default-image

ছেলেবেলায় নিয়মিত বাজার করতেন রশীদ হায়দার। সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে দেখতেন নতুন নতুন সব সিনেমা। তাই ওই বয়সে সিনেমা হলের দ্বাররক্ষী হতে চেয়েছিলেন। আরেকটু বড় হয়ে ভূত চেপেছিল রেলের টিকিট চেকার হওয়ার। যাতে করে বিনা পয়সায় ঘুরে বেড়ানো যায় দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু সেসবের কিছুই হওয়া হয়নি।

রশীদ হায়দার হয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক। তোমরা জানো, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। সেই শহীদদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বুদ্ধিজীবী। পাকিস্তানি বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাঁদের। রশীদ হায়দার ওই শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিলেন দুঃসহ স্মৃতিগুলো। লেখাগুলো ১৩ খণ্ডে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি থেকে। গ্রন্থমালাটির নাম স্মৃতি: ১৯৭১

বিজ্ঞাপন
default-image

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে কিশোর উপন্যাসও লিখেছেন রশীদ হায়দার। ১৯৯২ সালে সাহিত্য প্রকাশ থেকে বেরিয়েছিল তাঁর লেখা পুনর্জন্ম বইটি। পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া একজনের গল্প আছে ওতে। আবার শোভনের স্বাধীনতা বইটিতে আছে ১৯৭১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক কিশোরের গল্প, যাকে গভীর রাতে পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায় পাকিস্তানি মিলিটারির সদস্যরা। শোভন নামের ওই কিশোর কি বেঁচেছিল? আমরা জানি না। বইটি বেরিয়েছিল ২০০০ সালে, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে।

ছেলেবেলায় বইয়ের পোকা ছিলেন রশীদ হায়দার। সে সময় পথের পাঁচালী পড়ে নিজেকে অপু ভাবতেন। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসটির সঙ্গে জন্মস্থান পাবনা ও সেখানকার মানুষদের দারুণ মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। সেসব কথা লিখেছেন আমার স্কুল বইয়ে। সেখানে লিখেছেন স্কুল আর স্কুলের চৌকাঠ পেরিয়ে পৃথিবীর পাঠশালার কথা। বইটি বেরিয়েছে ২০০৮ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে। তোমাদের জন্য একটা গল্পের বইও লিখেছিলেন রশীদ হায়দার—গোলাপের জন্ম। তাঁর কিশোর উপযোগী নাটকের বইয়ের নাম গোলাপ গোলাপ। তবে ১৯৮০ সালে প্রকাশিত যদি দেখা পাও (আরো প্রকাশন) তাঁর অনবদ্য কিশোর উপন্যাস। বইটির একদম শেষে ছেলেবেলায় বন্ধু হারানোর বেদনায় কাতর দুলু নামের চরিত্রটি বলে, ‘হালকাপাতলা গড়নের, শ্যামল, টানাটানা চোখ–নাক, বাম কপালটা কাটা একটা দুখি দুখি ছেলের তোমরা যদি দেখা পাও, বোলো, সমস্ত অপরাধ স্বীকার করে তোমার বন্ধু দুলু তোমারই অপেক্ষা করছে।’

ওই হারিয়ে যাওয়া কিশোরের জন্য বুকটা কেমন হু হু করে ওঠে, না?

মন্তব্য পড়ুন 0