বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের জুন মাসে তোলা ছবিটির গল্প বলি বরং। আমরা ১৫ কি ১৬ জনের একটি দল রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার এক বৌদ্ধমন্দির ভ্রমণে গিয়েছিলাম। কাপ্তাই হ্রদের ওপর মন্দিরটি। তখন ছিল পবিত্র রমজান মাস। মন্দির দেখা শেষ হয়েছিল দুপুরের পরপর। আমরা রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা দিলাম। বিকেলে বিলাইছড়ি বাজারের পাশে যাত্রাবিরতি দেওয়া হলো। নৌকায় আমরা সবাই বৌদ্ধধর্মের মানুষ হলেও মাঝি ছিলেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তিনি রোজা রেখেছিলেন। তাই ইফতারের আগে যাত্রাবিরতি দেওয়া হলো।

বিলাইছড়ি বাজারের ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে মাঝি নামাজ পড়তে শুরু করলেন। তখন আমি নৌকা থেকে নেমে লেকের পাশেই ক্যামেরা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমাদের দলের সঙ্গে থাকা একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু নৌকার ওপর বসেই ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তে শুরু করেছেন। এ দৃশ্য দেখে আমি একমুহূর্তও দেরি না করে ক্যামেরা নিয়ে নৌকার কাছাকাছি গেলাম। একটা ক্লিক করতেই মাঝির নামাজ আদায় শেষ হলো। বৌদ্ধ ভিক্ষু আর ওই মাঝি—কেউই বুঝতে পারেননি আমি ছবিটা তুলেছি।

default-image

প্রায় ২০ বছর ধরে আমি পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করছি। এত দিনে অনেক ভালো ছবি তোলার সৌভাগ্য হয়েছে। এত এত ছবির মধ্যে বাছাই করে ‘প্রার্থনার সময়’ শিরোনামের ছবিটি প্রথম আলোর প্রতিযোগিতায় জমা দেওয়ার পেছনে বিশেষ কারণ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ের সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় বিভেদের মতো বিষয়গুলো। এমন সময়ে ভ্রাতৃত্ববোধ আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বাস্তব দৃশ্যের এই ছবি নিশ্চয় আমাদের আশপাশের মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

আমার এ ছবিকে প্রথম আলো স্বীকৃতি জানিয়েছে বলে আমি ভীষণ খুশি। কাজের স্বীকৃতি পেলে কার না ভালো লাগে। পুরস্কৃত হয়ে মনে হচ্ছে, ভালো ছবি তোলার জন্য আলোকচিত্রীর দক্ষতার পাশাপাশি কিছুটা ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয়! আলোকচিত্রী হিসেবে আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতেই হয়। প্রথম আলোর মাধ্যমে ছবিটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। ছবির অন্তর্নিহিত ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা মানুষ অন্তরে ধারণ করতে পারলে আমার ছবি তোলা সার্থক হবে।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন