default-image

নজরুল ইসলামের বয়স তখন ২০ বছর। সংসারের অভাব ঘোচাতে দিনমজুরি করেন। সারা দিন খেটে যা পান, তাতে কোনোভাবে চলে যায়। ঠিক সেই সময়ে তাঁদের গ্রামে খেলনা তৈরির কাজ শুরু করেন কয়েকজন। নজরুল ইসলামও মানুষের বাড়িতে কাজ করা ছেড়ে খেলনা তৈরি করা শিখতে শুরু করেন। একসময় কাজটিকে পেশা হিসেবে নেন।

এখনো নজরুল ইসলাম খেলনা তৈরি করেন, তাঁর বয়স এখন ৬৩ বছর। নজরুল ইসলামের তৈরি খেলনা টমটম বা টরটরি গাড়ি বিভিন্ন হাত ঘুরে পৌঁছে যায় সারা দেশে। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পোড়া মাটি, চাকতি, মোটা কাগজ, মাটির ছোট চাকা, বাঁশের কাঠি দিয়ে তৈরি করি টমটম গাড়ি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

নজরুল ইসলামের বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার খোলাশ গ্রামে। এটি খেলনার গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ষাটের দশকের দিকে খোলাশ গ্রামের মানুষের অভাব-অনটনে দিন কাটত। তেমন কাজ ছিল না মানুষের। সে সময় দিনমজুর কুরানু মোল্লা, আবুল হোসেন ও সুলতান ফকির কাজের জন্য গিয়েছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুরে। কাজে যোগ দিয়েছিলেন বিহারিদের খেলনার কারখানায়। সেখানে তাঁদের হাতেখড়ি হয় খেলনা তৈরির। খেলনা তৈরি শিখে ফিরে এলেন খোলাশ গ্রামে। তাঁদের হাত ধরেই ঘরে ঘরে খেলনা তৈরি শুরু হয়। এখনো সেই জৌলুশ খোলাশ গ্রামে। নজরুল ইসলাম তাঁদেরই একজন।

নজরুল ইসলামের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এক ছেলে মুক্তার আলী বাড়িতে খেলনা তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন।

নজরুল ইসলাম জানালেন, ষাটের দশকের শুরুর দিকে খোলাশ গ্রামের কারিগরদের হাত ধরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খেলনা। তাঁরা নিজেরাই দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে দেন শিশুদের খেলনা।

নজরুল বলছিলেন, ‘আমি নিজেই নোয়াখালীর চন্দ্রগঞ্জের মেলা ও শ্যামপুরের মেলা, ঢাকার দোহারের মেলা, সিলেটের শাহপরানের মেলা, চট্টগ্রামের লালদীঘির মেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাই। কিন্তু করোনার কারণে এখন তো সব মেলা বন্ধ। তাই অনিশ্চয়তায় পড়েছি আমরা।’

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন