default-image

মোটরসাইকেলে অক্সিজেনের সিলিন্ডার বাঁধা। চালকের আসনে শেখ সুহানা নামের একজন নারী। গন্তব্য রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন—এমন ফোনকল পেলেই অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যান সুহানা। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের এ কাজ করেন তিনি।

এপ্রিল মাসের শুরুর দিক থেকে সেবামূলক কাজটির উদ্যোগ নেন তিনি। সুহানা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ফেসবুকে দেখছিলাম, অনেক মানুষ অক্সিজেন পাচ্ছেন না। বেশ কয়েকজন আমার কাছেও ফোন করল। তখনই ঠিক করলাম, যতটা সম্ভব অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করব।’

এরপর নিজস্ব অর্থায়নে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে তিনি মাঠে নামলেন। কিছুদিন পর সুহানার বন্ধুবান্ধবও এ কাজে সহায়তা করতে এগিয়ে এলেন। নিজের ও বন্ধুদের অর্থায়নে তাঁর কাছে এখন ১২টি সিলিন্ডার রয়েছে।

সুহানা গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন রোগীর বাড়িতে ও হাসপাতালে অক্সিজেনের সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন। সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোনো টাকা নেন না তিনি। শুধু অক্সিজেন রিফিলের জন্য নির্ধারিত ১৪০ টাকা নেন। তবে রোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে সেটিও দিতে হয় না বলে জানালেন।

বিজ্ঞাপন

অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে করোনা রোগীর কাছাকাছি যেতে হয় বলে শুরুতে কিছুটা ভীত ছিলেন সুহানা। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে তাই পরিবার থেকেও বারণ ছিল। তবে সময়ের প্রয়োজনে ভীতি আর পরিবারের বারণকে উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সুহানা বলেন, ‘চোখের সামনে দেখছি, একজন রোগী কষ্ট পাচ্ছেন। তখন আসলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় থাকে না।’

বেশির ভাগ সময় একা মোটরসাইকেল চালিয়ে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে যান সুহানা। তবে দূরদূরান্তে কিংবা রাত বেশি হলে সুকর্মা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নেন। সুহানা জানালেন, ২০১৮ সালে জার্মানিপ্রবাসী বান্ধবী ফারহানা তাসনিমকে সঙ্গে নিয়ে সুকর্মা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। কিশোরীদের পিরিয়ডের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে সংগঠনটি। তবে করোনাকালে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজও করছে এ ফাউন্ডেশন।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফলে এখন প্রচুর অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। সুহানা আরও বেশি মানুষের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে চান।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন