ছাত্রজীবনে কেনা সাইকেলটি এখনো অধ্যাপক ইকবাল মতিনের সঙ্গী
ছাত্রজীবনে কেনা সাইকেলটি এখনো অধ্যাপক ইকবাল মতিনের সঙ্গী শহীদুল ইসলাম

একবার সাইকেলটা চুরি হয়ে গেল। সেটি আর পাওয়া যাচ্ছে না। ভীষণ কষ্ট হলো ইকবাল মতিনের। তিনি মনে করলেন, তাঁর সঙ্গীকে কেউ যেন কেড়ে নিয়ে গেছে।

এদিকে চোর গেল সাইকেলটা বিক্রি করতে। সাইকেলের দোকানের লোকটা বললেন, ‘সাইকেলটা চেনা চেনা মনে হচ্ছে রে। সত্যি করে বল তো, কোত্থেকে চুরি করেছিস? না বললে কিন্তু খবর আছে!’

চোর আমতা–আমতা করে জানাল, সাগরপাড়া থেকে।

‘আচ্ছা, তাই তো বলি চেনা লাগছে কেন। সাইকেল চুরি করার আর জায়গা পেলি না।’ দোকানদার আরও বললেন, ‘যা, যেখান থেকে এনেছিস, সেখানে গিয়ে ফেরত দিয়ে আয়।’ চোরের কী মনে হলো, সে সাইকেল রাতের আঁধারে রেখে এল।

সাইকেল ফেরত পেয়ে সে কী আনন্দ ইকবাল মতিনের। তিনি তাঁর বাইসাইকেলের শরীরে হাত রাখলেন। ইকবাল মতিন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

বিজ্ঞাপন

রুয়েট তখন ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ইকবাল মতিন ভর্তি হয়েছিলেন সেখানে। তখন কলেজে যাওয়া–আসার জন্য একটি বাইসাইকেল কেনেন। পাস করে সেখানেই প্রভাষক হিসেবে যোগ দিলেন ১৯৭৯ সালের ১০ জুলাই। ছাত্রজীবনের সঙ্গী বাইসাইকেলটি শিক্ষক–জীবনেও সঙ্গী হলো। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নাম বদলে হলো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) রাজশাহী। কিন্তু ইকবাল মতিনের সঙ্গী রইল সেই বাইসাইকেল। বিআইটি একসময় হলো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। তাঁর সঙ্গী হিসেবে থেকেই গেল ছাত্রজীবনে কেনা বাইসাইকেলটি।

বর্তমানে সাইকেলটির বয়স ৪৫। ইকবাল মতিনের ভাষায়, ‘সাইকেলটি আমার সুখ-দুঃখের সঙ্গী। যেখানে গেছি, সে-ই তো আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে। ওর প্রতি আমার অনেক দরদ। ও আমার নির্বাক সঙ্গী। শুধু রুয়েটে নয়, আমি সর্বত্রই সাইকেলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। অলিগলিতে খুব সহজেই ঘোরাফেরা করা যায়।’

ইকবাল মতিনের সঙ্গীর বড় ধরনের কোনো ‘অসুখ-বিসুখ’ হয়নি! অনেক সময় টুকটাক সমস্যা নিজেই সারিয়ে নিয়েছেন ইকবাল মতিন।

ইকবাল মতিনের স্থায়ী বসবাস রাজশাহী শহরের সাগরপাড়ায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বয়স হলো ৬৫ বছর। সবিনয়ে জানতে চাই, যাতায়াতের জন্য সাইকেল বেছে নিলেন কেন? তিনি একটু ভাবলেন, পেছন ফিরে গেলেন যেন। বললেন, ‘আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হই, তখন দেখতাম আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার সাইকেল চালিয়ে কলেজে আসতেন। তাঁর নাম ছিল অধ্যাপক মো. রইস উদ্দিন। আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষকও বাইসাইকেলে কলেজে আসতেন। আমি তাঁদের দেখে অনুপ্রাণিত হই।’

একটু থামলেন। তারপর, ‘সিম্পল লিভিং, হাই থিঙ্কিং আরকি,’ কথাটি বলেই তিনি হেসে উঠলেন।

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন