খেলনা আর ফলমূল নিয়ে। তিতুল ফল খেতে পছন্দ করে না। কিন্তু বয়াম থেকে নিয়ে গুঁড়া দুধ খেতে তার বেশ লাগে। খেলনাগুলোও দেখো কী সুন্দর! মিতুলের জ্বর হওয়ায় তাকে একটুও পড়াশোনা করতে হয় না। কিন্তু তিতুলকে ঠিকই সন্ধ্যার পর টেবিলে এসে বসতে হয়।

তিতুলের বড় ভাই রাতুলের কথাও আমরা বিবেচনা করতে পারি। রাতুল হাইস্কুলে পড়ে দেখে কলম দিয়ে লিখতে পারে। কিন্তু আমাদের তিতুল ক্লাস ওয়ানে পড়ে দেখে তার কলম দিয়ে লিখতে মানা। এতে নাকি হাতের লেখা খারাপ হয়ে যায়। তাকে লিখতে হয় পেনসিল দিয়ে। হাতের লেখা খারাপ হলে কি আসলেই কোনো সমস্যা? তিতুল অবাক হয়। তার বাবার হাতের লেখা তো বেশ খারাপ। ব লিখলে ক-এর মতো লাগে। জ লিখলে লাগে ড-এর মতো। কই মা তো তাকে কোনো

বকা দেন না।

অবশ্য তিতুলের মন খারাপ হওয়ার আরও কারণ আছে। তার বড় চাচা আজগর আলী সম্প্রতি রিটায়ার করেছেন। রিটায়ার মানে কি তোমরা জানো? রিটায়ার হলো চাকরি শেষ হয়ে যাওয়া। তারপর লোকজন বাসায় বসে থাকে।

আজগর আলী বাসায়ই থাকেন। বইপত্র পড়েন আর ল্যাপটপে কী সব লেখালেখি করেন। সেদিন তিতুলকে ডেকে ১২ ঘরের নামতা জিজ্ঞাসা করলেন। ক্লাস ওয়ানে পড়ে, এমন কেউ কি ১২ ঘরের নামতা পারে? কেউ পারে না। তবে সে কীভাবে পারবে?

আজগর আলী জানান, এভাবে পড়াশোনা করলে তিতুল ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারবে না। শুধু যে সে ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারবে না, তা-ই নয়, ক্লাস ফাইভে বৃত্তির আশাও ছেড়ে দেওয়া যায়। শুধু ক্লাস ফাইভে বৃত্তির আশাই নয়, একই সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া যায় এসএসসি, এইচএসসিতে এ প্লাস আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সম্ভাবনাও। বিশ্ববিদ্যালয় কী, তা তিতুল অবশ্য জানে না। বড় কোনো স্কুল–টিস্কুল হবে। অবশ্য সে এখন যে স্কুলে আছে, সেটা কিন্তু খুব একটা খারাপ নয়।

বিজ্ঞাপন
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিতুল আর মেনিকে খুঁজে পেল না। সম্ভবত মা–বাবা দুজন মিলে বকা দেওয়ায় খুব রাগ করেছে সে। আপাতত মন ভালো করতে কোথাও ঘুরতে গিয়েছে কি?

এত কিছুর মধ্যেও তিতুলের একটা মন ভালো করা ব্যাপার ছিল—তাদের বাড়ির বিড়ালটা। নাম মেনি। স্কুল থেকে কিংবা খেলা শেষে যখনই সে বাড়িতে ফেরে, তখনই মেনি মিউমিউ করতে করতে তিতুলের পায়ে মাথা ঘষতে থাকে। তোমরা বিশ্বাস করবে না, মেনির গায়ের লোম কী নরম! মনে হয়, শীতের জ্যাকেটের কলার।

কিন্তু সেদিন, মানে গত পরশু একটা বিশ্রী ঘটনা ঘটে গেল। বাবা ছাদে পোষার জন্য বাজার থেকে দুটো কবুতর কিনে আনলেন। কিন্তু হঠাৎই মেনি করল কি, একটা কবুতর ধরে নিয়ে টুপ করে খেয়ে ফেলল। খাটের নিচে কবুতরের পালক পেয়ে তো বাবা রেগে আগুন। মেনিকে অনেক বকাঝকা করলেন। মা-ও মেনিকে কথা শোনালেন বেশ।

শুধু বড় চাচা কিছু বললেন না। সেদিন বিকেলে তিনি একটা চটের বস্তা কিনে আনলেন বাজার থেকে। তিতুল জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা দিয়ে কী করবে, চাচু?’

তিতুল যেন অনেক বোকা বোকা একটা কথা বলে ফেলেছে এই ভঙ্গিতে মিতুল বলল, ‘চটের বস্তা তো বাড়িতে সাজিয়ে রাখা দরকার।

জানিস না?’

রাতুলের গম্ভীর স্বর, ‘তুই পড়িসনি পাট একটি অর্থকরী ফসল?’

আসলেই তো অর্থকরী ফসল দিয়ে তৈরি দামি জিনিস ঘরে রাখা যেতেই পারে।

তিতুল আর কিছু বলল না।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিতুল আর মেনিকে খুঁজে পেল না। সম্ভবত মা–বাবা দুজন মিলে বকা দেওয়ায় খুব রাগ করেছে সে। আপাতত মন ভালো করতে কোথাও ঘুরতে গিয়েছে কি?

মেনির খিদে লেগেছে বলেই না কবুতর খেয়েছে। তাই বলে এত বকা দিতে হবে? খিদে লাগলে তো তিতুলও টেবিলে গিয়ে মুরগির রান চিবোয়। এসব ভাবতে ভাবতে বিকেল, সন্ধ্যা, রাত হয়ে গেল। মেনির দেখা নেই। তার পরদিনও মেনির দেখা নেই।

এর পরের দিনও না।

এর পরের পরের দিনও না।

মেনিকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তোমরা কেউ মেনিকে খুঁজে পেলে তিতুলকে (মিতালিপাড়া প্রাইমারি স্কুল, প্রথম শ্রেণি, রোল নম্বর: ৯) জানাবে কিন্তু। মেনির গায়ের রং সাদা। বাঁ কান আর লেজের রং খয়েরি।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন