বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরিবা সেই ছোটবেলা থেকেই ‘বাবাই’ ডাকে আমাকে। এই শব্দটা কেউ ওকে শিখিয়ে দেয়নি।

আমার আম্মা, অনেকক্ষণ দেখছিল আরিবা উদাস দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছে। কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রাখল। এই স্পর্শ যে দাদির, আরিবা পেছনে না তাকিয়েই বুঝতে পারে। আরিবা তখন বলল, ‘দাদিমা, বলো তো বাবাইকে কে বেশি ভালোবাসে—আমি না তুমি?’

‘তুই তোর বাবাইকে বেশি ভালোবাসিস, কিন্তু তোর বাবাই আমাকে বেশি ভালোবাসে!’ কথাটা বলে মিটিমিটি হাসতে লাগল আমার দুই মা।

অন্য সময় হলে আরিবা ঠিকই বলত, ‘তোমাকে যদি বেশি ভালোবাসে, তাহলে যাও ছেলের সঙ্গে সৌদি আরবে!’

আরিবার যত ঝগড়া সব দাদির সঙ্গে। তার ধারণা, বাবাই সত্যি সত্যি দাদিমাকে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু আজ ওসব বলতে ইচ্ছা করল না ওর। দাদিমার সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বললে আজ ঝগড়ার বদলে কাঁদবে। তাই চুপ করে দাদির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।

আমি তৈরি হব বলে গোসলে গেলাম। আরিবার মামণি রান্নাঘরে। বিদায়বেলায় দুজন দুঃখ লুকোনোর খেলায় ব্যস্ত—একজন আলু-পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে, আরেকজন গোসলখানায়।

প্রিয়জনকে কাছে রাখার কী আপ্রাণ চেষ্টা, প্রিয়জনকে ফেলে যাওয়া কী করুণ কষ্ট! প্রতিবার দেশ ছাড়ার সময় বাড়ির পরিবেশটা এমনই হয়।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন