বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নব্বইয়ের দশকের এক শীতকালের কথা। স্কুলের একটা দাপ্তরিক কাজে শহরে গিয়েছিলাম। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। রংপুর শহর থেকে মাহিগঞ্জ হয়ে বাইসাইকেলে করে আসছি। তখন তো এখনকার মতো পাকা রাস্তা ছিল না, কাঁচা আর এবড়োখেবড়ো রাস্তা, হাতে তিন ব্যাটারির টর্চ।

চারদিকে ঝোপঝাড়, বাঁশবাগানঘেরা সুনসান পরিবেশ, জনপ্রাণী পর্যন্ত নেই। কুয়াশার কারণে বেশি দূর দেখাও যায় না। তাই অনেক কষ্ট করে সাইকেল চালাচ্ছি। ঘণ্টাখানেক চালানোর পর হঠাৎ বুকের মাঝখানটা মোচর দিয়ে উঠল। মনে পড়ল, মাস তিনেক আগেও একদিন বুকের মাঝখানে এ রকম প্রচণ্ড ব্যথা করছিল। সেদিন অবশ্য অল্পতেই সেরে উঠেছিলাম। বয়সের কারণে কিংবা সাইকেল চালানোর ধকলে হয়তো বুকের ব্যথাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।

সাইকেল থামিয়ে এক হাতে বুক চেপে ধরলাম। আরেক হাতে সাইকেল ধরে বসার জন্য জায়গা খুঁজছি। ঘন কুয়াশার মধ্যে চারপাশে তাকিয়ে দেখি, কিছুক্ষণ আগে দেখা গাছপালাগুলো যেন উধাও হয়ে গেছে! ধু ধু কুয়াশাচ্ছন্ন প্রান্তর, রাস্তার দুদিকে শুধু আবাদি জমি। তার মানে বাড়ির প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি। কারণ, আমাদের গ্রাম থেকে তিন গ্রাম আগে ঠিক এ রকম ফাঁকা মাঠ আছে।

বুকের ব্যথাটাও যেন আরও বেড়ে গেল। অজ্ঞান হওয়ার আগে শুধু দেখতে পেলাম, প্রাণীটা আমার দিকে লক্ষ রেখে গাছ থেকে নেমে আসছে!

আরেকটু এগিয়ে দেখি, রাস্তার পাশে একটা পুরোনো বটগাছ। ভুতুড়ে বটগাছ যেমন হয়, ঠিক তেমনই। বুকে ব্যথা নিয়ে কোনোরকমে বটগাছের গোড়ায় গিয়ে বসলাম। ১০ মিনিট হয়েছে কি হয়নি, হঠাৎ ওপরে তাকিয়ে দেখি, একটা কালো কুচকুচে প্রাণী। বটগাছটির নিচের দিকের একটা ডালে বসে মানুষের মতো পা দোলাচ্ছে, আর একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! অন্ধকারে চোখ দুটি জ্বলছে বিড়ালের মতো! এমনিতেই বুকের ব্যথায় কাবু, তার ওপর এমন রাতবিরাতে গাছের ডালে কোনো প্রাণীকে বসে থাকতে দেখলে যে কেউই ভয় পাবে। আমারও আত্মারাম খাঁচা ছেড়ে যাওয়ার দশা। ঠান্ডায় কাঁপুনি দিয়ে গা

শিউরে উঠল আরেকবার।

বুকের ব্যথাটাও যেন আরও বেড়ে গেল। অজ্ঞান হওয়ার আগে শুধু দেখতে পেলাম, প্রাণীটা আমার দিকে লক্ষ রেখে গাছ থেকে নেমে আসছে!

পরে জানতে পেরেছিলাম, ওই গ্রামেরই ‘ইসহাক পাগলা’ বলে পরিচিত এক ছিটগ্রস্ত লোক চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। ইসহাক নামের লোকটিই সে রাতে বটগাছের ডালে বসে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন