১. ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড

default-image

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজনিল্যান্ডের প্রথম থিম পার্কের অভাবনীয় সাফল্যের পর এর প্রতিষ্ঠাতা ওয়াল্ট ডিজনি ১৯৫৯ সালে দ্বিতীয় থিম পার্কের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৬৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এই কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছিল। পরে তাঁর ভাই রয় ও ডিজনি এ কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ফ্লোরিডায় নতুন থিম পার্কের নাম ডিজনি ওয়ার্ল্ড থেকে বদলে রাখেন ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড। মূলত ভাইয়ের স্মৃতি রক্ষার্থেই এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন রয়।

এই ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এবার বয়স হচ্ছে ৫০ বছর। ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর ফ্লোরিডায় এর উদ্বোধন হয়েছিল। এরপর থেকেই সেখানকার সব বয়সী মানুষদের আনন্দ বিলিয়ে যাচ্ছে এটি।

বিজ্ঞাপন

২. অ্যাপোলো ১৪ মিশন

default-image

এটি ছিল তৃতীয় মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান। এর মাধ্যমে চাঁদে বিস্তৃত অভিযান চালিয়েছিল নাসা। ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে অ্যাপোলো ১৪ যাত্রা করেছিল চাঁদে। এ অভিযানের ৫০ বছর হয়েছে ২০২১ সালে। ওই অভিযানে মহাকাশচারীরা চাঁদের পাথর ও মাটি সংগ্রহ করেছিলেন পর্যাপ্ত পরিমাণে, তোলা হয়েছিল অনেক ছবিও।

বলা হয়, অ্যাপোলো ১৪ মিশনের দলনেতা অ্যালান শেপার্ড নাকি চাঁদের বুকে গলফও খেলেছিলেন! সেই হিসাবে চাঁদের বুকে গলফ খেলারও ৫০ বছর হলো এ বছর।

৩. প্রথম ই-মেইল

default-image

ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি হলো ‘অ্যারপানেট’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। সেই প্রকল্পে কাজ করতেন রে টমলিনসন নামের একজন স্নাতক। সুনির্দিষ্ট কাজের ফাঁকে ইলেকট্রনিক উপায়ে চিঠি পাঠানোর একটি সফটওয়্যার নিয়েও মাথা খাটাচ্ছিলেন রে টমলিনসন। ওই সফটওয়্যার প্রোগ্রামের নাম ছিল ‘এসএনডিএমএসজি’। ১৯৭১ সালেই প্রথম ই-মেইল করা হয়েছিল। এবার প্রথম ই-মেইল করার ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। শুধু ই-মেইল নয়, রে টমলিনসন ই-মেইল ঠিকানার প্রতীক হিসেবে অ্যাট দ্য রেট (@) প্রতীকটি ব্যবহার করেন। টমলিনসন প্রথম পরীক্ষামূলক ই-মেইলটি নিজের কাছেই পাঠিয়েছিলেন। তাতে বার্তাটি ছিল QWERTYIOP।

বিজ্ঞাপন

৪. পকেট ক্যালকুলেটর

default-image

১৯৭১ সালে গণিতের শিক্ষার্থীরা হাঁপ ছেড়ে বেঁচে ছিল বললেও অত্যুক্তি হবে না। ওই বছরই যে আবিষ্কৃত হয়েছিল পকেট ক্যালকুলেটর। সেটির নাম ছিল ‘ক্যানন পকেট্রনিক’। এটি বানিয়েছিল টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস নামের একটি কোম্পানি। এর মাধ্যমে বোতাম টিপেই সাধারণ যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগের কাজ করে ফেলতে শুরু করে মানুষ। তবে শুরুর দিককার এই পকেট ক্যালকুলেটরের পর্দায় যোগ-বিয়োগ বা গুণ-ভাগের ফল ভেসে উঠত না, বরং ফলাফল থার্মাল কাগজে প্রিন্ট হতো। আধুনিক পকেট ক্যালকুলেটরের এই পূর্বসূরির জন্মের ৫০ বছর হচ্ছে ২০২১ সালে।

৫. ফ্লপি ডিস্ক

default-image

ই-মেইলের জন্মের বছরই কম্পিউটারজগতে আবির্ভূত হয়েছিল ফ্লপি ডিস্ক। ইন্টারনেট ও পেনড্রাইভের বহুল প্রচলনের আগে দ্রুত তথ্য বা ডেটা ধারণ ও আদান-প্রদানে অন্যতম ভরসা। যদিও এখন ফ্লপি ডিস্কের প্রচলন প্রায় নেই বললেই চলে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনসের (আইবিএম) তৈরি প্রথম ফ্লপি ডিস্কের তথ্য ধারণক্ষমতা ছিল মোটে ৮০ কিলোবাইট। ১৯৭১ সালে কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইবিএম প্রথম ফ্লপি ডিস্ক বাজারে আনে, যার নাম ছিল ‘মিনো’। বলা ভালো, ওই সময়ের হিসাবে ফ্লপি ডিস্কের উদ্ভাবন ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদান তুলনামূলক সহজ হয়ে এসেছিল। সর্বশেষ ফ্লপি ডিস্কের ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১ দশমিক ৪৪ মেগাবাইট। ফ্লপি ডিস্কের এবার বয়স হচ্ছে ৫০ বছর।

তথ্যসূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম, ডিজনি পার্কস ডট ডিজনি ডট গো ডটকম, নাসা ডট গভ, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ডটকম, মেন্টাল ফ্লস কম্পিউটার হিস্টোরি ডট অরগ

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন