default-image

অ্যালান কিম কোরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিনেতা। মিনারি সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে নাম ছড়িয়ে পড়েছে তার। হলিউডের বড় বড় পুরস্কার–অনুষ্ঠান, টক শোতে দেখা যাচ্ছে তাকে। কিছু সাক্ষাৎকারে সশরীরে হাজিরও হচ্ছে। আবার করোনার কারণে কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে অনলাইনে। কিন্তু যেখান থেকে যেভাবেই হোক না কেন, সাংবাদিক, উপস্থাপক, তারকা—সবার সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতে পারে ৮ বছরের এই অভিনেতা।

এমনিতে চটপটে, কিন্তু মিনারি সিনেমায় ভীষণ লাজুক একটা বাচ্চা ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছে অ্যালান কিম। সিনেমায় ওর নাম থাকে ডেভিড। সিনেমার গল্পটা অনেকটা এ রকম—মা–বাবা-বোনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের প্রত্যন্ত একটা অঞ্চলে থাকতে আসে ডেভিড। একসময় তাদের বাড়িতে প্রথমবারের মতো অতিথি হয়ে কোরিয়া থেকে উড়ে আসেন ডেভিডের নানি। ডেভিডের সঙ্গে ঘুমাতে দেওয়া হয় নানিকে। কিন্তু ছোট্ট অ্যালান নতুন অতিথির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না। নানির গায়ে নাকি অন্য রকম গন্ধ! নানিকে তার নানি নানি লাগে না! আর নানিও তাকে সময়ে-অসময়ে শুধু খ্যাপায়, গাল টিপে আদর করতে চায়, ওর সঙ্গে খেলতে চায়।

default-image

সিনেমায় দেখা যায়, অ্যালান কোমল পানীয়র খুব ভক্ত। তবে বাস্তব জীবনে অ্যালান আরও নানা কিছু করতে ভালোবাসে। অ্যালানের ভালো লাগে হ্যারি পটার পড়তে, চকলেট সিরাপ দিয়ে আইসক্রিম খেতে, টিভি দেখতে, ভিডিও গেমস নিয়ে পড়ে থাকতে আর নিজের পোষা কুকুরকে নিয়ে খেলতে। ক্লাস থ্রিতে পড়ে সে। গত বছরের মার্চ থেকে লকডাউনের কারণে বাড়ি থেকে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস করছে কিম। ও এক সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে বলছিল, ‘এটাই ভালো লাগছে। এভাবে ক্লাস করলে আরাম করা যায়।’

default-image

তবে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে আরাম না লাগলেও সারা দিন গণিত আর প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে পড়তে অ্যালান কিমের খুব ভালো লাগে। গণিত বিষয়টা এতই প্রিয় যে টাকাপয়সার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকা ওর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। নিজে নিজে ৫০ ডলার জমিয়েছে অ্যালান। এই টাকা সে কিন্তু পিগি ব্যাংকে জমায় না। জমায় নিজের মানিব্যাগে, সেটা সে ঢোকায় একটা প্লাস্টিক ব্যাগে। এরপর সেই প্লাস্টিক ব্যাগ পাসওয়ার্ড দিয়ে আটকানো যায়, এমন একটা বাক্সে রেখে দেয়। হিসাবি অ্যালান বড়দের মতো গম্ভীর গলায় বলে, ‘আমি সব সময় টাকাপয়সা জমিয়ে রাখি। বলা তো যায় না, কখন কোথায় কিছু লেগে যায়। কোনো পিগি ব্যাংকে জমাই না। ডাকাতেরা তো ব্যাংক দেখলে সবার আগে ওটা নিয়ে নেবে। তাই আমার একটা ভল্ট আছে, ওটায় রাখি। ওর পাসওয়ার্ড কেউ জানে না।’

অ্যালান কিমের এই টাকাপয়সার হিসাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। জানা গেছে, ল্যাচকি কিডস নামে আরেকটা হলিউড সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছে সে। জুন মাস থেকে শুটিং। এবার আর ছোট ভল্টে হবে না। ছোট্ট অ্যালানকে ওর ভল্ট বড় করতে হবে, বড় পাসওয়ার্ড দিতে হবে।

সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

বিজ্ঞাপন
গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন