বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টুনটুন বলল, ‘আশপাশে ঘুরে দেখি, চল। কিছু হয়তো পাওয়া যাবে।’

গ্রামে কোনো খাবারের সমস্যায় পড়েনি ওরা। পাড়ার চাচিরা তো প্রায় প্রতিদিনই বেচে যাওয়া মাছ-মাংস ওদের খেতে দিতেন। মাঝেমধ্যে গরুর দুধও খাওয়াতেন। এসব ভেবে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল ওরা। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক জায়গায় কিছু মাছের কাঁটা পড়ে থাকতে দেখল। সেগুলোই হাপুসহুপুস করে খেয়ে নিল দুজন মিলে।

খাওয়া শেষে ওদের দেখা হলো মিনির সঙ্গে। মিনি শহরের বিড়াল। ছোটবেলা থেকে ও এই শহরেই বড় হয়েছে। কিন্তু ও খুব রোগা। পুটলু ও টুনটুন মিনির কাছ থেকে জানতে পারল, শহরের বিড়ালেরা ঠিকমতো খাবার পায় না। ওদের অনেক কষ্ট। মিনির কথা শুনে পুটলু আর টুনটুনের অনেক খারাপ লাগল। ওদের ইচ্ছে করল শহরের অসহায় বিড়ালদের পাশে দাঁড়াবে। ওদের জন্য কিছু করবে। সেদিন থেকে টুনটুন, পুটলু আর মিনি অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেল।

দুই দিন পর ওরা দেখল, ওদের বয়সী এক ছোট্ট কুকুরছানা রাস্তায় বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ওরা কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কাঁদছ কেন?’

কুকুরছানাটির নাম রিয়ো। ও বলল, ‘আমি একসময় মনিবের বাসায় থাকতাম। কিন্তু কদিন আগে মনিব আমাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমার কেউ নেই।’

টুনটুনরা ভেবে দেখল, এই এত্ত বড় পৃথিবীতেও রিয়ো একা! সব শুনে পুটলু, টুনটুন ও মিনি রিয়োর পাশে দাঁড়াল। তারপর থেকে রিয়ো ওদের সঙ্গেই থেকে গেল। ওরা চারজন এখন অনেক ভালো বন্ধু। শহরের অসহায় বিড়াল-কুকুরদের জন্য রিয়োরও খুব খারাপ লাগে। একদিন রিয়োর মাথায় একটা চমৎকার বুদ্ধি এল। ও শুনেছিল, শহরের মানুষেরা অসহায় মানুষদের সাহায্য করার জন্য অনেক ধরনের সমাজ গড়ে তোলে। তাই রিয়ো বন্ধুদের একটা বিড়ালসমাজ গঠন করার বুদ্ধি দিল। রিয়োর বুদ্ধিটা তিনজনেরই বেশ পছন্দ হলো। তাই ওরা শহরের আরও অনেক অসহায় বিড়ালদের নিয়ে গড়ে তুলল এক সমাজ। সেই সমাজের সব বিড়াল একে–অপরের বন্ধু। ওরা সবাই মিলে খাবার জোগাড় করে একসঙ্গে ভাগ করে খায়, একসঙ্গে খেলা করে।

বিড়ালসমাজে কিন্তু কেবল বিড়াল নয়, রিয়োর মতো কিছু কুকুরছানাও আছে। ওরা সবাই খুব ভালো বন্ধু। পুটলু আর টুনটুন বুঝতে পারল, এখন ওদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে। মিনি, রিয়ো ও সমাজের বাকি সদস্যরা ওদের যেতে দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু বন্ধুদের অনেক বুঝিয়ে ওরা বিদায় নিল। আবার ফিরে গেল ওদের গ্রামে। তখন শহরের বিড়ালেরা আর কষ্টে নেই। ওরা অনেক আনন্দে আছে। মিনি আর রিয়ো পুটলু আর টুনটুনের বন্ধুত্বের স্মৃতি হিসেবে ওদের সমাজের নাম দিল ‘টুনটুন-পুটলুর বিড়ালসমাজ’।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন