default-image

তকদিরে যদি লেখা থাকে শাওকী চিত্রনির্মাতা হয়ে পর্দার গল্পে সবাইকে মুগ্ধ করবেন, তা তিনি অর্থনীতিতে পড়াশোনা করুন আর সৌদি আরবে শৈশব কাটান, তাতে কিছুই আসে-যায় না!

সৈয়দ আহমেদ শাওকী, এই নামের সঙ্গে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের দর্শক তো বটেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদেরও পরিচয় ঘটেছে। এই পরিচয়ের সূত্র তাকদির নামে ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তা। যদিও ওয়েব সিরিজটি নির্মাণের আগে তিনি ভেবেছিলেন, ফিকশনের দুনিয়ায় এটিই হয়তো তাঁর শেষ কাজ হতে চলেছে। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো, স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে চলেছেন এই তরুণ নির্মাতা।

অস্থির সময় স্বস্তির গল্প নামে একটি সিরিজে কথা হবে তো? স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখে প্রথম মুগ্ধ হয়েছিলাম, শাওকী নামের এই তরুণ তুর্কির আগমনে একটু স্বস্তি এনে দিয়েছিল। তারপর বেশ খানিকটা বিরতি, তারপর তাঁর গল্প আবার দেখা গেল চলচ্চিত্র ইতি, তোমারই ঢাকা চিয়ার্স–এ। তত দিন পর্যন্ত ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের লোকজনের সঙ্গে চেনাজানা তৈরি হয়েছে তাঁর। কিন্তু দর্শকের মন জয় করে পোক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের তাকদির ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জন্ম বাংলাদেশে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে শাওকীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে। সে সময় বাহরাইনের টিভি চ্যানেলে সপ্তাহে এক দিন সিনেমা দেখাত, সেটাই রেকর্ড করে পুরো সপ্তাহই একই সিনেমা বারবার দেখতেন শাওকী। সেই থেকে সিনেমার দুনিয়ায় চক্কর দেওয়ার ঝোঁকটা মাথায় ঢুকে যায় হয়তো। দাম্মামেই পড়াশোনা তাঁর। সেখানে এ লেভেল শেষ করে ২০০৮ সালে ঢাকায় ফিরে ভর্তি হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিষয় অর্থনীতি। সিনেমার ঝোঁকটা তাঁকে সংযুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ক্লাবের সঙ্গে।

আমার সঙ্গে শাওকীর প্রথম দেখা হয়েছিল সেই ক্লাবের কল্যাণে। ফিল্ম ক্লাব আয়োজিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের বিচারক হয়ে আমি গিয়েছিলাম সেবার, শাওকীও অংশ নিয়েছিলেন এই উৎসবে। তখন শাওকী তাঁর চাচাতো ভাই সালেহ সোবহান অনীমের সঙ্গে মিলে নির্মাতা তানিম নূরের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে পেশাদার অভিজ্ঞতার পাঠ সেখানেই।

২০১১ সালে স্নাতক হওয়ার পর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন শাওকী, পাশাপাশি তথ্যচিত্র ও বিজ্ঞাপনচিত্র বানাতেন। এরই মধ্যে ফিল্মনোয়র নামে একটি প্রোডাকশন হাউস প্রতিষ্ঠা করেন অনীম, সনেট এবং হাসনাইনের সঙ্গে মিলে। ২০১৭ সালে প্রজন্ম টকিজ নামের একটি শর্টফিল্মের কমিশন্ড ক্যাম্পেইনের স্ট্র্যাটেজি, বাস্তবায়ন থেকে নির্মাণ—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে পেশাদার নির্মাণের বাঁকবদল হিসেবে কাজ করে। প্রজন্ম টকিজ–এর সাফল্য ফিকশন নির্মাণের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। নির্মাতা অমিতাভ রেজা আর মেজবাউর রহমান সুমনের তত্ত্বাবধানে তরুণ নির্মাতাদের প্রথম নির্মাণের গল্প অস্থির সময় স্বস্তির গল্প শুরু হয়, সুমন নির্বাচন করেন শাওকীকে। সেই কথা হবে তো? দিয়ে দর্শকের মন জয় করা শুরু।

তাকদির ওয়েব সিরিজের সাফল্য শাওকীকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে, দর্শকের আকাঙ্ক্ষা ছাড়াও আরও নতুন বৈচিত্র্যের নির্মাণের ক্ষুধা বেড়ে গেছে নিজের মধ্যেই। বর্তমানে নতুন কয়েকটি চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন বিভিন্ন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য। শাওকীর এখন মূল লক্ষ্য একটাই, নির্মাণের নিজের ‘ভয়েস’, নিজের দর্শন, নিজের কথাগুলো আপন বৈশিষ্ট্যে দর্শকের মনের পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।

ছুটির দিনে এ বছরের তরুণ সংখ্যায় নির্বাচিত হওয়ায় নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকীকে অভিনন্দন।

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন