default-image

গুড্ডুবুড়া তখন ছিল বোকা। কিছু খেত না। খেলাধুলা করত না। দেশলাইয়ের কাঠির মতো ছিল তার আকার। তখন সে যে কত বোকামো করত! দুধ খেতে চাইত না। কিন্তু একদিন কী করল,

তার ছোট খালা ছবি আঁকার জন্য কাপে সাদা রং গুলিয়ে রেখেছেন, সেই রং সে খেতে

আরম্ভ করল।

এই কী করিস, কী করিস? ছোট খালা

চেঁচিয়ে উঠলেন।

দুধ খাই।

আরে এটা দুধ নয়। সাদা রং। কী করেছিস! রং কেউ খায়?

আবার গুড্ডুবুড়া ছবি আঁকছে। একটা গাড়ি আঁকল সে। তার টিচার তাকে বলেছেন, গাড়ির রং হবে চকলেট কালার। তাই একটা চকলেট গরম করে নরম করে কাগজে লাগাল।

আর রাজ্যের পিঁপড়া এসে তার ছবি আঁকার খাতায় ভিড় জমাল। লাল রঙের পিঁপড়া। গুড্ডু যে–ই সে খাতা ধরতে গেছে, অমনি পিঁপড়ারা এসে তাকে কামড়াতে লাগল। সে কেঁদে উঠল। ও বাবার মার, খেয়ে ফেলল রে!

যখন সে বোকা ছিল, সে মুক্তিযুদ্ধ কী, স্বাধীনতা কী, বুঝতে পারত না।

তার খালা বললেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা ছিল দুষ্ট। তারা বাংলাদেশের মানুষদের ওপর হামলা চালাল। বাড়িঘরে আগুন দিল। কামানের গোলা দিয়ে মানুষ মারতে লাগল।

সে বলল, কামান কী?

কামান হলো ক্যানন।

গুড্ডুবুড়া তার খালার ক্যানন ক্যামেরাটা

ভেঙে ফেলল।

এই, কী করছিস?

এই যে পচা ক্যানন। এটা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে শুট করেছিল পাকিস্তানি সৈন্যরা।

খালা কাঁদতে লাগলেন। আমার এত শখের এত দামি ক্যামেরা!

তারপর গুড্ডুবুড়াকে নিয়ে যাওয়া হলো ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন, গুড্ডুবুড়া, তোমার সবকিছু ঠিক আছে। তবে তোমার একটা সমস্যাও আছে। তুমি খাও না। তোমাকে ঠিকভাবে খেতে হবে। আর ঠিকভাবে খেলাধুলা করতে হবে।

এরপর গুড্ডুবুড়া ঠিকঠাকভাবে খেতে লাগল। সে মাছ খায়, মাংস খায়, দুধ খায়, ডিম খায়, ভাত খায়, রুটি খায়, শাকসবজি খায়, ফলমূল খয়। তার শরীর সেরে উঠতে লাগল। আর সে প্রচুর দৌড়ঝাঁপ করে।

এরপর দেখা গেল, তার বুদ্ধি খুলে গেছে। সে আর বোকা গুড্ডুবুড়া নয়, চালাক গুড্ডুবুড়া।

সে খালার কাছে স্বাধীনতার কাহিনি শোনে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনে।

সে খালাকে বলে, এখন যদি মুক্তিযুদ্ধ হতো, আমি অবশ্যই যুদ্ধ করতে যেতাম। আমি

হতাম মুক্তিযোদ্ধা।

খালা বললেন, এখনকার যুদ্ধ তো আরও ভালো। তোমাকে গুলি করতে হবে না, মানুষ মারতে হবে না। তোমাকে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করতে হবে। সবাই যদি নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করে, তাহলে দেশটা সুন্দর হয়ে যাবে। কাজেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের শপথ হলো, আমরা সবাই নিজের কাজ ভালোভাবে করব। আর দেশের জন্য একটা করে ভালো কাজ করব।

গুড্ডু বলল, আমি স্টুডেন্ট। আমার কাজ হলো ঠিকভাবে লেখাপড়া করা।

রাইট। খালা বললেন।

গুড্ডু মন দিয়ে পড়ে। তারপর সে ভাবল, দেশের জন্য একটা ভালো কাজ কী করা যায়।

তাদের বাড়ির সামনে একটা বাগানের মতো জায়গা আছে। সে বলল, খালা, দেখো, জায়গাটা অযত্নে পড়ে আছে। আমি একটা কাজ করতে চাই। ওই জায়গায় দুটো গাছ লাগাতে চাই। একটা ফলের গাছ। আরেকটা ফুলের গাছ।

খালা বললেন, কী ফুল? কী ফল?

গুড্ডু বলল, আমি লাগাতে চাই একটা বকুল ফুলের গাছ। আরেকটা লাগাতে চাই কামরাঙা ফলের গাছ।

কেন? কামরাঙা কেন?

আমি দেখেছি, কামরাঙা গাছে অনেক পাখি এসে বসে।

বাহ্।

গুড্ডু বলল, আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হচ্ছে। ৫০ বছর পর আমার বয়স হবে ৫৮। তখন যদি বেঁচে থাকি, তাহলে হয়তো গাছগুলো বেঁচে থাকবে, আর ফুল দেবে, ফল দেবে।

খালা বললেন, শাবাশ।

গুড্ডু বলল, তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, খালা। রোজ পানি দিতে হবে। নিয়মিত সার দিতে হবে।

তুই কেমন করে জানলি?

বাহ্। আমি যখন খেতাম না, তখন আমার বুদ্ধি কমে গিয়েছিল না? আমি শুকিয়ে গিয়েছিলাম না? গাছেরও প্রাণ আছে। তাদেরও ঠিকভাবে খেতে দিতে হবে।

গুড্ডু দুটো গাছ লাগাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে। তার ইচ্ছা, স্বাধীনতার ১০০ বছর পর্যন্ত গাছ দুটো বেঁচে থাকুক। ফুল আর ফল দিক।

গুড্ডুবুড়া গাছ লাগাল। তারপর একদিন অনেক বৃষ্টি হলো। তার গাছের গোড়ায় পানি

জমে গেল।

তখন সে খালাকে বলল, খালা, কেন এত পানি জমেছে, জানো?

কেন?

কারণ, ড্রেনগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে

পলিথিন দিয়ে।

তাহলে কী করতে হবে?

আমাদের পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

আইনে তো পলিথিন ব্যবহার বন্ধই।

তাহলে?

তুই বল।

বিকল্প দিতে হবে। পলিথিনের বদলে পাটই হতে পারে সেরা বিকল্প। চটের ব্যাগ কেউ ফেলবেও না। আবার পাটচাষিদের উপকারও হবে।

খালা বললেন, শাবাশ। তুই তোর চিন্তাটা লিখে ফেল। লিখে গোল্লাছুটে পাঠা।

গুড্ডুবুড়া তার চিন্তাটা লিখতে বসে গেল।

বিজ্ঞাপন
গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন