default-image

জয়ঢাক

বিমল গুহ

এসেছে শরৎ

কাশফুল ফোটে বনে

প্রকৃতির রূপে

দুর্গার আগমনে!

করোনার থাবা

ফেলেছে অশুভ জাল,

পৃথিবীর মুখ

ঢাকা রবে কতকাল?

দেখি মেঘে মেঘে

বিদ্যুৎ দেয় উঁকি

সূর্যের লাল

পৃথিবীর অভিমুখী!

করোনা এবার

উবে যাবে দূর মেঘে,

জেগেছে মানুষ—

আবার উঠেছে জেগে!

এবার কালিমা

ধুয়ে যাক মুছে যাক,

শোনো—দিকে দিকে

বাজে ওই জয়ঢাক!

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ সংবাদ

ব্রত রায়

বাড়ির কাছেই পুজোমণ্ডপ—দুর্গাপুজোর ভেন্যু

সুপ্রীতি ঘোষ—মাইকে ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’।

অষ্টমী পুজো আজকে সেখানে দারুণ আড়ম্বর

আমি তো যাইনি সেই উৎসবে, কারণ আমার জ্বর।

শরৎসন্ধ্যা—বাতাসে ভাসছে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ

আমার দুচোখে মেঘলা আকাশ, শ্রাবণ দিনের বান।

হঠাৎ মাইকে বিশেষ ঘোষণা—হারিয়ে গিয়েছে কেউ

আমার বুকের পাড় ভেঙে দেয় পদ্মা নদীর ঢেউ!

‘ষোলো বছরের মৃন্ময়ী দাস, পূর্বপাড়ায় বাড়ি

যেখানেই থাকো ঘোষণামঞ্চে চলে এসো তাড়াতাড়ি।

মৃন্ময়ী, তুমি শুনতে পাচ্ছ? ঘোষণামঞ্চে এসো

এখানে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে তোমার মাসি ও মেসো।’

‘ষোলো বছরের মৃন্ময়ী দাস...’ ঘোষণা চলতে থাকে

আমার মনের মধ্যে কে যেন শুধুই কুডাক ডাকে।

ষোলো বছরটা বড্ড খারাপ—নানান রকম ভীতি

মৃন্ময়ী, তুমি ফিরে এসো, হোক সকল ভীতির ইতি।

ঘোষণা থেমেছে—মাইকে এখন হিন্দি গানের হানা

মৃন্ময়ী দাস ফিরে এসেছে কি? হয় না আমার জানা।

রাত বেড়ে যায়, পাল্লা দিয়েই বাড়ছে আমার জ্বরও

মৃন্ময়ী দাস, তোমার জন্য বুক কাঁপে থরোথরো।

মৃন্ময়ী দাস…মৃন্ময়ী দাস… কান্নারা আসে ধেয়ে

এখন সময় অনুকূল নয়… হারিয়ে যেয়ো না, মেয়ে!

মন্তব্য পড়ুন 0