ছড়া

আঁকা: হাবিবা জান্নাত
আঁকা: হাবিবা জান্নাত বয়স: ৫ বছর, ভাঙ্গুড়া, পাবনা
বিজ্ঞাপন

ছোট্ট পুকুর

হাসনাত আমজাদ

টলটলে জল, ছোট্ট পুকুর, মন বলে যাই, নামি

দুই পা বাড়াই, একটু এগোই, একটু আবার থামি।

পুকুর পুকুর দুষ্টু পুকুর হাত বাড়িয়ে ডাকে

খুব দূরে নয়, পুকুরটা রোজ বাড়ির পাশেই থাকে।

যায় না কোথাও, যতই বলি, যা সরে যা তুই

উল্টো হাসে, তখন আমি ঘাটের ওপর শুই।

কখনো সে ঠান্ডা নরম

আবার হঠাৎ হালকা গরম

ঋতুর বদল মনে

কিন্তু পুকুর আমার কথা গভীরভাবে শোনে।

চাই আমি চাই যখন যেমন তাকে

গ্রীষ্ম, শীতে, বর্ষাকালে ঠিক তেমনই থাকে।

লাফাই–ঝাঁপাই দুকূল কাঁপাই

ওই বুকে দিই সাঁতার

ছোট্ট পুকুর, কতই পানি–বা তার।

পুকুর পুকুর, বন্ধু আমার, তুই তো কোমল পদ্ম

তোর কারণে জীবন সবুজ, তুই যে অনবদ্য।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শরৎ সবার প্রিয়

খান মোহাম্মদ খালেদ

গুটিয়ে সব কদম-কেয়ার ডালা

আকাশপাড়ের কালো মেঘের মালা

বর্ষামেয়ের বিদায় নেওয়ার পালা

শেষে আবার এল শরৎরানি,

বাতাসে তাই চলছে কানাকানি

কাশবনও আজ দিচ্ছে রে হাতছানি।

আকাশে ওই সাদা মেঘের ভেলা

এদিক–ওদিক ভেসে করে খেলা,

শিউলি ছড়ায় সুবাস ভোরের বেলা।

বৃষ্টিও হয় আবার মাঝে মাঝে

দিনে-রাতে সকাল-দুপুর-সাঁঝে

বৃষ্টি ঝরে—নূপুর যেন বাজে!

আকাশ থাকে বৃষ্টিবিহীন রাতে

তারায় ভরা—তাই দেখে মন মাতে,

বাতাস গায়ে আদর বুলায় প্রাতে।

দিঘি-বিলে শাপলা শোভনীয়—

প্রকৃতি তার রূপের ডালা স্বীয়

সাজায়—শরৎ তাই সকলের প্রিয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বকুলের জন্য

হুমায়ুন তালুকদার

হাটখোলাতে ফুলে ফুলে ভরা বকুলগাছ

ফুল কুড়াতে আমরা গেছি দূরন্ত চার-পাঁচ।

সূর্য ওঠার অনেক আগেই ধরে খেতের আল

হেঁটে হেঁটে পার হয়েছি অল্প জলের খাল।

পথে যেতে ভয় ধরানো ঘন বাঁশের ঝাড়

এক দাপটেই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে হলাম পার।

ধানের খেতে আলো দেখে আমরা মৃতপ্রায়

কীসের আলো এদিক থেকে ওদিকপানে যায়?

ভয়ে জোরে চলতে গিয়ে পায়ের নিচে সাপ

অন্ধকারে পড়ল বুঝি! তাই তো দিলাম লাফ।

ধপাস পড়ে লাগল ব্যথা, আঘাতে কাতরাই

গ্রামের কজন ধরল ঘিরে, এখন কোথায় যাই!

ফুল কুড়ানোর কথায় ওরা চায় না দিতে কান

মারবে নাকি ধরে ধরে, আঁতকে ওঠে প্রাণ।

নাম-পরিচয় বাতলিয়ে পাই আমরা পরিত্রাণ

কাটছে আঁধার আসছে ভেসে বকুল ফুলের ঘ্রাণ।

দৌড়িয়ে যাই বকুলতলায় দুরু দুরু বুক

নেয়নি তো কেউ কুড়িয়ে আগে মন ভারি উৎসুক!

পৌঁছে দেখি ঘাস-গালিচায় ফুল ঝরে ঝুরঝুর

কী আনন্দ! চোখ ভরে যায়, প্রাণে বাজে সুর।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবার হবে

রাজীব কিষাণ

খেলার মাঠে

পথ ও ঘাটে

নেই কোলাহল ছুটোছুটি

থমকে গেছে সকল কিছু

নেই খুশি নেই লুটোপুটি।

আবার তবে

ঠিক যে হবে

উঠবে দেখো আলোর হাসি

ফুল ফুটবে; ডাকবে পাখি

বাজবে সুরে মিঠেল বাঁশি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন