চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নোবেলজয়ী পেনরোজের তিন দিন

১৯৮৬ সাল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে আন্তর্জাতিক এক সেমিনার আয়োজন করা হলো। সেমিনারের উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম। গণিত ও পদার্থবিদ্যার মিশ্রণে নতুন তত্ত্ব, তথ্য ও সমীকরণ নিয়ে জমজমাট এক আয়োজনে মেতে উঠল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তিন দিনের সেই সেমিনারে যোগ দিতে এলেন বিজ্ঞানজগতের শ্রেষ্ঠ কয়েকজন বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলবিজয়ী স্যার রজার পেনরোজ। শুধু পেনরোজ নন, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী পাকিস্তানি বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আবদুস সালাম, জাপানি বিজ্ঞানী হুজিহিরো আরাকি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী জে সি টেইলর এবং পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আবদুল কাদির। পণ্ডিতদের গবেষণা প্রবন্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নতুন স্বপ্ন দেখলেন, অনুপ্রাণিত হলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের পাশে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন অবস্থিত। সেই ভবনে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের তিন দিনই পেনরোজ সেমিনারে বক্তৃতা শোনেন। পেনরোজের একটি গবেষণা প্রবন্ধও সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়। সেটি নিয়ে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দিনভর পেনরোজ পাহাড়ে ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। রাত যাপন করেন নগরের আগ্রাবাদ হোটেলে।

সে সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক পেনরোজসহ কয়েকজন গবেষক আয়োজনের প্রথম দিন সেমিনার কক্ষে বসে ছিলেন। আমি পেছন থেকে ডায়েরি নিয়ে গেলাম। তাঁদের অটোগ্রাফ চাইলাম, তাঁরা সই করে দিলেন।’

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার রজার পেনরোজ ছিলেন জামাল নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পেনরোজ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের ইমেরিটাস রোজ বল অধ্যাপক। ১৯৩১ সালে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী একই সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াহেম কলেজের ইমেরিটাস ফেলো এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জনস কলেজের সম্মানিত ফেলো। ১৯৫৭ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তিনি এরই মধ্যে বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পেনরোজের চিঠি

default-image

প্রয়াত অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিদেশের বিভিন্ন নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করেছেন। একসময় দেশে এসে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে। এরপর সেখান থেকে দায়িত্ব নিলেন গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের। ২০০৬ সালে অধ্যাপক জামাল নজরুলকে ইমেরিটাস অধ্যাপক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিতে সে সময় সুপারিশ করেন স্যার রজার পেনরোজ।

ওই সময় গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. আবুল মনসুর চৌধুরী। তাঁকেও রজার পেনরোজ হাতে লেখা আরেকটি চিঠি দেন। অধ্যাপক এম আবুল মনসুর চৌধুরী চিঠির বিষয়ে বলছিলেন, ‘জামাল স্যারকে ইমেরিটাস অধ্যাপক করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলো। নিয়ম হচ্ছে, বিদেশের ৩ জন এবং দেশের ২ জন বিজ্ঞানী বা পণ্ডিতের সুপারিশ দিতে হবে। আমরা জামাল স্যারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কার নাম দেব। তিনি তখন পেনরোজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত এবং পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক জে সি টেইলর এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের ইমেরিটাস অধ্যাপক ফ্রিম্যান জে ডাইসনের নাম দিতে বললেন। তাঁরা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দিয়ে সুপারিশ করেন।’

মন্তব্য পড়ুন 0