গল্প

ল্যাপটপ নিয়ে সংকট

বিজ্ঞাপন
default-image

ল্যাপটপ নিয়ে মহাসংকটে আকিব। হঠাৎ করেই যন্ত্রটা অকেজো। কোনোভাবেই অন হচ্ছে না। পাওয়ার নিচ্ছে ঠিকই, সিস্টেম ওপেন হচ্ছে না। তাই সেটা সারিয়ে আনতে কয়েক দিন ধরে আকিবকে বাইরে যেতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। কিন্তু কোনো আশার আলো নেই। কী হয়েছে, ঠিক বুঝতেও পারছে না কেউ। আইডিবি ভবনের সার্ভিস সেন্টারের লোকটা জানতে চাইলেন, ‘ল্যাপটপের ওপর কিছু পড়েছে?’

আকিব নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারল না।

সার্ভিস সেন্টারের লোকটা মাথা নেড়ে বললেন, ‘নিশ্চয়ই তরল কিছু পড়েছে। মনে করে দেখো তো।’

আকিব বলল, ‘জানি না, পানিটানি হতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই।’

সার্ভিস ম্যান নিচু স্বরে বললেন, ‘পানি পড়লে তো ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। নিয়ম হলো পানি পড়লে ল্যাপটপ উপুড় করে ধরে রাখতে হয় কিছু সময়। তারপর শুকনা কাপড় দিয়ে সারফেসে থাকা পানি মুছে আবার উপুড় করে রাখতে হয় তোয়ালের ওপর। শর্টসার্কিট না হলে ল্যাপটপ কাজ করার কথা...।’

সার্ভিস ম্যানের লম্বা কথা শুনে আকিব মনে মনে খানিকটা বিরক্তই হলো। তারপরও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, ‘দেখুন না তারপরও, ঠিক করা যায় কি না।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ল্যাপটপটা ওদের কাছেই রেখে এল আকিব। বাসার বাকিরাও কিছু বলতে পারছে না, আসলে কী পড়েছে ল্যাপটপে। মা–বাবা আকিবের অবস্থা দেখে চিন্তিত। আকিব ভাবে, ল্যাপটপে পানি ছাড়া আর কী পড়তে পারে? ওর সব কাজ থেমে আছে। প্রতিদিন ক্লাসে অ্যাটেন্ড করা, ছোটখাটো কর্মশালা ও সেমিনারে অংশ নেওয়া। স্মার্টফোনে এসব হলেও ঠিক ল্যাপটপের মতো সুবিধাজনক মনে হয় না আকিবের কাছে। কম্পোজ করার কাজটাও তো ল্যাপটপ ছাড়া আরামসে হয় না। আবার কখনো কখনো আকিবকে হোস্ট হতে হয়। সেটাতেও ল্যাপটপ হলে খুব ভালো হয়।

বাইরে থেকে ফিরে ঘরে ঢুকতেই আকিব দেখল, ওদের বিড়াল, যার নাম ক্যাট, অপলক চেয়ে আছে। আকিবের মন খারাপ, তাই ক্যাটেরও মন খারাপ মনে হচ্ছে। এর আগেও ক্যাটকে আশপাশে ঘুরঘুর করতে দেখেছে আকিব। আজ একদম চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন অনেক দুঃখ ওর মনে; আকিবের দুঃখে ক্যাটও যেন দুঃখী। হবে না কেন, ক্যাট নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে আকিবের কী সংকট যাচ্ছে। তবে আকিব ল্যাপটপ ল্যাপটপ করে ক্যাটের কথা ভুলেই গিয়েছিল। তাই ও ক্যাটের দিকে তাকাল থির চোখে। দুই পক্ষের চোখ যেন মুহূর্তে একাকার হয়ে গেল। এভাবে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিল, তার ঠিক নেই। আকিবের চোখে ঘুম নেমে এল। আর ঠিক ওই তন্দ্রার মধ্যেই যেন ও বিড়ালের ভাষা বুঝতে শুরু করল। শুরু হলো ক্যাটের সঙ্গে ওর কথোপকথন!

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্যাট বলছে, ‘তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?’

‘তা তো হচ্ছেই। এ সময় ঠিকমতো কোথাও যেতেও পারছি না, ঘরবন্দী অবস্থা।’

‘ওরা তোমার ল্যাপটপটা ঠিক করতে পারছে না?’

‘ও, তুমি ল্যাপটপের কথা বলছ? ওরা সমস্যাটা ধরতে পারছে না। আমিও বলতে পারছি না, পানি না অন্য কিছু পড়েছে ল্যাপটপে।’

ক্যাট এবার মিটমিট করে হাসল মনে হয়। বলল, ‘খুব ভালো হয়েছে, এবার বোঝো কষ্ট।’

মিটমিট হাসি দেখে আকিব বলল, ‘কেন? তুমি এভাবে বলছ কেন?’

‘দেখলাম, তুমি ঘরে থাকার এই সময়গুলোতে শুধু ল্যাপটপ নিয়েই মেতে আছ। আমার কোনো খোঁজ রাখছ না। আদর করছ না। ল্যাপটপে তোমার কাজ যেন ২৪ ঘণ্টা।’

‘তাতে তোমার অসুবিধা কী? তোমাকে মা আদর করছে। কোলে নিচ্ছে। বাবা আদর করছে।’

‘ওরাও আমাকে সময় দিতে পারে না ঠিকমতো।’

‘তাই? তাতে কী?’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘তুমিও আমার সঙ্গে খেলাধুলা বন্ধ করে দিয়েছ।’ ক্যাটের কণ্ঠ আরও গম্ভীর হয়ে আসে।

‘আমি যে ব্যস্ত, সব কিছু এখন অনলাইনে করতে হয়।’

‘বুঝলাম। কিন্তু আমি তো একা একা বসে থাকি। তুমি কোলে নিচ্ছ না আমাকে। আমি তাই মন খারাপ করলাম। আমার রাগ হলো ল্যাপটপের ওপর। আর তাই আমি...।’

কথা কেড়ে নিয়ে আকিব বলল, ‘বলো, তাই তুমি কী করলে?’

‘আমি তাই ল্যাপটপে পি করে দিয়েছি।’

মুহূর্তে আকিবের তন্দ্রা কেটে গেল। ও ঠিক বুঝতে পারছে না। ঘুমের ঘোর থেকে কি ল্যাপটপ নষ্টের কারণটা জানা গেল? ক্যাট ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আকিবের দিকে।

ক্যাটের প্রচণ্ড রাগ হলো আকিবের। ওর কারণেই তো ল্যাপটপটার সর্বনাশ হয়েছে। কিন্তু ক্যাটের মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আকিব কিছুটা শান্ত হলো। বুঝতে পারল, ক্যাটকে দোষ দিয়ে কী লাভ! ল্যাপটপের চেয়ে তো ক্যাটই ওর বেশি প্রিয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গোল্লাবন্ধুরা, করোনার কারণে বাইরে বেরোনো বারণ, তাই গোল্লা ভাইয়ার কাছে চিঠি লিখে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাও। ই-মেইলের সাবজেক্টে ‘চিঠি’ লিখলে বুঝতে সুবিধা হবে। যেকোনো বিষয়ে লিখতে পারো, প্রশ্ন হতে পারে, ভাবনা হতে পারে। লেখা শেষে পাঠিয়ে দাও এই ঠিকানায়: gollachut@prothomalo.com
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন