default-image

নাম যেমন ঠান্ডাছড়া, তেমনই চৈত্রের দাবদাহে পাওয়া গেল শীতলতার ছোঁয়া। আমরা ঠান্ডাছড়ায় যাই ৭ এপ্রিল দুপুরে। সঙ্গী বন্ধু অজিত বড়ুয়া, জয়তু চাকমা, চয়ন ত্রিপুরা ও কায়কোবাদ। খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হয়ে আমরা পৌঁছাই প্রতাপ চন্দ্র কারবারি পাড়ায়। সেখানে মোটরসাইকেল রেখে এবার পাহাড়ি ছড়া দিয়ে হাঁটা।

বন্ধু লিটন ত্রিপুরা জানালেন, এ পাহাড়ি ছড়ার নামই ঠান্ডাছড়া। ছড়ার নামেই সেখানকার ঝরনার নামকরণ। ঝরনায় এখন পানি নেই। কার্তিক মাসে ঝরনাটি শুকিয়ে যায়। তবে পাথুরে ছড়ায় অল্প অল্প পানি আছে। কথা বলতে বলতে মাত্র পাঁচ মিনিট হেঁটেই আমরা ঠান্ডাছড়া ঝরনায় পৌঁছে যাই। মূল ছড়া থেকে ডানপাশ দিয়ে প্রবেশ করতে হয় দুই পাহাড়ের মাঝখানে। জায়গাটা অনেকটা গুহার মতো।

বিজ্ঞাপন
default-image

চৈত্রের খরতাপ থেকে যখন দুই পাহাড়ের মাঝে প্রবেশ করি, তখন মনে হয় যেন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোনো কক্ষে ঢুকে পড়েছি। বিভিন্ন আকারের পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে আমরা এগিয়ে চলি। সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন জগৎ ত্রিপুরা, ভিক্টর ত্রিপুরা ও নজরুল ইসলাম। দুই পাহাড়ের মাঝে প্রবেশমুখেই ঝরনার অবস্থান, তবে এখন পানি নেই। মাঝখানে বিভিন্ন আকারের পাথরবেষ্টিত পথটি উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট আর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ ফুট। পাথরের ওপর দিয়ে হালকাভাবে পানি বেয়ে পড়ছে। জঙ্গলের লতাপাতা ভেদ করে দুই পাহাড়ের ভেতরে পড়া সূর্যের আলো অন্য রকম সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

এখানে চৈত্রের দাবদাহের কোনো বালাই নেই। হিমশীতলতার অন্য রকম এক পরিবেশ। পাহাড়ের মধ্যে বড় বড় পাথরে দেখা যায়, পাথর খোদাই করে অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনদের নাম লিখে রেখেছেন। প্রিয়জনকে তাঁরা যেন প্রকৃতির মতোই ভালোবাসেন। জগৎ ত্রিপুরা ও লিটন ত্রিপুরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঠান্ডাছড়া ঝরনার পূর্ণ রূপ দেখা যায়।

ঠান্ডাছড়ায় প্রকৃতির নির্জনতায় দুই ঘণ্টা কাটিয়ে আমরা যখন ফিরছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল পেছন থেকে প্রকৃতি যেন ডেকে বলছিল, ‘তোমাদের মন খারাপ হলে আবার চলে এসো আমার বুকে, নির্জনতায় কাটিয়ে মনকে হালকা করে ফিরে যেয়ো।’

default-image

কীভাবে যাবেন

ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল, গাবতলী, কমলাপুর থেকে বিভিন্ন বাস ছাড়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে। খাগড়াছড়ি পৌঁছে নেমে যাবেন শহরের শাপলা চত্বরে। এখান থেকে সিএনজি কিংবা ব্যাটারিচালিত টমটমে করে দীঘিনালা উপজেলা সড়ক দিয়ে চলে যান ধর্মঘর এলাকায়। প্রায় তিন কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরোতে হবে। এখান থেকেই হেঁটে ঠান্ডাছড়ায় পৌঁছে যাবেন। ধর্মঘরে স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করলেই ছড়ার পথ দেখিয়ে দেবেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকা থেকেও খাগড়াছড়ি চলে আসতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরে রয়েছে থাকা-খাওয়ার মোটামুটি ভালো ব্যবস্থা।

মনে রাখবেন

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় খাগড়াছড়ির সব পর্যটনকেন্দ্রেই এখন জেলা প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ঠান্ডাছড়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে বিস্তারিত জেনে নিন। আরেকটি কথা, আপনারা প্রকৃতির কাছে যান, প্রকৃতিতে সময় কাটান। তবে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। নোংরা আবর্জনা ঝরনা কিংবা গুহায় ফেলবেন না।

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন