default-image

গান কে না ভালোবাসে! কিন্তু গানের শিল্পী যদি হয় মশা, তাহলে? বিরক্তির অন্ত থাকে না। কেবল রক্ত খেলেও না হয় হতো; মশার কামড়ে যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা ধরনের রোগে ভুগতে হয়। ফলে মশা আমাদের শত্রু। আর এই শত্রু দূর করার অন্যতম অস্ত্র হলো কয়েল। কয়েল উদ্ভাবিত হলো কীভাবে?

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে জাপানে উদ্ভাবিত হয় মশার কয়েল। এইচিরো উয়েমা নামের এক ব্যবসায়ী মশা তাড়াতে প্রথম পাইরেথ্রিন নামে এক উপাদান ব্যবহারের ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি মান্দারিন ফলের ব্যবসা করতেন। এ সময় এইচিরোর সঙ্গে ফুকুজাওয়া ইউকিচির নামের একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। ফুকুজাওয়া তাঁকে পাইরেথ্রাম নামে একটি ফুল গাছ চিনিয়ে দেন। এইচিরো তখন জানতে পারেন, এই গাছের ফুলে এমন এক উপাদান আছে, যার কারণে মশা পালিয়ে যায়। আর সেটাই হলো পাইরেথ্রিন।

বিজ্ঞাপন

এরপর এইচিরো পাইরেথ্রাম ফুল শুকিয়ে তার গুঁড়ার সঙ্গে কমলার খোসার গুঁড়া ও স্টার্চ মিলিয়ে একটি ধূপকাঠি তৈরি করেন। ধূপকাঠিটি বেশ ভালো কাজ করে। জ্বলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে। কিন্তু এত অল্প সময় জ্বললে মশা তো দূর হবে না। ক্রেতা বা ব্যবহারকারীকেও তাতে সন্তুষ্ট করা যাবে না। তাই এইচিরো আরও বড় ধূপকাঠি তৈরি করে বাজারজাত করতে শুরু করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এত বড় ধূপকাঠি বহন করা তো ঝামেলার কাজ। এখন কী করা যায়? এইচিরো নতুন কিছু ভাবতে থাকেন। সে সময় তাঁর স্ত্রী ইউকি ধূপকাঠিটিকে কুণ্ডলীর আকার দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেটা ১৮৯৫ সালের কথা। তারপর এইচিরোর কয়েলটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

কয়েল বিভিন্ন আকারের হতে পারে। তবে আদর্শ মাপ হলো লম্বায় ৭৫ সেন্টিমিটার আর দৈর্ঘ্যে ১০ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার; যা ৭ ঘণ্টা মশা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। যদিও এখন মশা মারার স্প্রে সহজলভ্য, এবং সেগুলো ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে। কিন্তু সবুজ রঙের মশার কয়েল এখনো দারুণ জনপ্রিয়।

আরেকটি ব্যাপার, কয়েল ব্যবহারের সময় কিন্তু খুব সাবধান থাকতে হবে, না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গ্রন্থনা: এইচ এম জাকারিয়া

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস

মন্তব্য পড়ুন 0