বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যেই না বলা, অমনি দপ করে চারপাশটা কেমন যেন নিভে গেল। চোখভরা পানি নিয়ে টিমটিম করে জ্বলে নিভে যেতে যেতে ভেগা বলে, ‘তুমি যদি আমাদের মেঘবন্ধুদের সঙ্গে খেলা না করো, তাহলে তো ওরা মনে অনেক কষ্ট পাবে আর তুমিও জানবে না মেঘেরা কত ভালো বন্ধু!’

নিশি জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা ভেগা, এই যে তুমি বললে একসময় তোমাদের অনেক বন্ধু ছিল আমার মতো, তারা কোথায় গেল? কেন তারা আর আগের মতো গল্প করে না তোমাদের সঙ্গে? ঝগড়া হয়েছে নাকি?’

‘আরে নাহ্! ঝগড়া হবে কেন? আগে যারা আমাদের বন্ধু ছিল, তাদের কারও মুঠোফোন বা টিভি ছিল না। সন্ধেবেলা ওরা পড়াশোনা শেষ করে ছাদে উঠে আমাদের সঙ্গে কত গল্প করত! গান শোনাত, ছড়া বলত। এখন তো তোমাদের সবার নতুন বন্ধু হয়েছে মুঠোফোন, ট্যাব আর টিভি। আমাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোথায় তোমাদের!’ কষ্টে ভেগা প্রায় যেন নিভেই যায় আরকি!

ভেগার কষ্ট দূর করতে নিশি তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, ‘দেখো দেখো, তোমাদের নিয়ে আমারও একটা ছড়া জানা আছে, এই যে শোনাচ্ছি...,’ এই বলে ‘টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টার’ গেয়ে ওঠে সে। ওর ছড়াগান শুনে ভেগা আর তার বন্ধুরা খুশিতে ঝিকমিকিয়ে ওঠে। অবাক হয়ে নিশি দেখে, চারপাশটা কেমন নীলচে আলোয় ভরে গেল। এমনকি গোলগাল রুপালি চাঁদ এসেও হাজির হয় ওর বারান্দার আকাশে।

নিশির যে কী ভালো লাগে! ও ঠিক করে, এখন থেকে প্রতিদিন রাতে ও এসে তারাদের সঙ্গে গল্প করবে, ছড়া শোনাবে। ছেলেবেলায় নানির মুখে শোনা গান গাইবে, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ, ঝিকিমিকি তারা...।’ ওর কথা শুনে আনন্দে পাঁচ হাতে তালি দিয়ে ওঠে ভেগা।

‘তবে আমার কিন্তু মোবাইলফোনে কার্টুন দেখতেও ভালো লাগে, ভিডিও গেম খেলতেও মজা লাগে,’ সত্যি কথাটা বলে ফেলে নিশি, ‘ভাবছি, এখন থেকে দিনের বেলায় মুঠোফোনে খেলব আর রাতে তোমাদের সঙ্গে সময় কাটাব।’

যেই না বলা, অমনি দপ করে চারপাশটা কেমন যেন নিভে গেল। চোখভরা পানি নিয়ে টিমটিম করে জ্বলে নিভে যেতে যেতে ভেগা বলে, ‘তুমি যদি আমাদের মেঘবন্ধুদের সঙ্গে খেলা না করো, তাহলে তো ওরা মনে অনেক কষ্ট পাবে আর তুমিও জানবে না মেঘেরা কত ভালো বন্ধু!’

‘তাই বুঝি? কিন্তু ওরা তো দেখি কেবল উড়ে উড়ে বেড়ায়। তোমাদের মতো এক জায়গায় তো থাকে না।’ নিশি বলে।

‘ঠিক বলেছ! আমাদের মেঘবন্ধুরা আসলেই বেশ চঞ্চল। এক জায়গায় বেশিক্ষণ যেমন থাকে না, তেমনি আবার এক রকম বেশেও থাকতে পারে না। তুমি এক কাজ করো, ছুটির দিনে আকাশের দিকে তাকিয়ো। দেখবে, মেঘবন্ধুরা কখনো হাতি সেজে, কখনো পাখি আবার কখনোবা ভালুক সেজে উড়বে তোমার আশপাশে। তবে সবচেয়ে মজা করে ওরা বৃষ্টির আগে। তুমি যদি ছাদে উঠে চিত হয়ে শুয়ে একভাবে তাকিয়ে থাকো আষাঢ়ের মেঘের দিকে, তাহলে ঠিক দেখতে পাবে

কালো–সাদা মেঘগুলো তোমার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে!’ হাসতে হাসতে বলতে থাকে ভেগা।

ঠিক বিশ্বাস হয় না নিশির। কিন্তু এত দারুণ ঝিকিমিকি ভেগার কথা অবিশ্বাসও করতে পারে না ও।

পরের শুক্রবারের ছুটির দিনে নিশি ছাদে যায়। ভেগার কথামতো চিত হয়ে শুয়ে দেখে, সত্যিই তো! মেঘবন্ধুরা একবার তুলা, একবার পাহাড়, একবার গাছ হয়ে খেলা করে ওর সঙ্গে।

খুব মজা পায় নিশি। একভাবে তাকিয়ে থাকে ও মেঘের দিকে। আরে আরে! একি কাণ্ড! সত্যিই তো মেঘগুলো ঝাঁপিয়ে লাফ দিচ্ছে যেন নিশির ওপর। খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে নিশি। আর ওদিকে ঘরের ভেতরে একলা পড়ে থাকে ওর টিভি আর মুঠোফোনটা।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন