বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আবুর চিৎকারে জমে গেছে পাড়ার বহু মানুষ। একটু সময়েই জল গিলে দুই ভাই–বোনের পেট ফুটবল, দম বন্ধ। আবুই কাজলের দুখানা পা ওপর দিকে ধরে মাথা নিচের দিকে রেখে ঝাঁকাতে লাগল। আনিকাকে ঝাঁকাচ্ছেন তার বাবা।

পুকুরপাড়ের সুপারিগাছের মাথায় ছিল আবু গাছারু, পাকা সুপারির কাঁদি তার হাতে। এই দৃশ্য দেখে সে চরাচর কাঁপানো চিৎকার দিয়ে সুড়ুৎ করে নেমে এল গাছের গোড়ায়। তারপর দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপ দিল জলে। জলের তলাটা পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এগিয়ে গিয়ে সে দুহাতে দুজনের দুখানা পা ধরে ফেলল। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ওদের নিয়ে সাঁতরে সে এল ঘাটলায়। তখন জলে লাফিয়ে নামলেন দাদি, মাসহ অন্যরা।

আবুর চিৎকারে জমে গেছে পাড়ার বহু মানুষ। একটু সময়েই জল গিলে দুই ভাই–বোনের পেট ফুটবল, দম বন্ধ। আবুই কাজলের দুখানা পা ওপর দিকে ধরে মাথা নিচের দিকে রেখে ঝাঁকাতে লাগল। আনিকাকে ঝাঁকাচ্ছেন তার বাবা। দাদি কপাল চাপড়ে চিৎকার করে কাঁদছেন, ‘কী সব্বোনাশ গো! ঘুঙুরের শব্দ কীভাবে আমার কান থেকে হারিয়ে গেল রে!’

দুজনকেই উপুড় ও চিৎ করে পিঠ ও পেটে চাপ দিয়ে দিয়ে পেটের জল বের করে ফেলা হলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ খুলে তাকিয়েই আনিকা ‘দাদি’ বলে কেঁদে উঠল। কাজলও তা–ই করল। পেটের জল দুজনেরই বেরিয়ে গেছে। কাজল কাঁদছে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে।

কাজলের বাবা এগিয়ে এসে মাটিতে বসা আবুর মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘আবু রে! তুই না দেখলে আজ তো আমরা নিঃস্ব হয়ে যেতাম রে! তোকে আমি অনেক কিছু দিতে চাই। কী নিবি তুই বল।’

আবু নির্বাক চোখে তাকাল কামাল কাকার দিকে, চোখ ওর জলে ভরা। ভেজা মাথার জল গড়িয়ে চোখে জমেছে, নাকি কাঁদছে, বোঝা যাচ্ছে না।

‘কী চাস তুই, বল আমাকে আবু!’

আবু তো নিষ্পলক তাকানো কাকার চোখের দিকে। সমবেত সবাই আবুকে চেনার মতো করে চেনে। আবু ক্লাস সেভেনে পড়ত। করোনা আসতেই পড়াশোনা বন্ধ করতে হলো। তার বাবাও গাছারু ছিলেন। করোনার শুরুর দিকে মুন্সিবাড়ির নারকেলগাছ থেকে পড়ে কোমর ভাঙেন। লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন এখন। চারজনের সংসার অচল। আবুও পাকা গাছারু। বানরের মতো গাছে চড়তে পারে সে। সে ছিল ইন্টার স্কুল স্পোর্টসের সেরা সাঁতারু। জলের তলায় ডুব দিয়ে থাকতে পারে প্রায় এক মিনিট। এই বয়সেই সংসারের ভারী বোঝা তার কাঁধে। পানের বরজের শ্রমিক। কৃষিশ্রমিক। বৃক্ষশ্রমিক। মা কাজ করেন একটা ইটভাটায়।

কাজলের বাবা এবার আবুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘কথা বল, আবু।’

আবু বলল, ‘কাকা, আমি স্কুলে যাব।’

‘অবশ্যই যাবি। স্কুল তো খুলেছে, কাল

থেকেই যাবি।’

‘আমার মা–বাবা আর দাদি...?’

‘সব দায়িত্ব আজ থেকে আমার।’

আবুর বাবা লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন সব। বসে পড়লেন। চোখ ভরা জল। আবু উঠে দাঁড়াল। এগিয়ে গিয়ে কাজল আর আনিকাকে দেখল। ওদের কোমরের ঘুঙুরে নিক্বণ তুলল। তারপর আনন্দে চিৎকার দিয়ে কয়েক পা দৌড়ে উল্টোভাবে ডিগবাজি দিয়ে পড়ল তালপুকুরের জলে।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন