আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের হেভলক দ্বীপে লেখক
আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের হেভলক দ্বীপে লেখকসংগৃহীত

আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কীভাবে যাব, কোথায় থাকব, কোন কোন জায়গায় ঘুরব, এসব চূড়ান্ত করেছিলাম সপ্তাহখানেকের পরিকল্পনায়। আমার মতো আমার স্ত্রী যয়নব সৈয়দ আহমাদও স্বল্প খরচে রোমাঞ্চকর ভ্রমণে আগ্রহী মানুষ। তাই পরিকল্পনাটাও দুজনে মিলেই করা। ঢাকা থেকে আমরা বাসে যাব কলকাতায়। সেখান থেকে আন্দামানে পৌঁছাব উড়োজাহাজে। ফিরতি পথে কলকাতায় উড়োজাহাজে এসে, সেখান থেকে দেশে ফিরব ট্রেনে।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল রাতে সেই পরিকল্পিত পথেই রাজধানীর কমলাপুর থেকে যাত্রা শুরু করল আমাদের বহনকারী বাসটি। যশোরের বেনাপোলে পৌঁছালাম ভোরে। স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা যয়নবের ছিল না, তাই কিছু ধারণা দিয়ে রাখি তাঁকে। কিন্তু যা হওয়ার তা-ই হলো! ভ্রমণের শুরুতেই বেশ জটিলতা পোহাতে হলো। সেই জটিলতার ধকলে মন খারাপ হলো বটে, তবু নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে অল্পতেই তা উবে গেল।

default-image

আগে থেকেই কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে একটা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম। সেখানেই দুপুরে পৌঁছাই। হাতে সময় কম। তাই দেরি না করে, স্টেশনে গিয়ে দেশে ফেরার ট্রেনের টিকিটটা আগেভাগে কেটে ফেলি। এরপর হাতে পেলাম এক বিকেল। কলকাতায় অবশ্য মন্দ কাটেনি সময়টুকু। যয়নবকে নিয়ে রওনা হয়েছিলাম হাওড়া ব্রিজ দেখতে। যাওয়ার পথে হুগলি নদীর তীর ঘেঁষে রাস্তার পাশে ফেরিঘাটে ফেরি দেখেই আমরা নেমে পড়ি। ভালোই লাগল ফেরিভ্রমণ। একেবারে হাওড়া ব্রিজের কাছে নামিয়ে দিল। সেখান থেকে হাওড়া ব্রিজ ধরে কলকাতা শহর পর্যন্ত হেঁটে এসেছি, পথের পাশে খাবার খেয়েছি।

বিজ্ঞাপন

পোর্টব্লেয়ারে পা

৩০ এপ্রিল আমরা কলকাতা থেকে পোর্টব্লেয়ারে পৌঁছালাম নির্ধারিত সময়েই। উড়োজাহাজের জানালা থেকেই লক্ষ করেছিলাম নীল জলরাশি, সবুজে ঘেরা ছোট ছোট দ্বীপ আর সাদা বালুর নয়নাভিরাম দৃশ্য। পোর্টব্লেয়ার বিমানবন্দর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হলেও সেখানে বিশেষ নিয়মে ইমিগ্রেশন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে ‘সংরক্ষিত এলাকার অনুমতিপত্র’ দেওয়া হয়, যেখানে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জন্য নিয়মাবলি উল্লেখ্য করাসহ পর্যটনের বিস্তারিত তথ্য থাকে। এই অনুমতিপত্রের কাগজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বলা যায় আন্দামানের ‘পাসপোর্ট’, ‘ভিসা’ এটি!

default-image

থাক সেই বৃত্তান্ত। বরং আন্দামান-নিকোবরের রাজধানী পোর্টব্লেয়ারে কাটানো দুই দিনের কথা বলি।

পাহাড়ের সঙ্গে সাগরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়, এমন একটি হোটেলেই রুম বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। হোটেলে প্রবেশ করেই প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। তবে বেশিক্ষণ থাকা হলো না। শেষ বিকেলে দুপুরের খাবার খেতে বেরিয়ে পড়ি।

খাওয়াদাওয়া শেষে সন্ধ্যার সময়টুকু সৈকতে কাটিয়েছি।

আন্দামান ভ্রমণে আমাদের সত্যিকার গন্তব্য হেভলক দ্বীপ। হেভলক দ্বীপে যেতে হলে জাহাজের টিকিট নিতে হবে। কিন্তু বিপত্তি বাধল সেখানেই, আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ভারতীয় মুদ্রা নেই। কলকাতায় সময় পাইনি বলে ডলার বদলে ভারতীয় রুপি নেওয়া হয়নি। রাতটা অপেক্ষায় কাটিয়ে সকালে বের হই মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান খুঁজতে। কিন্তু বিধিবাম, মে দিবস থাকায় সবকিছু বন্ধ। ডলারের বিনিময়ে রুপি নেওয়া গেল না। সামান্য কিছু ভারতীয় মুদ্রা ছিল পকেটে, ঝুঁকি নিয়ে সেই শেষ সম্বল দিয়ে জাহাজের টিকিট কাটলাম।

টিকিট হাতে নিয়েই জাহাজে রওনা হলাম হেভলক দ্বীপের উদ্দেশে। আন্দামান সাগরের নীল জলরাশির বুক চিরে জাহাজ ছুটে চলল হেভলক পানে। আমাদের সঙ্গী হলো একদল পাখি আর কিছু খুদে ডলফিন!

default-image

হেভলকে দুই দিন

ঢাকায় থাকতেই পরিচিত দুজনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁরা হেভলকে আমাদের এক দিন পর আসবেন। মুঠোফোনে সংযোগ না থাকায় কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তাই পোর্টব্লেয়ারে থাকতেই মেসেঞ্জারে সম্ভাব্য ভ্রমণসঙ্গীদের জানিয়ে আসি, হেভলক দ্বীপে রওনা হওয়ার কথা, আমাদের কাছে ভারতীয় মুদ্রার সংকটের কথা। এ–ও বলে আসি, ‘তোমাদের অপেক্ষায় আমরা হেভলক জেটিতে থাকব’।

পোর্টব্লেয়ারের মতো হেভলকেও আমরা আগেভাগে হোটেল ঠিক করে রেখেছিলাম। পর্যাপ্ত ভারতীয় মুদ্রা না থাকায় সেই হোটেলে ওঠা হলো না। বাধ্য হয়ে অল্প টাকার মধ্যে হোটেল খুঁজতে লাগলাম। এর মধ্যে আবার পেটেও টান পড়েছে। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর এক হোটেল পেয়ে গেলাম। যয়নব হিন্দি ভাষাটা বেশ জানেন। এত দিনে তা কাজে দিল! আলাপের একপর্যায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের ভ্রমণের কাগজপত্র দেখতে চাইল। কাগজপত্র দেখে সাফ জানিয়ে দিল, তাদের হোটেলে বিদেশিদের রাখার অনুমতি নেই!

default-image

কী আর করা। জেটিতে বসে আমরা পোর্টব্লেয়ারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ঘণ্টাখানেক দুজন গল্প করলাম। পায়ের নিচে স্বচ্ছ পানিতে মাছগুলোও যেন গল্পে শরিক হয়েছে। হঠাৎ একটা জাহাজ চোখে পড়ল। আমরা খুব আনন্দ অনুভব করছিলাম। জাহাজটি জেটিতে থামল, সবাই নামল, কিন্তু হবু ভ্রমণসঙ্গীদের দেখা পেলাম না। একটু শঙ্কিতই হলাম, তাঁরা কি আন্দামানে রওনা হতে পেরেছেন? নাকি তাঁরা ভ্রমণ বাতিল করেছেন? নানা প্রশ্ন!

তখনই কে যেন বলল, আরেকটি জাহাজ আসবে। কথাটা শুনে আশান্বিত হলাম। সে জাহাজের অপেক্ষায় রইলাম আমরা। জাহাজ ঘণ্টাখানেক পরই ভিড়ল। যাত্রীদের ভিড় গলে চোখে পড়ল মামুন ভাই আর আহাদ ভাইকে। স্বস্তির নিশ্বাস শব্দটার যথার্থতা বুঝলাম যেন!

বিজ্ঞাপন

জলে কুমির, মনে ভয়

হেভলক দ্বীপে আজ আমাদের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। যয়নবের ইচ্ছা, আন্দামানের ম্যানগ্রোভ বনে কায়াকিং করবে। কায়াকিংয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য গাইড খোঁজ করলাম। তানাজ নামে এক নারী গাইডের সন্ধান পেলাম। কায়াকিংয়ের আগে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, বনের ভেতর কায়াকিংয়ে কী ধরনের ঝুঁকি আছে? তিনি জানালেন, ম্যানগ্রোভ বনে কুমির আছে, বছরখানেক আগে একটা দুর্ঘটনাও ঘটেছে, তাই যেতে হলে, কাগজে সই করে কুমিরের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের যেতে হবে! আমি এই ঝুঁকি নিতে দোনোমনা করছিলাম। কিন্তু যয়নবের জোরাজুরিতে ঝুঁকিটা নিতে হলো। তানাজের দেওয়া কাগজে সই করে আমরা রওনা হলাম। আমার মুখে তখন মিথ্যা হাসি। স্বাভাবিক চেহারা বজায় রেখে মনে মনে ভাবছিলাম কুমির আক্রমণ করলে কীভাবে বেঁচে ফেরা যায়। এসব চিন্তার মধ্যে তানাজ আমাদের একদম গভীর জঙ্গলে নিয়ে গেলেন। তখন আমার মনে শুধু ওপরওয়ালার নাম!

default-image

তবে জলের কুমির জলেই থাকল, আমরা নিরাপদে কায়াক নিয়ে ফিরলাম। এ সময় সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল আন্দামান ম্যানগ্রোভ বনটি সম্পর্কে তানাজের মুখে শোনা বিভিন্ন তথ্য।

আরও কিছুটা হেভলক

হেভলক দ্বীপে দুই দিন যেন মুহূর্তে ফুরিয়ে এল। এদিন রোজ সাদা বালুর তীরে বসে থেকেছি। নীল জলরাশি উপভোগ করেছি প্রাণভরে। কখনো কখনো সাগরে নেমে লাফালাফি করেছি। অটোরিকশায় এদিক-সেদিক ঘুরেছি, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। শুনেছি আন্দামানে এখনো একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায় আছে, যারা আদি কালের মানুষদের মতোই জীবনযাপন করে। খুব অবাক হয়েছি আন্দামানে প্রচুর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতীয়দের সঙ্গে পরিচিত হয়ে। তাদের অনেকেরই আদি বাড়ি খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বরিশাল অঞ্চলে। আমাদের পেয়ে বাংলাদেশে তাদের ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করলেন কয়েকজন।

দেখতে দেখতে দুই দিন চলে গেল। ভ্রমণসঙ্গীরা হেভলক দ্বীপে আরও এক দিন থাকবেন। আমি আর যয়নব পোর্টব্লেয়ারের উদ্দেশে রওনা হলাম।

default-image

যে করাতকল এশিয়ার সেরা

পোর্টব্লেয়ারে ফিরেই ঘুরতে বেরোলাম। হোটেলের পাশেই এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় করাতকল। প্রথম গন্তব্য সেটা। করাতকল তো নয়, যেন সেটা ঘিরে সেখানে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এই করাতকলের সঙ্গে রয়েছে জাদুঘর। ইতিহাস হাজির হয় জাদুঘরের স্মারকে। করাতকলের এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বাংকার আছে। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আন্দামান দখলে নেয় জাপানিরা।

default-image

ইতিহাসের পথে হেঁটে হোটেলে ফিরি। পরদিন দুপুরে আমাদের কলকাতার উদ্দেশে ফ্লাইট, সেই প্রস্তুতিও নিই। সে প্রস্তুতিতে থাকে সকালে উঠে সেলুলার জেলে ঘুরতে যাওয়া। সেলুলার জেল বা কালাপানি ভারতের একটি পুরোনো কারাগার। ১৯০৬ সালে এই কারাগার নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ব্রিটিশ বিরোধী অনেক আন্দোলনকারীকে এই কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এখন কারাগারের দালানটি জাতীয় স্মৃতিস্মারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেয়ালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম চোখে পড়ে।

হাতছাড়া ফ্লাইট

সকালে হোটেল থেকে বেরিয়ে সেলুলার জেলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার ঐতিহাসিক ছবিগুলো দেখছিলাম। জেলের কক্ষগুলো দেখছিলাম। বন্দীদের ওপর অমানুষিক বর্বর নির্যাতন করা হতো, তা দেখছিলাম। আমার কল্পনায় ভেসে উঠছিল সে সময়ের করুণ চিত্র।

default-image

এমন সময় ঘড়িতে সময় দেখে আঁতকে উঠলাম। আরে ফ্লাইটের সময় তো পেরিয়ে গেল! তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়লাম। ফ্লাইট ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ক্যালেন্ডারে কেন নোটিফিকেশন এল না? অটোরিকশা নিয়ে বিমানবন্দরে ছুট। পৌঁছে জানলাম, ফ্লাইট ছেড়ে গেছে। জীবনে প্রথম ফ্লাইট মিস, তা–ও আবার একটি সংরক্ষিত অঞ্চলে। মনটা ভেঙে পড়ল। মাথা ঠান্ডা রেখে খোঁজ করলাম ওই দিন কলকাতাগামী আর কোনো ফ্লাইট আছে কি না। জানলাম, নেই। একজন জানালেন, এক ঘণ্টার মধ্যে পরের দিনের টিকিট নিতে হবে। আমরা তাঁকে ডলার দিতে চাইলাম, কিন্তু তিনি রুপি ছাড়া নেবেন না। এমন একটা সময়, তখন ব্যাংক বন্ধ, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানও বন্ধ!

default-image

সন্ধান পেলাম এক ট্রাভেল এজেন্সির। তারা ডলারের বদলে রুপি দিল। তবে বিনিময় হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। বাধ্য হয়ে নিতে হলো। রুপি হাতে নিয়েই বিমানবন্দরে দৌড়। কাউন্টারে গিয়ে টিকিট নিশ্চিত করলাম। এক দিন আগে টিকিট কাটায় বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হলো। কিছু অর্থ বিশেষ প্রয়োজন হলে খরচ করব ভেবে রেখেছিলাম, তার পুরোটা চলে গেল। হাতে হাজার দু-এক রুপি তখন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আরেকটি রাত থাকতে হবে। খুঁজতে শুরু করলাম সুলভ হোটেল। হোটেলগুলোয় গিয়ে দর-কষাকষি করছি। সরাসরি বলে দিয়েছি, আমাদের কাছে টাকা নেই, ফ্লাইট মিস করেছি। অবশেষে একটি হোটেল রাজি হলো। আমাদের রুম থেকে বিমানবন্দরের প্রতিটি উড়োজাহাজের ওঠানামা দেখা যায়। হাঁটা দূরত্ব তিন কি চার মিনিট। হোটেলে ওয়াইফাই পেয়ে হেভলকে থাকা ভ্রমণসঙ্গীদের আমাদের অবস্থা জানালাম। কিন্তু তাঁরা তখন অফলাইনে, দেখতে পেল না। ভাবলাম, ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারলেও উপকার। তাঁদের জন্য চলে গেলাম পোর্টব্লেয়ার জেটিতে। যেখানে বিকেল পাঁচটায় তাঁদের জাহাজ ভেড়ার কথা। যয়নব ও আমি বিকেল ঠিক পাঁচটায় জেটিতে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। একে একে তিনটি জাহাজ এল, শত শত যাত্রী নামল, কিন্তু ভ্রমণসঙ্গী মামুন আর আহাদ ভাইয়ের দেখা পেলাম না। মন খারাপ করে হোটেলে ফিরে এলাম। রুমে বসে আমরা করণীয় চিন্তা করছিলাম। হঠাৎ দরজায় টোকা। দরজা খুলে দেখি তাঁরা দুজন। জাহাজ বিকেল পাঁচটার আগেই ভিড়েছে, তাই আমরা জেটিতে তাঁদের পাইনি।

default-image

কলকাতার কাহিনি

রাতে সবাই মিলে খাবার খেয়ে পরের দিনের পরিকল্পনা সেরে নিলাম। যেহেতু ফ্লাইট মিস করেছি, তার মানে কলকাতায় গিয়ে আমাদের আবার হোটেল ভাড়া করতে হবে, বাসের টিকিট কাটতে হবে। সকালে সবাই মিলে আমরা সেই সেলুলার জেলে আবার ঘুরতে গেলাম। এবার ভুল হলো না, নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছেছি। আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা উড়াল দিলাম কলকাতার উদ্দেশে।

কলকাতা পৌঁছে পড়লাম আরেক বিপদে, সারা কলকাতায় তখন বাংলাদেশি পর্যটকের আনাগোনা। হয়তো কোনো সরকারি ছুটি ছিল। হোটেলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দেশে ফেরা, তাই হোটেল বুকিং না দিয়ে আমরা বাসের টিকিট করতে কাউন্টারে আসি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাসে শেষ সারিতে দুটি সিট পাওয়া গেল।

তারপর হোটেল খোঁজা শুরু। কোথাও কোনো রুম নেই। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর স্টোর রুমের মতো একটা নোংরা রুম পেয়েছি উচ্চমূল্যে। খুব ভোরে বাস, হোটেল কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখি যেন ভোরবেলা হোটেলের মূল ফটক খুলে দেয়।

তবু সেরা ভ্রমণ

মনে হতে পারে, আহ, কতই না ভোগান্তি পোহাতে হলো। বিষয়টি তা নয়, পুরো ভ্রমণটি আমরা অনেক উপভোগ করেছি। বলা যায়, অনেক স্মরণীয় ভ্রমণের মধ্যে এটি অন্যতম। মুঠোফোন সংযোগ বন্ধ, ইন্টারনেট নেই, আর্থিক সংকট, ফ্লাইট মিস করা, অজানা ভোগান্তি গ্রহণ করে, তা সমাধান করা। জীবনে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে, তা কিন্তু নয়। সবকিছুর জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার আগে, আতঙ্কিত না হওয়া। সবকিছুর মধ্যেই ভ্রমণকে উপভোগ করা। আমরা যেখানেই গিয়েছি, স্থানীয়দের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি, কথা বলেছি, তাঁদের কাছে দ্বীপের নানা অজানা বিষয় জানার চেষ্টা করেছি।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন