default-image

বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে ঢাকা থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন আশিষ কুমার মোদক। বাজি জেতার পাশাপাশি তিনি আবিষ্কার করলেন, যেকোনো জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য বাহন হিসেবে সাইকেলই স্বাচ্ছন্দ্যময়। এরপর যেকোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য আশিষ বেছে নেন নিজের সাইকেলটি। সেই আগ্রহই আশিষকে দেশভ্রমণে অনুপ্রাণিত করে। গত ২৬ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলায় ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ করেন দুই চাকায় ৬৪ জেলা ভ্রমণ।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ভ্রমণ ও যাতায়াতের জন্য সাইকেল ছাড়া মাত্র দুইবার বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছেন তিনি। নিয়মিত কলেজে যাতায়াত, ছুটিতে ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি যাওয়া, এমনকি ঢাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া—সব সময় আশিষের সঙ্গী সাইকেল। ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেইজড মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পরীক্ষা দিয়েছেন আশিষ। গত বছর করোনা সংক্রমণের আগে পর্যন্ত সাইকেলে চেপেই ২২টি জেলা ঘুরে ফেলেন। এরপর মহামারির কারণে শুরু হয় তাঁর ঘরবন্দী জীবন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ২৫ নভেম্বর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফ (চূড়ান্ত পরীক্ষা) শেষ হয় আশিষের। এক দিন বিশ্রাম নিয়েই তিনি সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ২৩তম জেলা হিসেবে নীলফামারী ভ্রমণে। এরপর দুই মাসের মধ্যে ছুঁয়ে ফেলেন ৬৪ জেলার মাইলফলক। পুরো ভ্রমণে কিছু এলাকায় নদীপথ পাড়ি দিতে নৌকার সাহায্য নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া দুই পায়ে প্যাডেল মেরেই পুরো ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দীর্ঘ এই ভ্রমণে আশিষের সাইকেল একবারও বিকল হয়নি। আশিষের সঙ্গে ২৮ জানুয়ারি যখন মুঠোফোনে কথা হলো, তখন তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সাইকেলযোগে রওনা হয়েছেন।

আশিষ জানালেন, গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে ঘুরেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

default-image

প্রতিটি জেলায় পা রেখে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছেন আশিষ। এ ছাড়া তাঁর ভ্রমণের বিশেষত্ব হলো, প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ বা রক্তদানে উৎসাহ প্রদান, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ কিংবা করোনাকালে মানুষকে মাস্ক পরার তাগিদ জানানো। জেলায় জেলায় গিয়ে নিজেও বৃক্ষরোপণ করেন আশিষ। এখন পর্যন্ত ৫০–এর অধিক জেলায় প্রায় ২০০টি গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। স্কুল-কলেজের মাঠ কিংবা পরিত্যক্ত জায়গাগুলো গাছ লাগানোর জন্য বেছে নেন তিনি।

আশিষ বলেন, ‘এই ভ্রমণের সময় অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি যখন গাছ লাগিয়েছি, তখন স্থানীয় মানুষজন আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তাঁরাই আমার গাছের যত্ন নেবেন। স্থানীয় লোকেরাই আমার রাতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’ রাঙামাটি বাদে আর কোনো জেলায় হোটেলে থাকতে হয়নি বলে জানালেন আশিষ।

সাইকেলে চেপেই ময়মনসিংহে ফিরেছেন আশিষ। তাঁর ব্যাচের বন্ধুরা সবাই শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। তিনিও শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করবেন। ভবিষ্যৎ জীবনে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত থেকে মানুষের সেবা করতে চান আশিষ। আর পথচলার সঙ্গী হিসেবে সাইকেলকে পাশে রাখতে চান সব সময়।

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন