বিজ্ঞাপন
default-image

কে জানে পরবর্তী জীবনে আমার কার্টুনিস্ট হওয়ার পেছনে বেগম পত্রিকার ওই আধা পাতার হয়তো একটা ভূমিকাও ছিল। সে যা–ই হোক, যা বলছিলাম...বেগম–এর ঈদসংখ্যা কিন্তু ওই সাইজে হতো না। ওটা হতো একটু ছোট। অনেকটা ক্রাউন সাইজের, কিন্তু বেশ মোটাসোটা। এখনকার ঈদসংখ্যা যেমন হয় আরকি। ওই পত্রিকা বাসায় কেন আসত? বলতে গর্ব বোধ করছি, আমার মা ওই পত্রিকায় প্রায় নিয়মিতই গল্প লিখতেন (মাকে অবশ্য গল্পকার বানিয়েছিলেন আমার বাবা)। তো ওই ঢাউস পত্রিকাটা ঘরে আসার পর আমরা ছোটরা বিশেষ করে আমি আর আমার ইমিডিয়েট বড় বোন শিখু (সে এখন সব ঈদ আনন্দের ঊর্ধ্বে চলে গেছে) ঝাঁপিয়ে পড়তাম। না, আম্মার গল্প পড়ার জন্য না, গল্প পড়ার ধৈর্য কই? যাদের লেখা ছাপা হতো, তাদের সবার একটা করে পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রথমেই ছাপা হতো। সেখানে আম্মার ছবিটা খুঁজে বের করা হচ্ছে আমাদের প্রথম মিশন। ছবি পাওয়ামাত্র চেঁচামেচি করে সেটা নিয়ে ছুটতাম মার কাছে।

- আম্মা আম্মা আপনার ছবি!

আম্মা হয়তো রান্নাবান্নায় ব্যস্ত। মাথা নাড়িয়ে বলতেন। ‘হ্যাঁ, পরে দেখব; রেখে দাও। ময়লা কোরো না।’ কিন্তু ময়লা না করে কি উপায় আছে। বাসার সবাইকে দেখিয়ে ছুটতাম পাড়ায়। পাড়ায় বন্ধুদের দেখাতে হবে না ঈদসংখ্যায় ছাপা হওয়া আমার আম্মার ছবি।

হ্যাঁ, এভাবেই যেন আমাদের ঈদের আনন্দটা শুরু হতো।

তারপর ‘সীমিত’ আকারে কেনাকাটা। ছোটদের এবং মেয়েদের অগ্রধিকারের ভিত্তিতে ঈদের জামাকাপড় কেনাকাটা। একবার এমন হয়েছে সবার কমবেশি কেনাকাটা হয়েছে, কিন্তু বড় ভাইয়ের জন্য কিছু কেনা হয়নি। সে ছোটবেলা থেকেই কিছুটা দার্শনিক টাইপের। ক্লাস এইটেই তার চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, দার্শনিক না হয়ে উপায় কি। বাবা খেয়াল করলেন, সে মুখ গোঁজ করে আছে, তবে কোনো দার্শনিক চিন্তায় নয়। তার জন্য কিছু কেনা হয়নি তখন পর্যন্ত। সেই চাঁদরাতেই বাবা তাকে নিয়ে আবার বেরোলেন।

এখনকার মতো তো আর তখন রেডিমেড শার্ট পাওয়া যেত না মফস্বল শহরে। শেষমেশ তার জন্য একটা শার্টের কাপড় কেনা হলো। এই শর্তে যে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ামাত্র পাড়ার দরজির প্রথম কাজ হবে কাজলের শার্ট বানিয়ে দেওয়া। সে এতেই মহা খুশি! সেই শার্টের কাপড় পতাকার মতো হাতে নিয়ে সেই রাতেই বের হয়ে গেল বন্ধুদের দেখাতে। তারও একটা শার্ট হয়েছে। আহা, কী সব দিন গেছে আমাদের।

কাজল বড় হয়ে লেখক (হুমায়ূন আহমেদ) হয়েছে। কোথাও এক জায়গায় লিখেছে। ‘স্মৃতি সে সুখেরই হোক আর বেদনারই হোক তা সব সময় বেদনার...।’

সত্যিই তা–ই, আমাদের শৈশবের সেই আনন্দের ঈদ এখন বেদনার...!

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন