default-image

মহাকাশ পাড়ি দেবেন এক বিজ্ঞানী। সাধারণ কোনো ধাতু দিয়ে তো মহাকাশযান তৈরি সম্ভব হবে না। তাই তিনি ব্যাঙের ছাতা, সাপের খোলস আর কচ্ছপের ডিম দিয়ে একটা মিশ্রণ বানালেন! এবার তাতে ট্যানট্রাম বোরোপ্যাক্সিনেট, না হয় একুইয়স্ ভেলোসিলিকা—দুটোর মধ্যে একটা রাসায়নিক মিশিয়ে দিলেই হবে কেল্লা ফতে!

প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু তাঁর ডায়েরিতে লিখে গেছেন এই গবেষণার কথা। আর সেই ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি’ ১৯৬১ সালে সন্দেশ পত্রিকায় ছেপে দেন সত্যজিৎ রায়। তার বেশ কয়েক বছর পর, ১৯৬৫ সালে, সন্দেশ পত্রিকায়ই ছাপা হয় এক গোয়েন্দা গল্প। নাম ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’। ফেলুদা নিয়ে ধারাবাহিক গল্প লেখার কোনো পরিকল্পনা সত্যজিতের ছিল না। কিন্তু প্রথম গল্প ছাপা হওয়ার পর তা এতই জনপ্রিয় হয় যে সত্যজিৎ পরে প্রায় প্রতিবছর সিনেমা তৈরির ফাঁকে ফাঁকে ফেলুদার গল্প লিখে গেছেন।

রহস্যের সমাধান করতে ফেলুদা বিভিন্ন জায়গায় গেছে। ফেলুদার গোয়েন্দা গল্প তাই একই সঙ্গে ভ্রমণের গল্পও। সত্যজিৎ চলচ্চিত্রের কাজে বিভিন্ন সময় যেসব জায়গায় গেছেন, ফেলুদাকেও তিনি সেসব জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজ্ঞানী প্রোফেসর শঙ্কুও তাঁর নানা উদ্ভাবনের সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় গেছেন। তবে এসব অভিযান অনেকটাই কল্পনার। সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায় একবার বলেছেন, সত্যজিৎ যেসব জায়গায় যেতে পারেননি, কিন্তু যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেসব জায়গায় তিনি পাঠিয়েছেন শঙ্কুকে।

প্রোফেসর শঙ্কু তার উদ্ভাবনগুলো করেছেন ভারতের বিহারের গিরিডি শহরের ল্যাবরেটরিতে। আর প্রদোষ চন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলু মিত্তিরের সমস্ত কর্মকাণ্ডের ‘হেড কোয়ার্টার’ দক্ষিণ কলকাতার রজনীসেন রোডের ২১ নম্বর বাড়িটি। সহকারী হিসেবে প্রথম থেকেই সঙ্গে ছিল তোপসে। তার বয়ানেই সত্যজিৎ লিখেছেন ফেলুদার ৩৫টি সম্পূর্ণ ও ৪টি অসম্পূর্ণ গল্প। আর এসব গল্পে পাওয়া যায় গোয়েন্দা কাহিনি লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু নামের মজার এক চরিত্রকে।

অন্যদিকে ৩৮টি সম্পূর্ণ ও ২টি অসম্পূর্ণ গল্পে জানা যায় শঙ্কুর ৭২টি উদ্ভাবনের কথা। তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা মিরাকিউরল বড়ি, যা খেলে সর্দি ছাড়া সব অসুখ সেরে যায়, এমনকি ক্যানসারও। ২৪ ঘণ্টার খিদে-তেষ্টা মিটে যায় তার তৈরি বটিকা ইন্ডিকার একটি বড়ি খেলে।

সত্যজিতের আরেক জনপ্রিয় চরিত্রের নাম তারিণী খুড়ো। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের বেনিয়াটোলা লেনের চিরকুমার তারিণী খুড়ো দারুণ গল্পবলিয়ে। একসময় থেকেছেন আমাদের ঢাকায়। তার মূল শ্রোতা পাঁচজন—পল্টু, ন্যাপলা, ভুলু, চটপটি ও সুনন্দ। পল্টুর বয়ানেই তারিণী খুড়োর ১৫টি গল্প লিখেছেন সত্যজিৎ।

কোথায় আছে ফেলুদা, প্রফেসর শঙ্কু আর তারিণী খুড়োর এসব গল্প? মূলত চারটি বইয়ে—ফেলুদা সমগ্র ১–২, শঙ্কু সমগ্র গল্প ১০১। শেষমেশ কথা একটাই—গল্পগুলো না পড়লে বিশাল এক আনন্দের খনি অধরা থেকে যাবে!

বিজ্ঞাপন
গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন