default-image

গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে সুন্দরবন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলো চার টাইগার বন্ধু। ওরা সাঁতরে নদী পার হয়ে প্রথমে বাস, তারপর রিকশায় চড়ে খুলনা শহরে এল। খুলনা রেলস্টেশনের পাশের রেস্তোরাঁয় বসে খেল শিঙাড়া, সঙ্গে চা। জীবনে প্রথমবার চা-শিঙাড়া খেয়ে ওদের মনে ভারি আনন্দ।

বড় টাইগারটা বাকি তিনটিকে প্ল্যাটফর্মে বসিয়ে টিকিট কেটে আনল। ট্রেনে উঠে ভারি মুশকিলে পড়ে গেল ওরা। পড়তে তো জানে না কেউই, বুঝবে কী করে কার কোন সিট। টিটিরাও ভয়ে ওদের কাছে আসছেন না। চার টাইগারের মধ্যে ছোটটা ভাবে, এখন উপায়! ওমনি দেখে, এক দাদু ওদের দিকেই আসছেন। কাছে এসে বড় টাইগারের মুখ থেকে টিকিট নিয়ে সিটগুলো দেখিয়ে দিলেন। ধন্যবাদ জানাতে দাদুর পেটে আলতো করে গুঁতো মারল টাইগারটা। গুঁতো খেয়ে দাদু ফিকফিক করে হেসে দিলেন। নিজেদের সিট পেয়ে টাইগাররা আরাম করে বসল। অনেকক্ষণ সাঁতরে ওদের শরীর ক্লান্ত; তাই ঘুমিয়ে পড়ল কিছুক্ষণের মধ্যেই।

সকালে উঠে টাইগাররা দেখে, ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কৌতূহলী মানুষেরা ওদের দেখছে। আড়মোড়া ভেঙে ওরা ট্রেন থেকে নামল। জগিং করতে করতে ওরা চলে এল মিরপুর স্টেডিয়ামে।

স্টেডিয়ামের বাইরে এত্ত এত্ত মানুষ। বিশাল জটলা বাধিয়ে হইচই করছিল সবাই। হঠাৎ জলজ্যান্ত টাইগার দেখে সবাই ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে সারি বেঁধে দাঁড়াল। কারও হাতে বাংলাদেশের পতাকা, কারও হাতে চার-ছক্কার প্ল্যাকার্ড। গালে নানান রঙের আলপনা। প্রিতম বাবার হাত ধরে সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ি থেকে স্টেডিয়ামের সামনে নামার পর একটা ভাইয়া ওর দুই গালে দুটি বাঘের ছবি এঁকে দিয়েছে। প্রিতমের গালে নিজেদের ছবি দেখে জ্যান্ত টাইগাররা খুব খুশি।

স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গেট দিয়ে সবাই ভেতরে ঢুকল। মাঠের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম গ্যালারিতে বসল সবাই একে একে। টাইগারদের দেখে গ্যালারিভরা দর্শক একদম চুপ। কেউ ভেবেই পাচ্ছে না টাইগারগুলো সুন্দরবন থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামে এল কী করে!

খেলা চলছে। মাঠের টাইগাররা একটু পরপর চার-ছক্কা মারছে। আনন্দে লাফাচ্ছে গ্যালারির টাইগাররা। ওদের উৎসাহ দিতে দর্শকও হাততালি দিচ্ছে জোরসে। সবাই গলা মিলিয়ে বলছে, ‘টাইগার, টাইগার, টাইগার!’

বিরতির সময় মাঠে টাইগাররা পানি পান করছে। গ্যালারিতে বসে প্রিতম মায়ের হাতে বানানো পিঠা খাচ্ছে। পাশে বসা টাইগারটা বড় বড় চোখে তাকাল পিঠার দিকে। তাকাবে না! খিদেয় ওর পেটের ভেতর ঢিসুম-ঢুসুম চলছে যে! প্রিতমের মায়া হলো। বলল, ‘খাবে, বাঘ মামা?’ টাইগার হাসিমুখে মাথা নাড়ল, ‘হুম।’

বাঘ মামাকে পিঠা দিল প্রিতম। বলল, ‘তোমাদের সুন্দরবনে হয় এ রকম পিঠা?’

টাইগার মন খারাপ করে মাথা নাড়ল, ‘না।’

বিজ্ঞাপন
স্টেডিয়ামের বড় পর্দাগুলোতে মাঠের টাইগারদের পাশাপাশি গ্যালারির টাইগারদেরও দেখাচ্ছে। চার-ছক্কার খুশিতে হুংকার দিচ্ছে ওরা। ওদের এসব কাণ্ডকীর্তি বাসায় বসে টিভিতে দেখছিলেন প্রিতমের মা। হঠাৎ তার চোখে পড়ল, প্রিতম একটা নাদুসনুদুস টাইগারের পাশে বসে আছে। কী সর্বনাশ!

বিরতির পর আবার খেলা শুরু হলো। মাঠের টাইগার বিশাল এক ছক্কা মারল। বলটি উড়ে উড়ে উড়ে উড়ে একেবারে গ্যালারির টাইগারের পেটে এসে পড়ল। অন্য কোনো দিন হলে এতক্ষণে সে রাগে গজগজ করত। আজ একটুও রাগ করল না। উল্টো আনন্দে লাফাতে লাগল। টাইগারদের সঙ্গে লাফাতে শুরু করল গ্যালারিভরা দর্শকও। সবার এত্ত ভালোবাসা পেয়ে খুব আনন্দ হলো সুন্দরবনের টাইগারদের। ভাবল, পরেরবার খেলা দেখতে এলে পরিবারের সবাইকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে।

আ-উ-উ-উ-ট! বোলারের আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুললেন। আউট করতে পেরে বোলার দুই হাত পাখির ডানার মতো ছড়িয়ে মাঠে দৌড়াচ্ছে। দেখে রাগে গজগজ করতে লাগল গ্যালারির টাইগাররা। তবে নতুন টাইগার ব্যাটসম্যান মাঠে নেমেই চার-ছক্কা মারতে শুরু করল পটাপট।

স্টেডিয়ামের বড় পর্দাগুলোতে মাঠের টাইগারদের পাশাপাশি গ্যালারির টাইগারদেরও দেখাচ্ছে। চার-ছক্কার খুশিতে হুংকার দিচ্ছে ওরা। ওদের এসব কাণ্ডকীর্তি বাসায় বসে টিভিতে দেখছিলেন প্রিতমের মা। হঠাৎ তার চোখে পড়ল, প্রিতম একটা নাদুসনুদুস টাইগারের পাশে বসে আছে। কী সর্বনাশ! মায়ের ভীষণ চিন্তা হলো। সুন্দরবনের টাইগার প্রিতমকে যদি কামড়ে দেয়? সঙ্গে সঙ্গে প্রিতমের বাবাকে ফোন করলেন মা। বাবা বললেন, ‘চিন্তার কিচ্ছু নেই। তোমার ভাইয়ের সঙ্গে খুব ভাব হয়েছে প্রিতমের।’

শুনে মা অবাক হয়ে বললেন, ‘ভাই? মাঠে আমার ভাইকে পেলে কোথায়? ও তো ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখছে।’

বাবা বলেন, ‘কেন? সুন্দরবনের টাইগার! প্রিতমের বাঘ মামা!’

এই কথা শুনে মা হাসতে হাসতে ফোন রাখলেন। মনে মনে বলেন, ‘মামা-ভাগনে যেখানে, আপদ নেই সেখানে।’

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন