বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বয়সে তরুণ হলেও স্ট্যান লি জানতেন, শুধু ক্ষমতা থাকলেই কেউ সুপারহিরো হয় না। দরকার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য। রাতের শুরুতে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া কথাগুলো ফিরে এল আবার। সুপারহিরো কী সাধারণ হতে পারে না? যে আমাদের মতোই একজন। যাকে নিজের পরিবার ও জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে হয়। মোটকথা, স্ট্যান লি নতুন চরিত্রটিকে দিতে চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবন।

এত দিন পর আমরা জানি, ওই রাতে সফল হয়েছিলেন স্ট্যান। পরবর্তী সময় কমিকসের পৃষ্ঠা এবং টেলিভিশন ও সিনেমার পর্দায় দেখা স্পাইডার–ম্যানকে সবাই আপন করে নিয়েছে। সবাই বুঝতে পেরেছে, মুখোশের আড়ালে থাকা কিশোর পিটার পার্কার অর্থাৎ স্পাইডার–ম্যান অন্য কোনো গ্রহের নয়, আমাদের আশপাশেই সে থাকে।

default-image

স্পাইডার–ম্যানের আইডিয়া মাথায় আসার পর স্ট্যান লি ছুটে যান প্রকাশকের কাছে। স্পাইডার–ম্যানের বৃত্তান্ত শুনে প্রকাশক জানিয়ে দেন, এর চেয়ে বাজে আইডিয়া তিনি জীবনে শোনেননি। অধিকাংশ মানুষই মাকড়সা ভয় পায়। আর নিজের জীবনেই যদি সমস্যা থাকে, তাহলে স্পাইডার–ম্যান সুপারহিরো হবে কী করে? স্ট্যান লি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। মন দিয়েছিলেন অন্য কাজে। কিন্তু স্পাইডার–ম্যান তাঁর মাথা থেকে যাচ্ছিল না। একটা সময় বিরক্ত হয়ে স্ট্যান লি বাতিল হতে চলা এক ম্যাগাজিনের শেষ সংস্করণে ছাপিয়ে দেন স্পাইডার–ম্যান কমিকস। আঁকাআঁকির কাজটা করেন স্ট্যানের কমিকস–আঁকিয়ে বন্ধু স্টিভ ডিটকো। ‘বাজে আইডিয়া’টি দূর করে দুজনই হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। তবে পাঠক তা লুফে নিল এবং ঠিক পরের মাসেই প্রকাশক ছুটে গেলেন স্ট্যান লির কাছে। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, তোমার মনে আছে ওই নতুন চরিত্রের কথা? যেটা আমরা বেশ পছন্দ করেছিলাম? ওটা নিয়ে একটা সিরিজ লিখে ফেলো তাহলে!

বিস্ময়ে হতবাক স্ট্যান লি মাথা নাড়লেন। তখনো জানতেন না, স্পাইডার–ম্যান পুরো দুনিয়া তোলপাড় করা এক সুপারহিরো হতে যাচ্ছে।

স্টিভ ডিটকোকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করলেন কাজ। বেরোতে শুরু করল একের পর এক স্পাইডার–ম্যানের পর্ব। সেগুলো প্রকাশিত হতে লাগল প্রকাশনা সংস্থা মার্ভেল কমিকস থেকে। স্পাইডার–ম্যানের সঙ্গে সঙ্গে মার্ভেল কমিকসও হয়ে উঠল তুমুল জনপ্রিয়।

স্ট্যান লির একটা বিশ্বাস তখন পাকাপোক্ত, ‘যদি কখনো নিজের কোনো আইডিয়াকে ভালোবাসো, বিশ্বাস করো সেটা ভালো, তাহলে কখনো কারও কথায় ওই আইডিয়া ছুড়ে ফেলো না।’ এই বিশ্বাসে ভর করেই স্ট্যান লিখে গেছেন স্পাইডার–ম্যান। সৃষ্টি করেছেন এক্স–মেন, আয়রন ম্যান, থর, হাল্ক, অ্যান্ট–ম্যান, ফ্যান্টাস্টিক ফোর, ব্ল্যাক উইডো ও ডক্টর স্ট্রেঞ্জের মতো জনপ্রিয় সব চরিত্র।

default-image

এই সুপারহিরোদের দিয়ে কমিকসের জগৎটাই বদলে দিয়েছেন স্ট্যান লি। তাঁর চরিত্রগুলো আমাদের আনন্দ দেয়, অনুপ্রেরণা জোগায়, কল্পনা করতে শেখায়। স্ট্যান লি প্রায়ই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন, ‘স্পাইডার–ম্যানই কেন সবার এত কাছের?’ স্ট্যান লি মুচকি হাসতেন, বলতেন, ‘স্পাইডার–ম্যানের পুরো শরীর ঢাকা। কেন জানেন? যাতে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ওই মুখোশের পেছনে নিজেকে কল্পনা করতে পারে। এই ব্যাপারটাই স্পাইডার–ম্যানকে অনন্য করে।’

আসলেই তা–ই। খেয়াল করে দেখো, আমরা অনেকেই নিজেকে স্পাইডার–ম্যান ভাবতে পছন্দ করি। কয়েক প্রজন্ম ধরে স্পাইডার–ম্যানের জনপ্রিয়তা দেখে গেছেন স্ট্যান লি। স্পাইডার–ম্যান: নো ওয়ে হোম–এর প্রশংসায় মানুষ পঞ্চমুখ। ৯৫ বছর বয়সে চিরবিদায় নিয়েছেন স্ট্যান লি। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই লাখো মানুষের সঙ্গে তিনিও আনন্দে ভাসতেন। ২৮ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন, সত্যিকারের সুপারহিরো!

গোল্লাছুট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন