বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ছোট্ট মাকড়সা কিছু বলে না। তার চোখ ছলছল করে। সে খুঁজছিল একটা সুন্দর প্যান্ট। এই অদ্ভুত জামা দিয়ে সে কী করবে? বিষয়টা বুঝতে পেরে বাবা মাকড়সা তাড়াতাড়ি সামাল দেয়, ‘আচ্ছা, থাক থাক। এটা বরং রাখুন। আমরা আরেকটু ঘুরে আসি।’

বাধ্য হয়ে বোন মাকড়সা বাবাকে বলে, ‘শুনেছি, নিউমার্কেটের দোতলায় মাকড়সার প্যান্ট পাওয়া যায়।’

‘সত্যি নাকি?’ মা মাকড়সার বিশ্বাস হতে চায় না। ‘মাকড়সার জন্য আজকাল প্যান্টও বিক্রি হচ্ছে!’

‘যাই। একবার বরং গিয়ে দেখে আসি,’ বাবা মাকড়সা বলে।

মার্কেটে যাওয়ার কথা শুনেই চট করে সোজা হয়ে দাঁড়ায় ছোট্ট মাকড়সা, ‘আমিও যাব! আমিও যাব!’ মুহূর্তে কান্নার বদলে মুখে ফোটে হাসি।

পা ধরাধরি করে বাবা আর ছোট্ট মাকড়সা ছোটে মার্কেটে। দোতলায় এক কোনার দোকানটাতে যায় ওরা। দোকানদারকে বলে, ‘ভায়া, আপনার এখানে মাকড়সার প্যান্ট হবে?’

‘হবে মানে? নিশ্চয়ই হবে।’

দোকানদারের কথা শুনে বাবা হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।

কিন্তু দোকানদার বের করে আনে অদ্ভুত এক পোশাক। লাল–নীল রং। তার ওপর সাদা আঁকিবুঁকি।

‘এটা কী?’ চোখ কুঁচকে তাকায় ছোট্ট মাকড়সা।

‘এটাই তো মাকড়সা ড্রেস’ ছোট্ট মাকড়সার থুতনি নেড়ে দিয়ে বলে দোকানদার। ‘বাবু, তুমি স্পাইডার–ম্যান দেখোনি? এটা স্পাইডার–ম্যানের ড্রেস। সুন্দর না?’

ছোট্ট মাকড়সা কিছু বলে না। তার চোখ ছলছল করে। সে খুঁজছিল একটা সুন্দর প্যান্ট। এই অদ্ভুত জামা দিয়ে সে কী করবে? বিষয়টা বুঝতে পেরে বাবা মাকড়সা তাড়াতাড়ি সামাল দেয়, ‘আচ্ছা, থাক থাক। এটা বরং রাখুন। আমরা আরেকটু ঘুরে আসি।’

ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে একটা দোকানের সামনে সাঁটানো পোস্টারে বাবা মাকড়সার চোখ আটকে যায়। তাতে লেখা, ‘এখানে সুলভ মূল্যে ছোটদের প্যান্ট বানানো হয়। মজুরি ৫০০ টাকা।’

এই তো! পাওয়া গেছে। দোকানে ঢুকে বাবা মাকড়সা দরজিকে বলে, ‘আমার ছেলের জন্য একটা প্যান্ট বানিয়ে দেবেন?’

‘নিশ্চয়ই,’ বলে ফিতা হাতে এগিয়ে আসেন দরজি। ছোট্ট মাকড়সার কোমরের মাপ নেওয়া হয়, পায়ের মাপ নেওয়া হয়। মাপামাপি শেষে দরজি একটা কাগজে লিখে দেন—ছোট্ট মাকড়সার জন্য প্যান্ট। মজুরি—২০০০ টাকা।

বাবা মাকড়সা আঁতকে ওঠে, ‘সে কী! বাইরে তো লেখা ৫০০ টাকা।’

‘ওটা তো মানুষের প্যান্টের জন্য। মানুষের দুটি পা। আর তোমার ছেলের প্যান্টে পা থাকবে আটটি। খাটুনি বেশি। তাই মজুরিও বেশি,’ দোকানদার সাফ সাফ বলে দেন।

কিন্তু অত টাকা তো বাবা মাকড়সার কাছে নেই। মন খারাপ করে দোকান থেকে বের হয়ে আসে ওরা। ব্যস! অমনি আবার আট পা ওপরে তুলে ‘প্যান্ট চাই, প্যান্ট চাই’ বলে চিৎকার করে কান্না জুড়ে দেয় ছোট্ট মাকড়সা। কিছুতেই কান্না থামে না।

মার্কেটের ভেতর লোকজনের ভিড় জমে যায়। সবাই বলতে থাকে, ‘কী হয়েছে? বাবুটা কাঁদছে কেন?’ কী একটা বিব্রতকর অবস্থা!

একজন বুদ্ধি দেয়, ‘অনলাইনে সার্চ করে দেখো, ওর জন্য একটা প্যান্ট পাওয়া যায় কি না।’

আরেকজন বলে, ‘এর চেয়ে বরং চারটা প্যান্ট কিনে জোড়া দিয়ে নাও।’

ভিড়ের মধ্য থেকে টিপ্পনী কাটে একজন, ‘তোমরা এত সুন্দর নকশা করা জাল বুনতে পারো, আর নিজেদের জন্য একটা প্যান্ট বুনতে পারো না?’

ভিড়ের মধ্য থেকে হি হি হা হা শুনে বাবা মাকড়সার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। তারও চোখ ছলছল করে।

এমন সময় ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে ছোট্ট একটা ছেলে। চিৎকার করে বলে, ‘থামো সবাই।’ তারপর ছোট্ট মাকড়সার কাছে এগিয়ে যায়। বলে, ‘প্যান্ট পরার কী দরকার? তুমি বরং একটা লুঙ্গি পরো। লুঙ্গিতে তো আর পা ঢোকানোর সমস্যা নেই।’

তাই তো! বুদ্ধিটা সবার মনে ধরে। খুশিতে তালি দিয়ে ফেলে কেউ কেউ।

অতঃপর মার্কেট থেকে একটা সুন্দর লুঙ্গি কিনে হাসি হাসিমুখে বাড়ি ফেরে ছোট্ট মাকড়সা আর ওর বাবা।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন